ঢাকা, মঙ্গলবার 12 June 2018, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৬ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার মানহানির দুই মামলার হাইকোর্টের আদেশ বহাল

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার মানহানির দুই মামলায় গ্রেফতার দেখাতে ও জামিন চেয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর আগে গতকাল সোমবার ওই আদেশে বিচারিক আদালতে চলমান খালেদা জিয়ার আবেদন নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) শুনানি নিয়ে সোমবার চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের ওপর আগামী ২৫ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন। অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন এডভোকেট মাসুদ রানা।
পরে মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের সিপি (লিভ টু আপিল) বিচারাধীন। এ কারণে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব করতে পারে। এ বিষয়টি আমরা আদালতের নজরে এনেছিলাম। চেম্বার আদালত তখন হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখার পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে খালেদা জিয়ার আবেদন নিষ্পত্তিরও আদেশ দিয়েছেন।’
এর আগে বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় গত ৩১ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশে মামলা দুটিতে গ্রেফতার দেখিয়ে ও জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার আবেদন দ্রুত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আসামি কারাগারে আছে উল্লেখ করে গ্রেফতার দেখাতে ও জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার আবেদন নথিভুক্ত করে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের আদেশ দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট বড় ধরনের ভুল করেছে বলে হাইকোর্ট মন্তব্য করেন। পরে হাইকোর্টের ওইসব মন্তব্য ও আদেশ স্থগিত চেয়ে সোমবার (১১ জুন) লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। চেম্বার আদালত শুনানি নিয়ে হাইকোর্র্টের আদেশ বহাল রাখেন।
বিচারিক আদালতে চলমান মামলা দুটি হলো: মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৭-এ মানহানির মামলা করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২২-এ মামলাটি করেন।
কুমিল্লার মামলায় জামিন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ
কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আপিল আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদেশে গ্রেফতার দেখিয়ে ও জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার (১১ জুন) বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান, এডভোকেট মো. মাসুদ রানা প্রমুখ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন প্রমুখ।
এর আগে কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আপিল আবেদনের ওপর গত ৭ জুন শুনানি হয়। শুনানিকালে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার জামিন আবেদনের শুনানি করতে বিচারিক আদালতের (খালেদা জিয়ার আবেদনের শুনানি বিচারিক আদালতে চলমান) প্রতি নির্দেশনা চেয়ে আবেদন জানান এবং এ সংক্রান্ত গত ৬ জুনের হাইকোর্টের একটি রায় আদালতে উপস্থাপন করেন। কিন্তু সে রায়টি পড়তে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম  রবিবার (১০ জুন) পর্যন্ত সময় আবেদন করেন। এরপর আদালত সময় মঞ্জুর করে মামলার শুনানি মুলতবি রেখেছিলেন। সেই শুনানি নিয়ে আদালত গতকাল সোমবার আদেশ দেন।
জিয়া অরফানেজ মামলার
আপিল বিভাগের রায় প্রকাশ
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, ‘প্রকাশিত রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি (সার্টিফাইড কপি) পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
গত ১৬ মে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিলে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আপিল খারিজ করে দেয়া হয়। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির একটি আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।
এছাড়া নিম্ন আদালতের দেয়া পাঁচ বছরের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে যে আপিল করা হয়েছে, তা বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটিতে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদ- হয়। একই সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামীকে ১০ বছর করে কারাদ- দেওয়া হয়।
এই রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি এ আবেদন করা হয়।
এরপরে গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের দেয়া ওই জামিন স্থগিত চেয়ে পরদিন ১৩ মার্চ আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক।
এই দুই আবেদনের শুনানির জন্য আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ১৪ মার্চ দিন ধার্য করেন। এরপর ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে জামিনের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে) দায়ের করতে বলে ১৮ মার্চ পর্যন্ত চার মাসের জামিন স্থগিত করেন।
এ আদেশ অনুসারে পরের দিন ১৫ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক লিভ টু আপিল দায়ের করেন।
পরে ১৮ মার্চ শুনানি শেষে, আবেদনের ওপর আদেশের জন্য পরদিন ১৯ মার্চ দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। ওই দিন আদালত লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আপিল শুনানির জন্য ৮মে দিন ধার্য করেন। তারপর শুনানি শেষে ১৬ মে রায় দেন উচ্চ আদালত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ