ঢাকা, সোমবার 11 June 2018, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদাকে কারাগার থেকে মুক্ত করা হবে -মিনু

রাজশাহী অফিস : বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত অবৈধ ও ষড়যন্ত্রমূলক সাজা প্রদানের প্রতিবাদে এবং খালেদার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বিএনপি।
গতকাল সোমবার নগরীর মালোপাড়ার বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বোয়ালিয়া, রাজপাড়া, মতিহার ও শাহ্ মখ্দুম থানা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের  উদ্যোগে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত ও মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। অন্যদের মধ্যে মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুরর রহমান রিটন, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইল হিকল, জেলা যুবদলের সভাপতি মুজাদ্দেদ জামানী সুমন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সমাপ্ত, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন রিমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা মিনু  বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে জনগণ উজ্জীবিত হয়েছিল। তার অবর্তমানে বেগম জিয়া দেশের গণতন্ত্র পূনরুদ্ধার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন। অথচ বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার সেই এরশাদের সাথে আঁতাত করে বতর্মানে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। জনগণের সকল স্বাধীনতা হরণ করেছে। নির্বাচন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। সবখানে জোর করে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করছে। রাজশাহীতেও আগামী সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার দলীয় প্রার্থী অ-গণতান্ত্রিক আচরণ শুরু করেছে। অন্যদলের সকল পোস্টার লিফলেট, ফেস্টুন ও ব্যানার অপসারণ করে নিজের ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার টানানো শুরু করেছে। পাড়া মহল্লার সকল বাড়ির দেয়াল ও বাউন্ডারি দেয়ালে পোস্টার লাগিয়ে এবং শহরের প্রতিটি স্থানে অসংখ্য পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করেছে। এছাড়াও তার এই সকল পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারের কারণে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। সরকার দলীয় নেতারা কোন দুর্নীতি করলে কোন বিচার বা সাজা হয় না। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে এবং কোন প্রকার কোন সমস্যা হলে সে দায় সরকারকেই নিতে হবে। সেইসাথে ঈদ-উল-ফিতরের পরে সরকার পতন এবং বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারী দেন মিনু। সভাপতির বক্তব্যে মেয়র বুলবুল বলেন, দেশে বর্তমানে আইনশৃংখলা বলতে কিছু নাই। পুলিশের সামনে বিএনপি ও সিটি কর্পোরেশনের ব্যানার ফেস্টুন খুলে ফেলে দিয়ে দলীয় প্রার্থীর ব্যানার ফেস্টুন টাঙিয়েছে। আগামী সিটি নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকার নিল নক্সা আঁকছে। বেগম জিয়াকে বাহিরে রেখে নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। এছাড়াও বেগম জিয়া বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হলেও সরকার তাঁর চিকিৎসা নিয়ে গড়িমসি করছে। এছাড়াও তার জামিন নিয়ে টালবাহানা শুরু করেছে। দ্রুত বেগম জিয়ার সুচিকিৎসা এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। সেইসাথে ঈদের পরে হাসিনা সরকারের পতন এবং বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা  হবে বলে তিনি বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।
ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি
রাজশাহী  থেকে ঢাকাগামী বাসের ফিরতি টিকিট আগামী ১২ জুন ২৬ রমজান থেকে বিক্রি শুরু হবে। একইদিনে অনলাইনেও টিকিট পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বাস কর্তৃপক্ষ।
রাজশাহী মহানগরের শিরোইলে থাকা ঢাকা বাসস্ট্যান্ডের বাস কাউন্টারগুলোর পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তারা জানান, এখন তাদের রাজশাহী থেকে কোনো চাপ নেই। ঘরমুখো যাত্রীদের সব চাপ ঢাকা থেকে। যে কারণে রাজশাহী থেকে অনেক সময় ফাঁকা বাসও ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে দিতে হচ্ছে। তবে ঈদের পর রাজশাহী থেকে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের চাপ বাড়বে। তখনকার কথা মাথায় রেখে এবার তারাও ১২ জুন থেকে ঈদের আগাম ফিরতি টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু করবেন। সঙ্গে তাদের অনলাইন সার্ভিসও চালু থাকবে। এছাড়া রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলস, শ্যামলী পরিবহন, গ্রামীণ ট্রাভেলস, তুহিন ও একতা পরিবহন কর্তৃপক্ষও একই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে দেশ ট্রাভেলস শনিবার (৯ জুন) রাত থেকে অনলাইনে ঈদের আগাম ফিরতি টিকিট ছেড়েছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত তা চলবে।
ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি : ঈদের ফিরতি টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিনে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে দু’জন টিকিট কালোবাজারিকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। রোববার সকালে স্টেশনের ভেতরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুজনকে এ জেল-জরিমানা করা হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দু’জনের মধ্যে পবা উপজেলার কাপাশমূল এলাকার আবু হানিফের ছেলে কাওসার আলীকে (৩৮) ভোক্তা অধিকার আইনে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয় অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া রাজশাহী মহানগরের শিরোইল কলোনি এলাকার হাবিবুরের রহমানের ছেলে হাফিজুর রহমানকে (২৬) রেলওয়ে আইনে তিন হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাণ্ড দেয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালাত চলাকালেই কাওসার জরিমানার তিন হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরে তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে, জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করায় হাফিজুরকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ