ঢাকা, সোমবার 11 June 2018, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কাজিপুরে পানিবদ্ধতায় সাড়ে ৫শ হেক্টর জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : অপরিকল্পিতভাবে রাস্তাঘাট নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কাজিপুরের ৫টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৫শ হেক্টর জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। বছর ১০ আগেও যেসমস্ত জমিতে রোপা আমন, ইরি বোরো মৌসুম সহ অন্যান্য ফসল মিলে তিন ফসলই আবাদ করা হতো এখন তা যেন শুধুই স্মৃতি। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ঐ জমিগুলোতে শুধু মাত্র ইরি বোরো ধান ছাড়া আর কোনো ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে খাদ্য উদ্বৃত্ত কাজিপুর উপজেলা খাদ্য ঘাটতি এলাকা হিসেবে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে চলতি ইরি বোরো মৌসুমে পানিবদ্ধতার কারণে এই সব এলাকায় শুধু মাত্র ইরি বোরো ধান ছাড়া অন্য কোনো আবাদ করা যাচ্ছে না। পানিবদ্ধতার কারণে সোনামুখী ইউনিয়নের পাইকপাড়া, পাঁচগাছি, রৌহাবাড়ি, ও স্থলবাড়ি, চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের শিমুলদাইড়, শ্যামপুর, বর্শীভাঙ্গা, মাথাইলচাপড়। গান্ধাইল ইউনিয়নের গান্ধাইল, বরইতলা, নয়াপাড়া, কালিকাপুর, মেরারপাড়া, খুকশিয়া, আলমপুর, দুবলাই, বাঐখোলা এইসব গ্রামে পানিবদ্ধতা স্থায়ীভাবে সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বানিয়াজান খাল অনেকটাই খরস্রোতা ছিল। কাজিপুরসহ উজানের সারিয়াকান্দি এলাকার পানি বানিয়াজান খাল হয়ে গান্ধাইল ইউনিয়নের পূর্ব পাশ দিয়ে রতনকান্দি ইউনিয়নের চিলগাছা ও কুড়ালিয়া গ্রামের মধ্যদিয়ে ইছামতি নদীতে গিয়ে পড়ত। 

অপর একটি পানির প্রবাহ গান্ধাইল গ্রামের সীমানা ঘেঁষে কালিকাপুর হয়ে ঐ নদীতে গিয়ে পড়ত। এখন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ নির্মাণ করার কারণে পানি প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। কাজিপুরের বাঐখোলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রশিদ জানান পানি প্রবাহের সবচেয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ২০০২ সালে বানিয়াজান খালের রতনকান্দি হাটের নিকট বন্যা নিয়ন্ত্রণের ওয়াপদা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ওই স্থানে বানিয়াজান খালের মুখ বন্ধ করে বাধ নির্মাণ হওয়ায় পানি প্রবাহ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় পরবর্তিতে প্রাকৃতিকভাবে গান্ধাইল ইউনিয়নের কাচিহারা হয়ে একই ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মধ্যে আরেকটি খালের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ এই খালের নিকট মিরারপাড়া নামক স্থানে সরকারি জমি দখল করে স্থানীয় প্রভাব শালী মহল বাড়ি নির্মাণ করায় এই পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কাজিপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, উপরোল্লিখিত স্থানসহ গান্ধাইল গ্রামের মাঝিপাড়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া খালের মুখ সংস্কার করা গেলে অত্র এলাকার পানিবদ্ধতা দূরীকরণ হবে এবং এসব জমি তিন ফসলই জমি বলে পরিণত হবে। যুবলীগ নেতা মো. সাইদুল ইসলাম জানান, এই পানিবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য মন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে এবং মন্ত্রী এ ব্যাপারে এ সমস্যাগুলো দূরীকরণে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ