ঢাকা, মঙ্গলবার 12 June 2018, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৬ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মনোহরদীতে চোর সন্দেহে পিটানোর ৪ দিন পর যুবকের মৃত্যু

মনোহরদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা: নরসিংদীর মনোহরদীতে আব্দুর রহিম (৩০) নামের এক যুবককে চোর সন্দেহে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহত রহিম নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম নন্দিরচটি গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের ছেলে। গত রবিবার সকালে মনোহরদী থানার প্রধান ফটকের সামনে হাজী ভবনের তৃতীয় তলার ছাদের উপর এ নির্মম নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীরা জানায়, গত পহেলা জুন দুপুরে হাজী ভবনের নিচতলা থেকে এফএম মাহবুবুর রহমান কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের এক শিক্ষার্থীর বাই সাইকেল চুরি হয়। দুইদিন পর রবিবার সকালে মার্কেটের পিছনে কৃষি জমিতে কাজ করার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী গিয়ে আব্দুর রহিমকে ধরে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তৃতীয় তলার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে ভবনের পিলারের সাথে প্রথমে রহিমকে রশি দিয়ে বাঁধা হয়। পরে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মালিক মাহবুবুর রহমান, শিক্ষার্থী মাছুমসহ কয়েকজন মিলে লোহার রড দিয়ে রহিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারপিট করে।
তার আর্তনাদ শুনে মো. আমজাদ হোসেনসহ কয়েকজন পথচারী গিয়ে রহিমকে উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ঢাকা মেডিক্যালে দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় রহিমকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) একদিন থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে পলাতক রয়েছে। নিহতের খালাতো বোন সুফিয়া বেগম বলেন, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মাহবুবুর রহমান ও তার সহযোগীরা আমার ভাইকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেয়া হয়েছে। রহিম ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবার আজ অনিশ্চিত ভবিষ্যতে পড়েছে। যারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে আমরা তাদের বিচার চাই।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফখরুদ্দীন ভূঞা বলেন, নিহতের লাশ দূর্গাপুরের গ্রামের বাড়িতে নেয়ার খবর পেয়েছি। আমরা ঘটনাটি জানার পর দূর্গাপুর থানা পুলিশকে লাশ ময়নাতদন্তের অনুরোধ জানিয়েছি। এই ব্যাপারে নিহতের পরিবার থেকে থানায় অভিযোগ করলে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে। নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, লাশের ময়না তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য নিহতের বাড়ীতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ