ঢাকা, সোমবার 11 June 2018, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঈদের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসা দাবি

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ঈদের আগে তাঁকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।
গতকাল রোববার ফাউন্ডেশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়া তিন বারের শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন, তিনি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান ও সবচেয়ে জননন্দিত নেত্রী। মিথ্যা, বানোয়াট মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে আজ তাঁকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং মানসিক নির্যাতনের কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এখন গুরুতর অসুস্থ। এতদিন ধরে বারবার বলার পরও তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না দিয়ে সরকার কি করতে চাইছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা শোনার পরও তাৎক্ষণিক সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ না করা কোনো গভীর চক্রান্ত কিনা এ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবনতি হচ্ছে, নানাভাবে রোগে আক্রান্ত, চোখ লাল হয়ে গেছে। তিন সপ্তাহ ধরে জ্বর ভুগছেন তিনি। দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না। তার বর্তমান অবস্থা আরও খারাপ। তিনি শুক্রবার প্রায় ৬ মিনিট অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন। তখন কি ঘটেছে তা তিনি কিছুই বলতে পারছেন না।
বিবৃতিতে খালেদা জিয়াকে ভয়ংকর অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রাখা হয়েছে মন্তব্য করে বলা হয়, দেশনেত্রীকে যে কক্ষে রাখা হয়েছে তা স্যাঁতস্যাঁতে, সারা ঘরে তোলাপোকা দৌড়াদৌড়ি করে। বাথরুম ব্যবহার উপযোগী নয়। এমন একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেগম খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়ার ব্লাড সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি ক্ষণিকের জন্য অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। কারাগারে দেখা করে চিকিৎসকরা বলেছেন, তিনি টিআইএ ( ট্রানজিন ইসমিকিক এ্যাটাক) করেছিলেন। গত ৫ জুন তিনি দুপুর বেলা হঠাৎ করে দাঁড়ানো অবস্থা থেকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন এবং ৫/৭ মিনিট আনকনসাস (জ্ঞ্যানহীণ) ছিলেন। উনি মনেই করতে পারছেন না কি ঘটেছিলো। তাকে তার এটেডেন্স যে মেয়েটি অনেক কষ্ট করে বসিয়েছে। উনি এখনও কথা যে বলেন একটু সাইল্ড স্পাড আছে। বাট সি ক্যান কমিউনিকেড। তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া না হলে তার শারীরিক মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার সুযোগ করে দেয়ার আহবান জানিয়ে বলেছে অন্যথায় এর দায়দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার ছাড়াও বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তাঁরা হলেন ডাঃ আহমেদ শফিকুল হায়দার পারভেজ, কাদের গণি চৌধুরী,অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, অধ্যাপক ডাঃ চৌধুরী মোঃ হায়দার আলী, ডাঃ হারুন-আল-রশিদ, ডাঃ শহিদ হাসান, কৃষিবিদ আনোয়ারুন নবী মজুমদার (বাবলা), অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুর রশীদ, প্রকৌশলী আফজাল হোসেন সবুজ, ডাঃ এ.কে.এম. মাসুদ আক্তার জিতু, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আকরাম উল্লাহ শিকদার, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সহিদুর রহমান, ডাঃ সাহাদাত হোসাইন, কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান (তুহিন), কৃষিবিদ ডা. একেএম নাজমুল হক (লিটু), অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোঃ মোজাম্মেল হক, অধ্যাপক ড. মোঃ মোস্তফা কামাল আকন্দ, এ.কে.এম. ওয়াহিদুজ্জামান এ্যাপোলো, ড. মোহাম্মদ আমির হোসাইন ভূইয়া, ড. আবুল হাসানাত মোঃ শামিম, প্রকৌশলী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, রাশীদ মাহমুদ, ড. শেখ মনির উদ্দিন, প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ ইকবাল, কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামিম প্রমুখ।
শত নাগরিক
স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের আগেই বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছে শত নাগরিক কমিটি। গতকাল রোববার বিকেলে গণ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছি, বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ব্যক্তিগত চিকিৎসকগণ তার সঙ্গে কারাগারে দেখা করে জানিয়েছেন, গত ৫ই জুন তিনি মাইন্ড স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে থাকবেন। সংবাদটি খুবই উদ্বেগজনক। বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে আমরা শংকিতবোধ করছি। আসন্ন ঈদের আগেই মানবিক কারনে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি। তিনি খুবই অসুস্থ হওয়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা আশু সুচিকিৎসা প্রয়োজন। আমরা আশা করি সরকার এ ব্যাপারে কাল বিলম্ব না করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বিবৃতি দাতারা হলেন, অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ, ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী,প্রফেসর আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, প্রফেসর মাহবুব উল্লাহ, প্রফেসর খন্দকার মুশতাহিদুর রহমান,আলমগীর মহিউদ্দিন,ডাঃ এম এ আজিজ, ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, প্রফেসর জেড এম তাহমিদা বেগম, ড. আক্তার হোসেন খান, ড. লুৎফর রহমান,আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ