ঢাকা, মঙ্গলবার 12 June 2018, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৬ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইউনাইটেডে নয়, রাজি হলে বিএসএমএমইউতেই নেয়া হবে খালেদা জিয়াকে -আইজি প্রিজন্স

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার দাবি জানালেও তা প্রত্যাখ্যান করে কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালেই (বিএসএমএমইউ) নেয়া হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার মধ্যে গতকাল সোমবার প্রথম কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিয়ে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।
৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার গত ৫ জুন কারাগারে হঠাৎ করে পড়ে যাওয়ার খবর প্রকাশ হলে বিএনপি তাদের নেত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার দাবি পুনরায় তোলে। গত শনিবার খালেদার ব্যক্তিগত চার চিকিৎসক কারাগারে তাকে দেখে এসেও একই সুপারিশ করেন। এর পরদিন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রোববারই বিএসএমএমইউতে নেয়া হবে বিএনপি চেয়ারপারসনকে। কিন্তু পরে আর নেয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল পরে সাংবাদিকদের বলেন, এই বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নেবে।
সৈয়দ ইফতেখার বলেন, “আমরা উনাকে আগামীকাল সকালে বিএসএমএমইউতে নিয়ে যাব। বিএসএমএমইউ তৈরি রাখতে বলেছি। তবে উনি যদি রাজি থাকেন। উনার রাজি হওয়ার একটা বিষয় আছে।”
বিএসএমএমইউতে খালেদার চিকিৎসার ‘যথাযথ’ ব্যবস্থা নেই বলে বিএনপি দাবি করলেও কারা বিধিতে বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান কারা মহাপরিদর্শক। কারা মহাপরিদর্শক বলেন, “জেল কোড অনুযায়ী সরকারি অর্থ খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নেই।” তবে সরকার চাইলে বেসরকারি হাসপাতালে কারও চিকিৎসায় অনুমোদন দিতে পারে বলে জানান তিনি। এক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয় কে বহন করবে, কীভাবে করবে, তার ফয়সালা করতে হবে বলে তিনি জানান।
বিএসএমএমইউ নিয়ে বিএনপির আপত্তির প্রেক্ষাপটে সৈয়দ ইফতেখার বলেন, “বিএসএমএমইউ চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী সর্বোচ্চ সরকারি প্রতিষ্ঠান। যদি সেখানে তার চিকিৎসার বিষয়ে কোনো সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকে, তাহলে বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার প্রশ্ন আসে।”
খালেদার ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হওয়ার যে ধারণার খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা দিয়েছিলেন, দৃশ্যত তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন কারা মহাপরিদর্শক। তিনি বলেন, “উনি পুরোপুরি অজ্ঞান হননি। কিছুটা ইমব্যালেন্সড হয়েছিলেন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাও করা হয়েছে।”
খালেদা জিয়া জিয়া ট্রাস্ট মামলাটিতে আপিল করে জামিন পেলেও অন্য মামলায় জামিন না হওয়ায় ঈদ তাকে কারাগারেই করতে হচ্ছে।
কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার জানান, ঈদের দিন বিশেষ খাবার পাবেন খালেদা জিয়া। এছাড়া তার স্বজনরা দেখা এবং বাড়ি থেকে খাবার নিয়েও আসতে পারবেন।
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর চার মাস ধরে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা। পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগারে একমাত্র বন্দী হিসেবে রয়েছেন তিনি। দেখভালের জন্য কারাগারে ব্যক্তিগত গৃহকর্মীও পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এর আগে আরেকবার অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক্সরে করানোর জন্য গত এপ্রিলে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়েছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ