ঢাকা, বুধবার 13 June 2018, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় ব্রাজিল দল

স্পোর্টস ডেস্ক : নেইমার-কৌতিনহোরা পা রাখতেই বিশ্বকাপের রং লেগে গেল সোচিতে। সবে মিলে সবুজ-সোনালির ঢেউ লেগেছে এবার শীতকালীন অলিম্পিক ভেন্যু সোচিতে। ভিয়েনায় অস্ট্রিয়া জয়ের পর সোমবার রাতেই রাশিয়া পৌঁছেছে ব্রাজিল দল। বিশ্বকাপকালীন মূল ক্যাম্প তাদের সোচিতে, এই শহর থেকেই তারা বিশ্বকাপের বিভিন্ন ভেন্যুতে যাবে ম্যাচ খেলতে। রাতে নেইমারদের দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে দর্শক-সমর্থকরা। ব্রাজিলের পতাকা উড়িয়ে সমর্থকরা জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রবাসেও সেলেকাওদের সঙ্গে তারা আছে। চার বছর আগের ‘মিনেইরাজো’র ব্যথা ভুলে তারা আবার শিরোপাপ্রত্যাশী। সমর্থকদের এই প্রত্যাশার মূলে নেইমার, ইনুজরি সেরেই পুরো ব্রাজিলের স্বপ্ন কাঁধে নিয়ে ছুটতে শুরু করেছেন এই তরুণ। ইনজুরিতে তিন মাস মাঠের বাইরে, এরপর সেদিন মাঠে ফিরেছেন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বদলি হয়ে। তারকার প্রত্যাবর্তন হলো দুর্দান্ত সুন্দর এক গোলে। গোল দেখে বোঝার উপায় নেই, পিএসজি তারকার পায়ে বড় অপারেশন হয়েছিল। শতভাগ ফিট হওয়ার আগেই যে তিনি খুঁজে পেয়েছেন গোলের ফর্ম। ভিয়েনায় অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে করেছেন আরেকটি মন ভরিয়ে দেয়ার মতো গোল। সুবাদে জাতীয় দলের জার্সিতে ৫৫ গোল করে এই ফরোয়ার্ড ছুঁয়েছেন আরেক গ্রেট রোমারিওকে। অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করা ওই ম্যাচে গোলের শুরুটা করেন জেসুস। মাঝে নেইমার আর শেষটা হয়েছে কৌতিনহোর গোলে। তার মানে তিতের একাদশের তিনি ফরোয়ার্ডই গোলের সুরভি নিয়ে রাশিয়া গেছেন। যাওয়ার আগে ভিয়েনায় ম্যাচ শেষ করে ২৬ বছর বয়সী নেইমার বলেন, ‘স্বপ্ন দেখতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে।’ জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের হারে ব্রাজিলের ফুটবল বিভীষিকাময় হয়ে উঠলেও নাকি স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি তিনি, ‘স্বপ্ন দেখা বাদ দেওয়া যাবে না। ব্রাজিলিয়ানরা সব সময় স্বপ্ন দেখবেই। অনেক বড় স্বপ্নের পানে ছুটছি আমরা।’ চার বছর আগে নিজেদের মাঠে সেমিফাইনালে অমন হারের পর ‘গেল গেল’ রব উঠেছিল। ওটা ছিল অঘটন, কিছুই হারিয়ে যায়নি। ম্যানচেস্টার সিটির জেসুস, লিভার পুলের ফিরমিনো আর বার্সেলোনার কৌতিনহোর সম্মিলনে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড লাইন হয়েছে দুর্দান্ত। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁদের তাল-মিলটা খুব ভালো তৈরি করতে পেরেছেন লিওনার্দো বাচ্চি তিতে। কোরিন্থিয়ানস ছেড়ে ২০১৬ সালের জুনে সেলেকাওদের দায়িত্ব নিয়ে এই ব্রাজিলিয়ান কোচ খেলায় ফিরিয়েছেন তাদের চিরকালীন সৌন্দর্যে। এই কোচের ফুটবল দর্শনে আগে খেলার সৌন্দর্য ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স। বাছাই পর্বের ১২ ম্যাচের ১০টি জিতে তারা সবার আগে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে। সেই ফর্ম অব্যাহত ছিল বিশ্বকাপ প্রাক-প্রস্তুতি ম্যাচেও। 

আগের তুলনায় এই দলে তারকা সম্মিলন বেশি, সুবাদে নেইমার নির্ভরতা কমেছে কিছুটা। দলে ম্যাচ উইনার অনেক। কিন্তু নেইমার যে প্রতি ম্যাচেই চমকে দিচ্ছেন তাঁর কোচকে। এএফপি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ