ঢাকা, মঙ্গলবার 12 June 2018, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৬ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

৭৯ ইকোনোমিক জোনের সড়ক নির্মাণ করবে ‘সওজ’

# মহাসড়কের মূল ননেটওয়ার্কের আওতায় আসবে কয়েক’শ কি:মি
কামাল উদ্দিন সুমন : দেশের ৭৯টি ইকোনোমিক জোনের আওতাধীন সড়কগুলো নির্মাণ করে দিবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। পর্যায়ক্রমে এসব সংযোগ সড়ক নির্মাণ করবে সংস্থা। সড়কগুলো নির্মাণ হলে ইকোনেমিক জোন মূল সড়কের নেটওয়ার্কে আসবে। এতে করে দ্রুত পণ্য পরিবহনসহ যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরো কার্যকরভাবে এক ধাপ এগিয়ে যাবে। সওজের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এসব সংযোগ সড়ক নির্মাণে কারা অর্থায়ন করবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকারিগুলো বেজার মাধ্যমে ও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে কারিগরি সহায়তাসহ ডিপোজিট ওয়ার্ক হিসেবে এগুলো বাস্তবায়ন করা হতে পারে বলে মতামত দিয়েছে সওজ।
মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চে দেশের ৭৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল সওজ অধিদপ্তরের ‘রোড নেটওয়ার্কে’ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত ৭৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সব অর্থনৈতিক অঞ্চলে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য পৃথক একটি স্টাডি প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় সওজ। এর মাধ্যমে বিস্তারিত জরিপের মাধ্যমে সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা, সড়কের দৈর্ঘ্য, নির্মিতব্য সড়কের বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করে বছরভিত্তিক প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন করা হবে।
বর্তমানে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ করছে সওজ। এটিকে চার লেনে উন্নীত করে নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এ বিষয়ে পিআইসি সভা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে দাখিলের জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। পিআইসি সভা করে চারলেনে উন্নীতের প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে সম্মত হয়েছে সওজ অধিদপ্তর।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে একটি (মিরসরাই) অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংযোগ সড়ক নির্মাণ চলছে। আরো পাঁচটিতে নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এগুলোসহ দেশের সব অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সওজ কর্তৃক সবক’টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংযোগ সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও এসব সড়ক নির্মাণে অর্থায়ন কারা করবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে সরকারিগুলো বেজার মাধ্যমে ও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে কারিগরি সহায়তাসহ ডিপোজিট ওয়ার্ক হিসেবে এগুলো বাস্তবায়ন করা হতে পারে বলে মতামত দিয়েছে সওজ।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নেই। বিষয়টি নিয়ে মহাসড়ক বিভাগে অনুষ্ঠিত সভাতেও আলোচনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মহাসড়ক বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্য চাহিদা ছিল ৬ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে বরাদ্দ পায় ৪ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা। পরের দুই অর্থবছরেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বরাদ্দ পেয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এ বিভাগটি। আর চলতি অর্থবছরের জন্য ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পেয়েছে ২০ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগের নিজস্ব অর্থায়নে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সংযোগ সড়ক নির্মাণকে ‘দুরূহ’ বলে অভিহত করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, দেশের সব অর্থনৈতিক অঞ্চলে আমরা পর্যায়ক্রমে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দেব। বর্তমানে মিরসরাইয়ে একটির কাজ চলছে। আরো কয়েকটির ডিপিপি প্রস্তত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন যে হারে প্রয়োজন, সে হারে অর্থ বরাদ্দ প্রাপ্তিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের বিভাগের বাজেটের আওতায় বেজার প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে যাবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এসব প্রকল্পে ডিপিপি প্রণয়ন থেকে শুরু করে ডিপোজিট ওয়ার্ক হিসেবে বাস্তবায়ন কার্যক্রমে সওজ অধিদপ্তর সার্বিক সহযোগিতা দেবে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী হিসেবে বেজাকে বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে দেখানো হবে।
সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে নারায়ণগঞ্জের ‘মেঘনা ইকোনমিক জোনের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের আষাঢ়িয়ার চর থেকে ছয়হিস্যা গ্রাম পর্যন্ত ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং অন্যান্য ইকোনমিক জোনের সংযোগ সড়ক নির্মাণে অর্থায়ন’ সম্পর্কে এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য যানবাহনের ধরণ, পরিমাণ, প্রয়োজনীয় ভূমির চাহিদা/পরিমাণ, কতটুকু খাস, কতটুকু ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি নির্মিতব্য সড়কটির নকশাসহ প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সংগ্রহ করে ১ মাসের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়াধীন বেজায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল ছাড়াও আরো চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণের ডিপিপি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে পর্যালোচনা সভায়। এগুলো হলো সোনারগাঁ অর্থনৈতিক অঞ্চল, আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল, প্রস্তাবিত মাতারবাড়ী ও সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৮ মার্চ এক চিঠির মাধ্যমে মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেয় বেজা। বেজার প্রস্তাবে বলা হয়, মুখ্য সমন্বয়ক, এসডিজির সভাপতিত্বে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এক সভায় মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ ৫টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ