ঢাকা, সোমবার 11 June 2018, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৫ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আমতলী সাব-রেজিষ্ট্রারের অফিসের চিত্রটি এখন ভিন্ন রকম

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা : প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে, বিধি নিয়মের বাইরে গেলে এখন আর দলিল রেজিস্ট্রি হয়না। টাউট ও দালালদের অফিস ক্যাম্পাসে ঢোকা নিষেধ। জমি কেনা-বেচা করতে আসা মানুষদের ঠকানো দলিল লেখকেরা একেবারেই অফিসমুখো হতে চান না। অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য উৎকোচ ও বখশিস হারাম। পরিবর্তিত এরকমই পরিবেশে চলছে বরগুনার আমতলী উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়টি। গত ছয় মাস ধরে এরকম সুষ্ঠু ব্যবস্থা বজায় রাখতে গিয়ে সাবরেজিস্ট্রার মো. মাসুম স্থানীয় প্রভাবশালীদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু পিছ-পা হননি। জালিয়াতির অপরাধে দুই প্রতারককে ধরে পুলিশেও সোপর্দ করেছেন। প্রভাবশালী জালিয়াত দলিল লেখকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আমতলী উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে সাব রেজিস্ট্রারার হিসেবে যোগদান করেন মো. মাসুম। যোগদানের পর থেকেই দলিল রেজিস্ট্রি বিষয়ে সবকিছু খুটিয়ে দেখে রেজিস্ট্রি করা শুরু করেন তিনি। প্রয়োজনীয় কাগজ বা তথ্য না পেলে সে জমি তিনি রেজিস্ট্রি করা বন্ধ করে দেন। প্রতিটি রেজিস্ট্রেশনের আগে দাতা ও গ্রহীতার সাথে সরাসরি কথা বলার রীতি চালু করায় এ দপ্তরে দালালদের দৌরাত্ম শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে দালাল ও টাউট শ্রেণির প্রষ্ঠপোষক স্থানীয় প্রভাবশালীরা তার পিছু লাগেন।
অফিসের পেশকার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, যোগদানের পরই সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের ডেকে উৎকোচ ও বখশিস নেয়ার ব্যাপারে নিষেধ করে কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে সাবরেজিষ্ট্রারের অফিসে দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ  অফিসে আসতে ভয় পেত। দালালদের উৎপাত ছিল চোখে পড়ার মতো। দলিল করতে আসা সাধারণ মানুষ যে কোনো অভিযোগ দিতে সরাসরি সাবরেজিষ্টার মো. মাসুমের কাছে আসছেন। মানুষের সুবিধার্থে অফিসে খোলা হয়েছে সেবা সহায়তা। অফিসটি সুসজ্জিত করা হয়েছে।
আমতলীর অধিকাংশ দলিল লেখকই কাজ করে সন্তষ্ট। তারা জানান, হাতে গোনা কয়েকজন দুর্নীতি পরায়রন দলিল লেখক অফিসটি জিম্মি করে রেখেছিলেন। অফিসের প্রয়োজনীয় ফি গুলোও এরা জমা না করে পকেটস্থ করতো। সাধারণ দলিল লেখক ও দলিল করতে আসা মানুষগুলো হয়রানি হতেন। এখন এ অবস্থা আর নেই।
দলিল গৃহিতা মো. আব্দুর রব জানিয়েছেন, এখন ঝামেলা ও ঘোর-প্যাঁচ ছাড়াই দলিল রেজিস্ট্রি হচ্ছে। 
আলাপকালে উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারার মো. মাসুম জানিয়েছেন, দপ্তর প্রধানের সদিচ্ছা থাকলে যে কোন দপ্তরই ভালো ভাবে পরিচালনা করা যায়।  
আমতলী প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ নুহু উল আলম নবীন জানান, অনেক দিন পর এ দপ্তরটিতে একটি সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ ফিরে এসেছে। এখন গুরুপূর্ণ বিষয় হলো তা ধরে রাখা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ