ঢাকা, মঙ্গলবার 12 June 2018, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৬ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্মে ক্ষুব্ধ দিল্লী জামে মসজিদের ইমাম

১১ জুন, পার্স টুডে : ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্মে ক্ষুব্ধ দিল্লীর ঐতিহাসিক জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইই্যদ আহমদ বুখারী। গত (শনিবার) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজয় গোইল কেন্দ্রীয় সরকারের বিগত চার বছরের সাফল্য তুলে ধরে ‘সম্পর্ক ফর সমর্থন’ (সমর্থন পেতে সম্পর্ক তৈরি) কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাওলানা বুখারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিজয় গোইল বলেন, চাঁদনীচক থেকে দু’বারের এমপি ছিলাম, শাহী ইমামের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক আই। তাকে ‘সাফ নিয়ত, সঠিক উন্নয়ন’ পুস্তিকা উপহার দিতে এসেছিলাম।

এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা বুখারী বলেন, ওরা আমার এখানে এসেইন, ঠিক আই। কিন্তু দেশজুড়ে মুসলিমদের টার্গেট করা হচ্ছে, তার গালিগালাজ করা হচ্ছে, তাদের উপরে আক্রমণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, মুসলিমদের এক হাতে কুরআন এবং অন্য হাতে কম্পিউটার থাকবে, সবার সঙ্গে সকলের উন্নয়ন হবে। কিন্তু মুসলিমদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে, তাদের পাকিস্তানে পাঠানোর কথা বলা হচ্ছে এমনকি হারামজাদা পর্যন্ত বলা হইই নির্বাচনের আর এক বছর বাকি আই, যদি সরকার এসব অভিযোগ গুরুত্ব দিই দেখে, তাহলে ভালো কথা।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি নয়াদিল্লিতে ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের প্রেসিডেন্ট সিরাজুদ্দিন কুরেশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন।

এ প্রসঙ্গে নাকভির দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেবল ভারতেই নয়, গোটা বিশ্বে শান্তি, মানবিক মুল্যবোধের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হই উঠেইন। তিনি বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি, সহিষ্ণুতা ভারতের ডিএনএতে আই। যেকোনো দেশের তুলনায় ভারতের সংখ্যালঘুদের সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার সবচেই বেশি নিরাপদ।

নাকভি গতকাল (রোববার) এলাহাবাদ সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিকস্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর চেই বেশি বলে মন্তব্য করেইন।

নাকভি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে তার মন্ত্রণালইর বাজেট এক হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হইই, যা একটি রেকর্ড। তিনি এসময় সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের জামায়াতে ইসলামী হিন্দের সভাপতি মুহাম্মদ নূরুদ্দিন আজ (সোমবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘এনডিএ সরকারের চার বছর অতিক্রম করেই। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে কতটা উন্নয়ন এনেই তা নিই বিতর্ক শুরু হইই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা দাবি করইন, তারা দেশকে অনেক উন্নত করেইন এবং জনগণের আস্থা তাদের সঙ্গে আই। সেজন্য তাদের দাবি, আগামীতে আবার নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হবে। তাদের দাবি, সংখ্যালঘু ও পিছিইপড়া মানুষদের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিইই। সেজন্যই নাকি জওহরলাল নেহরু বা ভারতের যেকোনো প্রধানমন্ত্রীর চেই নরেন্দ্র মোদী জনপ্রিয়তায় শীর্ষে অবস্থান করই। কিন্তু বাস্তব রিপোর্ট অন্য কথা বলই। কেন্দ্রীয় সরকার কেবলমাত্র ধর্মীয় বিভাজন করে, ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিই রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করেই। দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সংখ্যালঘু উন্নয়ন, পিছিইপড়া মানুষদের এগিই নিই আসার চেষ্টা এমনকি রাজধর্ম, সকলের জন্য সমান সুযোগ দেয়াসহ সমস্ত নিরিখে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গঠিত কেন্দ্রীয় সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিইই। এই সরকারের আমলেই দাঙ্গাহাঙ্গামা বেশি হইই। অশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি হইই, হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতি হইই, সাম্প্রদায়িক বিভাজন বেড়েই, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামার ঘটনা বেড়েই, দাঙ্গা রোধ করার জন্য সরকারি তহবিলের খরচ বহুগুণ বেড়ে গেই। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামা রোধ করতে পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে মাঝেমধ্যে নামাতে হচ্ছে।’ রাজনৈতিকভাবে এসবের মোকাবিলা না করে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি দল সাম্প্রদায়িকতাকে উসকানি দিই গেই বলেও জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নূরুদ্দিন অভিযোগ করেন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ