ঢাকা, মঙ্গলবার 12 June 2018, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৬ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চালুর আট বছরেও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি খুলনার শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল

খুলনা অফিস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রসারিত ভবনের উদ্বোধন করেন গত ৩ মার্চ। কিন্তু উদ্বোধনের এতদিনেও ভবনটি এখনও হস্তান্তর হয়নি। সেই সাথে প্যাথলজি, অপারেশন থিয়েটার ও ইমেজিংসহ বিভিন্ন বিভাগে অন্তত ৪১ প্রকারের যন্ত্রপাতির চাহিদা আজও পূরণ হয়নি। হাসপাতালের নামের সাথে ইনষ্টিটিউট যুক্ত করে নতুন আঙ্গিকে রূপ দেয়ার প্রস্তাবটিও ঝুলে আছে মন্ত্রণালয়ে। দেশের একমাত্র বিশেষায়িত এমনকি বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতির অন্যতম একটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিত্র এটি। যেটির নাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল। চালুর সাড়ে আট বছরেও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি এ হাসপাতালটি। নগরীর গোয়ালখালীতে অবস্থিত এ হাসপাতালটি ২০১০ সালের ৩০ মার্চ থেকে চালু হয়। শুরুতে মাত্র দু’টি বিভাগের ৩০টি বেড নিয়ে চালু হয় হাসপাতালটি। দীর্ঘ সাড়ে আট বছর পার হলেও আড়াইশ’ বেড হয়নি। বর্তমানে ১০টি বিভাগে ১৬০ বেড নিয়ে চলছে এ হাসপাতালটি। নির্মাণাধীন ৫ম তলার হস্তান্তর ও জনবল নিয়োগই পূর্ণাঙ্গ চালুতে বাধা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগ-১ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেছেন, আগামী জুন মাস নাগাদ সম্প্রসারিত অংশের কাজ শেষ হয়ে হস্তান্তর হতে পারে।
আর হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র গোস্বামী বলেন, ৫ম তলার নির্মাণ কাজ শেষ করে হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা যাচ্ছে না হাসপাতালটি। সেই সাথে জনবল নিয়োগও অন্যতম বাধা বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেড়শ’ জনবল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আরও এক হাজার ৮৭ জনের জনবল তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানো হবে। সম্প্রসারিত ভবনের হস্তান্তর ও জনবল সংক্রান্ত এসব চাহিদা পূরণ হলেই আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু সম্ভব বলে তিনি জানান। সেই সাথে হাসপাতালের পাশাপাশি ইনস্টিটিউট করার যে প্রস্তাব ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছিল সেটিও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ঝুলে আছে। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি হাসপাতালে বসেই মন্ত্রণালয়ে কথা বলেন। কিন্তু আজও সে প্রস্তাবটিও বাস্তবায়ন হয়নি।
হাসপাতালের সাথে সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে অনুমোদিত পদের মধ্যে কনসালটেন্ট ও মেডিকেল অফিসার/সমমানের পদে সর্বমোট ৪৭টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি চীফ কনসালটেন্টের সব ক’টিই শূন্য রয়েছে। তেমনিভাবে ১২টি সিনিয়র কনসালটেন্টের মধ্যে নয়টি এবং ১৫টি জুনিয়র কনসালটেন্টের মধ্যে সাতটি পদ শূন্য রয়েছে।
এমআরআই ও সিটি স্ক্যানসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি বর্তমানে চলমান থাকলেও ডায়ালাইসিস মেশিনের সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই মাসের পর মাস সিরিয়াল দিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আউটসোর্সিং নিয়োগের ফলে তারা অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। যে কারণে হাসপাতালের টয়লেটসহ অন্যান্য স্থান প্রায়ই থাকে অপরিষ্কার। বিষয়টি নিয়ে সেখানে অবস্থানরত রোগী ও তাদের ভিজিটরদের পক্ষ থেকে প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায়। আবার সরকারের কাছ থেকে নেয়া বেতন ঠিকমত না দিয়ে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে এমন অভিযোগও করেন তারা। বিষয়টি নিয়ে অনেক সময়ই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। কেননা ওইসব কর্মচারীরা যেহেতু ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগকৃত সেহেতু তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চেয়ে ঠিকাদারের কথায়ই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এজন্য আউটসোর্সিং প্রথা তুলে দিয়ে সরাসরি নিয়োগেরও দাবি উঠেছে। এটি অবশ্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল খুলনা শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল। পর পর দু’টি আমল পার করলেও এ সরকারের আমলে এটি পূর্ণাঙ্গতা না পাওয়া শুধু এ অঞ্চলের প্রতি বৈষম্যই নয়, বরং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরও অন্তরায়।
দ্রুত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি জনবল নিয়োগ করে হাসপাতালটি বাংলাদেশের জন্য একটি মডেল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে এমনটিও প্রত্যাশা করেন এ উন্নয়নকর্মী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ