ঢাকা, বুধবার 13 June 2018, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দুই ফ্রন্টে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয় ভারত

১২ জুন, এশিয়ান মনিটর : ভারতের স্বল্প প্রতিরক্ষা বাজেটের কথা উল্লেখ করে একটি সংসদীয় কমিটি বলেছে যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপটে দেশটি দুই ফ্রন্টে যুদ্ধের প্রশ্নে ‘আত্মতৃপ্তি লাভ করতে পারে না।’ প্রতিরক্ষা খাত দেশীয়করণের ধীর গতিতেও উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিটি বলে, গত বছর মোদি যে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব মডেল প্রবর্তণ করেন তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছুই হয়নি।’ সংসদীয় কমিটি ‘সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি: প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও ক্রয়’ শীর্ষক যে রিপোর্ট তৈরি করেছে তাতে উপরোক্ত পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরা হয়।

বিজেপি নেতা মুরলি মনোহর যোশির নেতৃত্বে ওই কমিটি ভারতের বাস্তব প্রতিরক্ষা ব্যয় তুলে ধরতে গিয়ে দেখায় যে, ২০১৪-১৫ সালে যা জিডিপি’র ২.৬ শতাংশ ছিলো ২০১৭-১৮ সালে তা কমে ১.৫৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যয় ১৯৮২ সালে চীনের সঙ্গে যুদ্ধের পর থেকে সর্বনিম্ন। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্স ইন্সটিটিউটের এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০০৭-১৭ মেয়াদে জিডিপি’র অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা ব্যয় চীন ও ফ্রান্সের একই থেকেছে, সৌদি আরব ও রাশিয়ার বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কমেছে। তবে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জিডিপি’র বিচারে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যয় কমে যাওয়া বেশ লক্ষ্যনীয় বলে কমিটি তার খসড়া রিপোর্টে উল্লেখ করে।

বরাদ্দ অগ্রহণযোগ্য: সার্বিক প্রতিরক্ষা ব্যয়ের মধ্যে মূলধনী ব্যয়ের অংশ ‘অত্যন্ত কম’ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে কমিটি। প্রতিবছরই ক্রমাগত তা কমছে, ২০১৩-১৪ সালে ৩৯ শতাংশ থেকে ২০১৭-১৮ সালে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

এক এমপি এই পত্রিকাকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি কমিটির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ লং-টার্ম ইন্টিগ্রেটেড পার্সপেকটিভ প্লান (এলটিআিইপিপি) অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এতে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

পিপিপি কোথায়? : আরেক এমপি বলেন, ‘ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংগুলো (ডিপিএসইউ) যেন বাণিজ্যিকভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং সরকারের উপর নির্ভর না করে বিশ্বব্যাপী ক্রেতাদের কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারে সেজন্য ডিপিএসইউগুলোকে ‘পর্যাপ্ত স্বাধীনতা ও সম্পদ প্রদানের জন্য কমিটি সুপারিশ করতে পারে।’ জানা গেছে কমিটি তাদের খসড়া রিপোর্টে বলেছে, ‘সংঘাতের ক্ষেত্রে জাতীয় সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

এরপরও প্রতিরক্ষা খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) থেকে সরকার বিরত থাকায় কমিটি দেখতে পায় যে প্রতিরক্ষা খাততে এগিয়ে নেয়ার মতো কোন ‘ব্যবস্থা নেই।’ রিপোর্টের বরাত দিয়ে আরেক সদস্য বলেন, ‘প্রতিরক্ষা উৎপাদনের জন্য প্রণীত কৌশলগত অংশীদারিত্ব মডেলে বড় প্রতিরক্ষা পিএসইউ’গুলোর জন্য স্পষ্ট কোন ভূমিকা উল্লেখ করা হয়নি। এতে মনে হয় সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে পুরোপুরি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ