ঢাকা, সোমবার 11 June 2018, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কক্সবাজারে সাগর তীরে ১৬ ট্রলার ডুবি ॥ এক জেলের মৃত্যু ॥ নিখোঁজ অর্ধশত

শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার : ভারি বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার বঙ্গোপসাগরের তীরে কমপক্ষে ১৬টি মাছ ধরার নৌযান জলমগ্ন হয়ে তলিয়ে গেছে। এসময় আব্দুস শুক্কুর (৪০) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। মৃত জেলে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের অছিউর রহমানের ছেলে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অর্ধশতাধিক জেলেসহ কমপক্ষে ১৬টি মাছধরার নৌযান নিখোঁজ রয়েছে বলে সূত্রের দাবী। এখন পর্যন্ত সাঁতার কেটে জীবিত ফিরেছে প্রায় ৩০ জেলে। রোববার ভোররাতে সৃষ্ট দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে এসব নৌযান ও জেলে নিখোঁজ হয় বলে জানান জেলা বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহামদ।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার শহরের ফজল কোম্পানি, আমিনুল ইসলাম মুকুল, শওকত ইসলাম, সদরের চৌফলদন্ডীর বাবুল কোম্পানি ও ফখরুদ্দিনসহ প্রত্যেকের ১টি করে মাছধরার নৌযান সাগরে তলিয়ে যায়। বাকি ১১টি নৌযানের মালিকের পরিচয় এখনো পাওয়া পায়নি।
নিখোঁজ নৌযানের মালিক আমিন জানান, তার মালিকানাধীন এফবি সেন্টমার্টিনে ১৭ জন জেলে ছিলো। তার মধ্যে ১২জন ফিরে এলেও ট্রলারসহ ৫জন নিখোঁজ রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, রোববার সকাল ১১টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন ১ জেলেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। মৃত জেলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাকী ১৩জেলেকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
 জেলেদের বরাত দিয়ে জেলা বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহামদ জানান, ভোরের দিকে বৃষ্টির সাথে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া সৃষ্টি হলে বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলের হিমছড়ি, কলাতলী, মহেশখালীতে ১৬টি বোট ডুবে যায়। এসব বোটের অধিকাংশ জেলে সাঁতরে কূলে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও এখনো অর্ধশতাধিক জেলে নিখোঁজ রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত সাগরে শতাধিক বোট অবস্থান করছে। এসব বোটের জেলেদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তাদেরকে কূলে ফিরে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 মোস্তাক আহামদ বলেন, নিখোঁজ জেলে বোটগুলোর পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আমরা তা জানার চেষ্টা করছি।
এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড কক্সবাজার স্টেশনের কন্টিজেন্ট কমান্ডার আকিরুল হাসান বলেন, মহেশখালী চ্যানেলের পশ্চিমে কবুতর চর নামক স্থানে দু’টি বোট ভেঙে যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। সেখানে চারজন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আর কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। বোট মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও আমাদেরকে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে বাঁকখালী মোহনায় বৈরি আবহাওয়ার কারণে যাত্রীবাহী দ্রুতগামী নৌ তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রোববার বিকেল ৩টার দিকে কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটের বাঁকখালী মোহনায় যাত্রীসহ নৌযানটি ডুবে যায়। তবে যাত্রীদের অক্ষত উদ্ধার করা হয়েছে।
 জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ৯ যাত্রী নিয়ে মহেশখালী ঘাট থেকে একটি স্পীডবোট কক্সবাজার যায়। কিন্তু বাঁকখালী মোহনায় গেলে প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বোট টি উল্টে গিয়ে ডুবে যায়। এতে চালকসহ সব যাত্রী সাগরে পড়ে যায়। তবে আশেপাশে থাকা অন্য বোট এসে তাদেরকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এতে কোনো হতাহত হয়নি।
এব্যাপারে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, আবহাওয়া এখনো দুর্যোগপূর্ণ থাকায় সব ধরণের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তা চলমান থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ