ঢাকা, মঙ্গলবার 12 June 2018, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৬ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভুয়া শ্রমিকের নামে অর্থ আত্মসাতের পাঁয়তারা

কামরুল ইসলাম, (পাবনা) থেকে: পাবনার সাাঁথিয়ায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রকল্পে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজে ব্যাপক অনিয়মর ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলছে ভুয়া শ্রমিকের নামে অর্থ আত্মসাতের পাঁয়তারা। এ উপজেলায় ১০ ইউনিয়নের ৫১টি প্রকল্পে ২ হাজার ৫৪৩ জন শ্রমিকের কাজের জন্য ২ কোটি ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ রয়েছে।
সরেজমিন প্রায় ২০টি প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ স্থানে শ্রমিকের উপস্থিতি উল্লেখিত তালিকার চেয়ে কম। কোন কোন প্রকল্পে দায়সারা গোছের নামকাওয়াস্তে কাজ করা হয়েছে।
শ্রমিকের উপস্থিতি কম সম্পর্কে মাটি কাটার সরদার ও শ্রমিকরা জানান অনুপস্থিত শ্রমিকরা কোনদিনও কাজে আসেনা। অনুপস্থিত শ্রমিকের  সংখ্যা প্রকল্পের আয়তন অনুসারে ৫,১০,১৫ জন করে কম। তাদের ভাষায় এরা ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও প্রকল্প চেয়ারম্যানের শার্ট-প্যান্ট পড়া শ্রমিক। অনুপস্থিত থাকলেও এদের নামে যথারীতি  বিলও হবে টাকাও তুলবে। সরেজমিন গিয়ে  কোনও দিনও কোন প্রকল্প চেয়ারম্যানকে প্রকল্প স্থলে উপস্থিত  পাওয়া যায়নি। কোন কোন প্রকল্পের শ্রমিকরা জানান, প্রকল্প কাজে তালিকাভূক্ত হতে মেম্বারদের ১ থেকে ২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। যারা টাকা দিতে পারেনি, বিল হওয়ার পর টাকা পরিশোধ করার শর্তে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। কর্মসৃজন কাজে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে আতাইকুলা, করমজা ও কাশিনাথপুর ইউনিয়নের তিনটি প্রকল্পে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে, আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর প্রকল্প- তেলকুপি পুলিশ ফাঁড়ি হতে মোক্তারের বাড়ি ভায়া স্লুইসগেট পর্যন্ত রাস্তা মেরামত কাজে। এখানে মাটি ভরাট কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। করমজা ইউনিয়নের ২৪ নম্বর প্রকল্প-বায়া দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠ হতে মঙ্গলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম সীমা পর্যন্ত রাস্তা ও বায়া মোল্লা বাড়ির রাস্তা মেরামত কাজে।
সরেজমিন দেখা যায় মঙ্গলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় অংশে তেমন কাজ হয়নি। মোল্লাবাড়ি অংশে অর্ধেক কাজ হয়েছে। সেখানে ১৫দিন যাবত কোন কাজই হয় না বলে জানান ওই এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা।
কাশিনাথপুর ইউনিয়নের ৩০ নম্বর প্রকল্প, চরপাড়া হাশেমের বাড়ি হতে চামার ডাঙ্গী রাস্তা পর্যন্ত এবং শহীদ নগর ফরহাদ মাস্টারের বাড়ি হতে ডাব বাগান হাইওয়ে রাস্তা পর্যন্ত সংষ্কার। ২৮ মে বেলা ১২ টার দিকে ওই প্রকল্পে গিয়ে কোন শ্রমিক পাওয়া যায় নি। দেখা গেল, ঐ এলাকার একটি গ্রামীণ পাকা রাস্তার ক্ষয়ে যাওয়া অংশে কিছু শ্রমিক বালি ফেলছে। জিজ্ঞাসাবাদে  জানা গেল, তারা ঐ প্রকল্পের শ্রমিক তবে পিআইসির নির্দেশ অনুসারে এখানে বালি ফেলছে।
এসব বিষয় জানতে চাইলে, সাঁথিয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কিছু কিছু প্রকল্পে ভাল কাজ হয়নি। আর চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং পিআইসি কর্তৃক প্রতিটি প্রকল্পে  ৫,১০,১৫ জন করে বেশী শ্রমিক দেয়া থাকলেও এই সকল ভূয়া শ্রমিকদের বিল দেয়া হবে না।
এখানে উল্লেখ্য, প্রকল্পের শ্রমিকদের তালিকাটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও পিআইও অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কতৃক অনুমোদিত।
 এ ব্যাপারে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, সরেজমিন প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে আমি নিজেও অনুমোদিত তালিকার চেয়ে কম শ্রমিক উপস্থিত পেয়েছি। যে সকল শ্রমিককে প্রকল্প কাজে উপস্থিত পাওয়া গেছে কেবল তাদেরই বিল দেওয়া হবে। আর শ্রমিকের তালিকা করার সময় যদি কোন মেম্বার টাকা নিয়ে থাকে বা শর্ত দিয়ে তালিকা করে থাকে এ রকম কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযুক্ত প্রকল্পগুলোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ