ঢাকা, সোমবার 11 June 2018, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে পাহাড়ের ক্ষয়রোধে “বিন্নাঘাস” প্রকল্প উদ্বোধন করলেন থাইল্যান্ডের রাজকন্যা

থাইল্যান্ডের রাজকন্যা মাহাচাক্রী সিরিণধরণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিন্নাঘাস প্রকল্প পরিদর্শন করতে দেখা যাচ্ছে -সংগ্রাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো : বাংলাদেশ সরকার থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্র ও থাইল্যান্ড সরকারের রাজ পরিবারের সাইপাতানা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড় সমূহের ক্ষয়রোধ কল্পে বিন্না ঘাস প্রকল্প বাস্তাবায়ন করার লক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস, বাটালীহিল মিঠাপাহাড়ের পাদদেশে সম্প্রতি ভেটিভার গ্রাস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার “বিন্না ঘাস” প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়। থাইল্যান্ডের রাজকন্যা মহাচক্রী সিরিনধরণ বিন্না ঘাস রোপন ও বিন্নাঘাস প্রদর্শনী অবলোকন করে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র  আ জ ম নাছির উদ্দীন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এতে  বণ ও পরিবেশ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী এমপি,সাইপাতানা ফাউন্ডেশনের ডেপুটি সেক্রেটারী Mr. Lalit Thanomsing, বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত Miss Panpimon Suwannapongse বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ভেটিভার রিসোর্স একটিভিটি এবং ভেটিভার সেন্টার বাংলাদেশের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বিন্না ঘাস প্রকল্পের নানা দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে রাজকন্যা উপস্থিত হলে সিটি মেয়র তাঁকে ফুলের শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন এবং বাংলাদেশের জামদানী শাড়ী এবং হাতির প্রতিকৃতি উপহার দেন। রাজকন্যা মেয়র, মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের হাতে বিন্না ঘাস তুলে দেন। এতে স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র  আ জ ম নাছির উদ্দীন থাইল্যান্ডের রাজকন্যাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রবন একটি দেশ। জলবায়ুর প্রভাবের কারণে এদেশে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, অতিবৃষ্টি ও ভূমিধসসহ নানা দুর্যোগে প্রাণহানির পাশাপাশি বিপুল পরিমান সম্পদের ক্ষতি হয়। দেশের কৃতি সন্তান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম এর পাহাড়ের ক্ষয়রোধ কল্পে উদ্ভাবিত বিন্নাঘাস বা জাদুর ঘাস থাইল্যান্ডে সাফল্য আনার পর বাংলাদেশের চট্টগ্রামে সাইপাতানা ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ভেটিভার গ্রাস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার আজ স্থাপিত হলো। এখান থেকে গবেষণার মধ্য দিয়ে নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ে পরিবেশ ও বন বিভাগের সহযোগিতায় পাহাড়ের ক্ষয়রোধে বিন্নাঘাস প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আশা করেন, এ প্রকল্পটি আরো সম্প্রসারিত করা হবে। ভূমিধস ঠেকাতে বিন্নাঘাস প্রকল্প সুফল বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মেয়র। মেয়র আরো বলেন, মুষলধারে বৃষ্টির কারণে গত বছরের ১১ জুন নগরে ১২৮ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। এ ধরণের প্রাণহানি থেকে ভেটিভার গ্রাস প্রকল্প পাহাড়ের ধস রোধ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী সরকারের ভিশন বাস্তবায়নের নানাদিক তুলে ধরে বলেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় বিন্নাঘাস প্রকল্পে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সরকার গ্রিণ রিসার্চের আওতায় ভেটিভার গ্রাস প্রকল্পটিকে পাহাড় ধস রোধে একটি রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ঐকান্তিক ইচ্ছা রয়েছে। মন্ত্রী থাইল্যান্ডের রাজ পরিবারের সাইপাতানা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মিস পানপিমন সুয়ান্নাপংসে (Miss Panpimon Suwannapongse) ভেটিভার গ্রাস প্রকল্প ভেটিভার গ্রাস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়ায় মেয়রকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এই সেন্টারের মাধ্যমে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামকে গবেষণার সুযোগ দেয়ায় ধন্যবাদ দেন। রাজকন্যা মহাচক্রী সিরিনধরণ আজ সকালে রিজেন্ট এয়ারযোগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছলে সিটি মেয়র তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। দুপুরে রাজকন্যা ও তাঁর সফর সঙ্গীরা পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে মধ্যাহ্ন ভোজ সারেন। দুপুর দেড়টায় কোর্ট বিল্ডিং, রেলওয়ে হেডকোয়ার্টার ও আগ্রাবাদ জাদুঘর পরিদর্শন শেষে বিকেল ৫ টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ত্যাগ করেন। এসময় সরকারি, বেসরকারি প্রশাসন ও সংস্থার প্রধান,চসিক কাউন্সিলর,ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নানা শ্রেণি পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও থাইল্যান্ডের রাজকন্যার সফর সঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ