ঢাকা, মঙ্গলবার 12 June 2018, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৬ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ ॥ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানিবদ্ধতা

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম মহানগরী ও আশেপাশের এলাকায় গতকাল সোমবারথ থেমে থেমে আবারও বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গত ২৪ ঘন্টায় সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে পতেংগা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
সূত্রের খবর, ফেনী ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমী স্থল নি¤œচাপটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে লঘুচাপ আকারে বর্তমানে বাংলাদেশের কুমিল্লা ও ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। মৌসুমী বাযু উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালণশীল মেঘমালার সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস (লাইটারিং) বন্ধ রয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে বহির্নোঙরে বড় জাহাজে আমদানি করা খোলা পণ্য লাইটার (ছোট) জাহাজে খালাস করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় লাইটারিং বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল হলে তবে লাইটারিং কাজ শুরু হবে।চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, বন্দরে জেটিতে অবস্থানরত জাহাজগুলোতে কনটেইনার লোড আনলোডের কাজ স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে ভারী বষর্ণে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট,বাকলিয়া,আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকা , চকবাজার, ২ নম্বর গেট, হালিশহরসহ প্রায় এলাকা রোববার দিবাগত মধ্যরাতে পানিতে তলিয়ে ছিল।সোমবার সকালেও পানি ছিল। বৃষ্টির চাপ আরও বেড়ে যাওয়ায় নগরীর নিম্নাঞ্চল হাঁটু থেকে কোমর সমান পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ঈদের বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের। বিভিন্ন স্থানে পানিবদ্ধতার কারণে তীব্র যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
এদিকে চট্টগ্রামে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে নগরীর বাকলিয়ায় ফাতেমা আক্তার মিম (৮) এক শিশু ও নিউমার্কেটের বিআরটিসি এলাকায় শহীদুল আলম (১৯) নামে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর শিকার শিশু ফাতেমা আকতার কুমিল্লার মুরাদনগরের শাহ আলমের মেয়ে এবং শহীদুল আলম বাঁশখালী উপজেলার কদমরসুল শেখপাড়ার মো. হোসেনের ছেলে। সে নগরের দেওয়ানহাট সিটি করপোরেশন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে দায়িত্বরত জেলা পুলিশের এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুতায়িত হয়ে নগরের বিআরটিসি এলাকায় এক কলেজ ছাত্র গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও বলেন, একই ভাবে বাকলিয়ার মরিচের মিল এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ঘরের দরজায় বিদ্যুতায়িত হয়ে এক শিশু গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ভারী বর্ষণে ভূমিধসের শঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা ৪৯০ পরিবারকে সরিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন । সোমবার সকাল থেকে নগরীর ৪ সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত ৯ পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।এ সময় অতি ঝুঁকিপূর্ণ ১৭০টি ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে সেখানে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয় প্রশাসন । ভূমিধসে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।এর আগে কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের কারণে রোববার পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা পরিবারগুলোকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে মাইকিং করে জেলা প্রশাসন। মাইকিংয়ের পর সোমবার সকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ৯ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
 সূত্রের খবর, অভিযানে আকবর শাহ, জালালাবাদ এবং খুলশী পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা ৪০টি পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে যাদের অন্যত্র যাওয়ার সুযোগ নেই তাদের স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। মাইকিংয়ের পর অনেক পরিবার নিজেরাই সরে গেছে। বাকলিয়া সার্কেলের মতিঝর্না এবং বাটালি হিল সংলগ্ন এলাকায় সোমবার সকাল ৯টা থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা ২৯০ পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ৮০টি ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।সোমবার মিয়ার পাহাড় এবং আমিন পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় দুই পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা ৮০টি পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ৫০টি ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। একে খান ও পোড়া কলোনি এলাকায় সোমবার অভিযান পরিচালনা করে দুই পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা ৭০টি পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ৪০টি ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়।চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, আগাম সতকর্তামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা ৪৯০ পরিবারকে আমরা সরিয়ে নিয়েছি। প্রাকৃতিক কারণে ভূমিধস হলে যাতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা যায়, এ জন্যই আমাদের এ ব্যবস্থা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ