ঢাকা, মঙ্গলবার 12 June 2018, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৬ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ট্রাম্প-কিম ঐতিহাসিক বৈঠক আজ

১১ জুন, রয়টার্স, পার্সটুডে : পরস্পরকে বহু হুমকি-ধামকি দেওয়া ট্রাম্প ও কিম আজ মঙ্গলবার ঐতিহাসিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে পৌঁছে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন।

কানাডায় অনুষ্ঠিত জি সেভেন বৈঠক থেকে অনেকটা তড়িঘড়ি করে ট্রাম্প সিঙ্গাপুরে এসেছেন। ট্রাম্প যেন অপেক্ষা করছেন কখন দেখা হবে কিমের সঙ্গে। পরস্পরকে অপমান, হুমকি-ধামকি ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর দু'জনের মধ্যে দেখা হচ্ছে। কেমন হবে এ বৈঠক, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে বিশ্বের বহু মানুষের মনে।

অনেকের প্রশ্ন, মার্কিন বিশিষ্টজনদের পক্ষ থেকে ভারসাম্যহীন খেতাব পাওয়া ট্রাম্প আবার উল্টাপাল্টা কিছু করে বসবেন নাতো? বৈঠকে বসার ঘোষণা দিয়ে তা বাতিল, পরে আবার একই তারিখে বৈঠকে বসার মতো ট্রাম্পের নাটকের কারণে এমন প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে অনেকের মনে। যাইহোক বৈঠক থেকে মানবতার জন্য কল্যাণকর কিছু বেরিয়ে আসুক সবাই তা প্রত্যাশা করছে। সিঙ্গাপুরের সান্তোসা দ্বীপে হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার নেতার আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই বৈঠক। এটাই হবে আমেরিকার কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন কোনো নেতার প্রথম বৈঠক। এই বৈঠকের মাধ্যমে কিম জং উন পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা থেকে সরে আসবেন বলে আশা করছে আমেরিকা। বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্তকরণ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে ট্রাম্প সত্যিই বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চান কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রশ্ন রয়েছে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি রক্ষার গ্যারান্টি নিয়ে। ইরানের সঙ্গে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা ইস্যুতে ট্রাম্প যে বেঈমানি করেছেন তা হয়তো মাথায় রেখেই আলোচনা করবেন উত্তর কোরিয়ার নেতাও।

২০১৫ সালে দীর্ঘ দিনের আলোচনা ও দর কষাকষির পর সই হয়েছিল পরমাণু সমঝোতা চুক্তি জেসিপিওএ। এই সমঝোতায় আমেরিকার পাশাপাশি সই করেছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়া।

সমঝোতায় দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি যখন একে একে বাস্তবায়ন করছিল ইরান ঠিক সে সময়ই পিছটান দেয় আমেরিকা। সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যায়। সৃষ্টি হয় মার্কিন বিশ্বাসঘাতকতার আরেকটি কালো অধ্যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পিয়ংইয়ং ‘নতুন একটি সম্পর্ক স্থাপন’ করতে পারে, এমন একটি সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ঐতিহাসিক বৈঠকের এক দিন আগে এমন মনোভাব জানালো উত্তর কোরিয়া।

বিবিসি বলছে, এই মন্তব্যে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উত্তর কোরিয়ার বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ করার পর সুর পাল্টানোর লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সাধারণত তাদের নেতার তৎপরতার খবর প্রকৃত সময়ে প্রকাশ করে না এবং এবারের বৈঠক সম্পর্কেও সরাসরি কিছু বলেনি। কিন্তু রোদং সিনমুন সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে কিম সিঙ্গাপুরে গিয়েছেন এটি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, “নতুন যুগের দাবি মেটাতে আমরা একটি নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলবো”।

এতে আরও বলা হয়, “ কোরীয় উপদ্বীপে একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং কোরীয় উপদ্বীপের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ইস্যুসহ যে সব সমস্যা সাধারণ উদ্বেগের বিষয় সেগুলোর সমাধানে খোলাখুলি গভীর মতামত বিনিময় করা যেতে পারে।

 “যদি অতীতে আমাদের সঙ্গে কোনো দেশের শত্রুতামূলক সম্পর্কও থেকে থাকে, তারা যদি আমাদের স্বায়ত্তশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, তাহলে সংলাপের ভিত্তিতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইব আমরা, এটাই আমাদের মনোভাব।”

পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ট্রাম্প-কিম বৈঠকের মূল ইস্যু হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করুক। কিন্তু উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ প্রতিরোধ করবে বলেই ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কিন্তু বিনিময়ে তারা কী চাইতে পারে তা পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।  স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় উভয় দেশের নেতাই সিঙ্গাপুরের পৌঁছেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাদের বহু প্রত্যাশিত এই বৈঠকের ব্যাপারে তার মধ্যে ‘শুভ অনুভূতি’ বিরাজ করছে।

সোমবার সকালে এক টুইটে তিনি জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরের ‘আবহে উত্তেজনা বিরাজ করছে’।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আশা, এই শীর্ষ বৈঠকের মধ্য দিয়ে একটি প্রক্রিয়া শুরু হবে যা শেষ পর্যন্ত কিমের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগে গিয়ে ঠেকবে। ট্রাম্প ও কিম সিঙ্গাপুরে পৃথক দুটি হোটেলে অবস্থান করছেন, তবে হোটেল দুটি পরস্পর থেকে খুব বেশি দূরে নয়। মঙ্গলবার তারা সিঙ্গাপুরের সানতোসা দ্বীপের আরেকটি হোটেলে বৈঠকে মিলিত হবেন। পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় এই দ্বীপটি সিঙ্গাপুরের মূল ভূখণ্ড থেকে কয়েকশ মিটার দূরে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ