ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 September 2018, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নাশকতার মামলা: খালেদার জামিন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।খবর ইউএনবির।

আদেশে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ও জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান, অ্যাডভোকেট মো. মাসুদ রানা প্রমুখ।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন প্রমুখ।

এর আগে কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আপিল আবেদনের ওপর গত ৭ জুন শুনানি হয়। শুনানিকালে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার জামিন আবেদনের শুনানি করতে বিচারিক আদালতের (খালেদা জিয়ার আবেদনের শুনানি বিচারিক আদালতে চলমান) প্রতি নির্দেশনা চেয়ে আবেদন জানায় এবং এ সংক্রান্ত গত ৬ জুনের হাইকোর্টের একটি রায় আদালতে উপস্থাপন করেন। কিন্তু সে রায়টি পড়তে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম  রবিবার পর্যন্ত সময় আবেদন করেন। এরপর আদালত সময় মঞ্জুর করে মামলার শুনানি মুলতবি রেখেছিলেন। সেই শুনানি নিয়ে আদালত আজ সোমবার আদেশ দেন।

২০ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে বাসে দুষ্কৃতিকারীদের ছোড়া পেট্রোল বোমার ঘটনায় ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করে। 

চলতি বছরের গত ২৮ মে কুমিল্লার একটি আদালতে গ্রেপ্তার দেখানো পূর্বক জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। সে আবেদন নামঞ্জুর করে আগামী ৮ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করেন বিচারিক আদালত। কিন্তু তার আগেই ওই আদেশের বিরুদ্ধে গত ৫ জুন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। 

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে ওই দিন বিকালে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন সেখানেই আছেন।

এদিকে ঢাকার মানহানির দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে ও জামিন চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) শুনানি নিয়ে আজ  চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের ওপর আগামী ২৫ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।  

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা।

মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের সিপি (লিভ টু আপিল) বিচারাধীন। এ কারণে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব করতে পারে। এ বিষয়টি আমরা আদালতের নজরে এনেছিলাম। চেম্বার আদালত তখন হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখার পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে খালেদা জিয়ার আবেদন নিষ্পত্তিরও আদেশ দিয়েছেন।    

প্রসঙ্গত, ‘বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের’ অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় গত ৩১ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন হাইকোর্ট।

আদেশে মামলা দুটিতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ও জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার আবেদন দ্রুত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আসামি কারাগারে আছে উল্লেখ করে গ্রেপ্তার দেখাতে ও জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার আবেদন নথিভুক্ত করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আদেশ দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট বড় ধরনের ভুল করেছে বলে হাইকোর্ট মন্তব্য করেন।

পরে হাইকোর্টের ওইসব মন্তব্য ও আদেশ স্থগিত চেয়ে আজ সোমবার লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। চেম্বার আদালত শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।

প্রসঙ্গত, ‘বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত’ করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট আদালত-৭ এ মানহানির মামলা করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। এ মামলায় ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়। এরপর গত ১২ এপ্রিল আইনজীবীরা এ মামলায় তার জামিন চান। গত ১৭ মে আদালত তৃতীয় দফায় সময় পিছিয়ে আদেশের জন্য আগামী ৫ জুলাই আদেশের জন্য দিন ধার্য্য করেছেন। এ অবস্থায় তার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

অপর দিকে ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের’ অভিযোগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২২ এ মামলাটি করেন। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর গত ২৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়া জামিন চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু জামিন না দিয়ে ১৭ মে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

পরবর্তীতে ওই তারিখে তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আদেশ দিয়ে ৫ জুলাই জামিন বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য্য করেন। এ অবস্থায় তার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ