ঢাকা, বুধবার 13 June 2018, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকে ট্রাম্প ও কিম

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরস্পরের দিকে সতর্কভাবে হেসে করমর্দন করে ঐতিহাসিক বৈঠক শুরু করেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে সিঙ্গাপুরের সানতোসা দ্বীপের কাপেলা হোটেলে বৈঠকটি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
 বৈঠকে দুই নেতা কোরীয় উপদ্বীপের পারমাণবিক অচলাবস্থা অবসানের পথ বের করার চেষ্টা করবেন।
তাদের এ বৈঠক সফল হলে তা উত্তর-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার চিত্রে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। এটা অনেকটা ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের চীন সফরের মতো হতে পারে, যার পর থেকে চীনের রূপান্তর ঘটেছিল।
বিবিসি জানিয়েছে, ঐতিহাসিক সাক্ষাতের শুরুর পর্বে বিলাসবহুল কাপেলা হোটেলের দুই পাশ থেকে দুই নেতা হেঁটে এসে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার পতাকা দিয়ে সজ্জিত একটি দৃশ্যপটের সামনে প্রথমবারের মতো পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে দৃঢ়ভাবে করমর্দন করেন।
 গণমাধ্যমের সামনে সংক্ষিপ্ত ওই পর্বে দুই নেতা প্রাথমিক মন্তব্য বিনিময় করেন।
কিম বলেন, “আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে খুশি হলাম মিস্টার প্রেসিডেন্ট।”
উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমি সত্যি গর্ব অনুভব করছি। আমরা মহৎ একটি আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছি এবং তা ব্যাপকভাবে সফল হবে বলে আশা করছি। আমার ধারণা এটি সত্যিই সফল হতে যাচ্ছে এবং আমাদের মধ্যে গভীর সম্পক হবে, আমার কোনো সন্দেহ নেই।”
উত্তরে কিম বলেন, “ওয়েল, এ পর্যন্ত আসাটা সহজ ছিল না। অতীতে আমাদের পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা বসানো ছিল, কিন্তু আমরা সেগুলো সব অতিক্রম করেছি এবং আজ আমরা এখানে।”
কাপেলা হোটেলে পৌঁছে তাদের লিমুজিন থেকে নামার সময় উভয় নেতাকেই বেশ সিরিয়াস মনে হয়েছে বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক।
 তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা হাসি দিয়ে পরস্পরের হাত ধরে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য বিনিময় করে বৈঠকের পরিবেশে একটি আশাবাদের আবহ তৈরি করেন।
এরপর কিমকে পথ দেখিয়ে কাপেলা হোটেলের পাঠাগারের দিকে নিয়ে যান ট্রাম্প, সেখানে শুধু দোভাষীদের নিয়ে বৈঠক শুরু করেন তারা।
প্রায় আধঘন্টা ধরে কথাবার্তা বলার পর ট্রাম্প ও কিম আবার দেখা দেন। হোটেলের বারান্দা দিয়ে পাশাপাশি হাঁটেন, তারপর আবার বৈঠক কক্ষে ঢুকে যান। সেখানে তারা তাদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলিত হন।
বারান্দায় হাঁটার সময় এক দোভাষীর মাধ্যমে কিম ট্রাম্পকে বলেন, “আমার ধারণা পুরো বিশ্ব এই মুহূর্তটি দেখছে। বিশ্বের অনেক মানুষ এই দৃশ্যকে উদ্ভট কল্পনা, সায়েন্স ফিকশন মুভি বলে মনে করবে।”
সিঙ্গাপুরের সানতোসা দ্বীপের কাপেলা হোটেলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের পাশে বসে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; ১২ জুন, ২০১৮ রয়টার্স । বৈঠক কেমন চলছে, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “খুব ভাল, খুব, খুব ভাল। ভাল সম্পর্ক।” 
কিমও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা এই বৈঠক সম্পর্কে সব ধরনের সংশয় ও অনুমান পার হয়ে আসতে পেরেছি এবং আমার বিশ্বাস এটি শান্তির জন্য শুভ হবে।” 
দুই নেতার মুখোমুখি বৈঠক ৪০ মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় কিম সিঙ্গাপুর ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।
 হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প ও কিমের ব্যক্তিগত বৈঠক মোট ৩৮ মিনিট স্থায়ী হয়েছে। 
 বৈঠক শেষ ॥ যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর ট্রাম্প-কিমের
সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, এই যৌথ ঘোষণা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছেন এটি ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ‘বেশ ব্যাপক’ এবং তিনি ও ‘চেয়ারম্যান কিম’ এটি স্বাক্ষর করে ‘দুজনেই খুব সম্মানিতবোধ করছেন’।
কিম বলেছেন, “আমরা একটি ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছি এবং অতীতকে পেছনে ফেলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
 ‘এই বৈঠক হওয়ার জন্য’ ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প-কিম যৌথ ঘোষণার প্রধান তিনটি পয়েন্ট বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী তুলে ধরা হল:
>যুক্তরাষ্ট্র ও ডিপিআরকে (ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া) শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দুই দেশের জনগণের আকাক্সক্ষানুযায়ী নতুন ইউএস-ডিপিআরকে সম্পর্ক স্থাপনে প্রতিশ্রুতিব্ধ থাকবে।
>কোরীয় উপদ্বীপে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তির শাসন প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র ও ডিপিআরকে তাদের উদ্যোগ যুক্ত করবে।
> চলতি বছরের ২৭ এপ্রিলের পানমুনজোম ঘোষণা পুনর্নিশ্চিত করে কোরীয় উপদ্বীপকে পুরোপুরি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করতে ডিপিআরকে এর প্রতিশ্রুতি।
এই যৌথ ঘোষণায় দুই নেতা স্বাক্ষর করার পর ট্রাম্প তার প্রতিক্রিয়ায় এটিকে ‘ব্যাপক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেছেন, “আজকে যা হলো তার জন্য আমরা অত্যন্ত গর্বিত।”
“আমরা দুজনেই চাই কিছু করতে, আমরা দুজনেই কিছু করতে যাচ্ছি,” বলেছেন তিনি।
ট্রাম্প-কিম সমঝোতা 
পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরুর অঙ্গীকার উ. কোরিয়ার
 কোরীয় উপদ্বীপে পূর্ণাঙ্গ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে একসঙ্গে কাজ শুরুর অঙ্গীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া। মঙ্গলবার দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর এই সংক্রান্ত একটি নথিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন। প্রথম পর্বের একান্ত বৈঠকের পর ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের ঐতিহাসিক সমঝোতার আভাস দিয়েছিলেন। সিএনএন প্রথমে সেই সমঝোতামূলক নথি স্বাক্ষরের খবর জানায়। পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্প ও কিমকে উদ্ধৃত করে এ খবরটি নিশ্চিত করা হয়।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প
১২ জুন, মঙ্গলবার সকালে কিমের সঙ্গে ৩৫ মিনিটের একান্ত বৈঠক শেষে দ্বিতীয় পর্বে দুই দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন তারা। বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে তার দেশ। দিনের শুরুতে দুই নেতার মধ্যে কোনো চুক্তির আগাম আভাস না পাওয়া গেলেও স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় দুপুরের খাবারের পরের বিরতির এক পর্যায়ে কিছু সময় কিমের সঙ্গে হোটেলের আঙিনায় হাঁটেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি ঘোষণা দেন, দুপুরের পর একটি নথি সই হতে পারে। চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের সামনে নথি নিয়ে আসেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখান থেকেই ছবি তোলে সাংবাদিকরা। সেই ছবি থেকে সমঝোতার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে এনেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। এর একটিতে বলা হয়েছে, ২৭ এপ্রিলের পানজামুন ঘোষণা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া শুরু করবে দুই দেশ।
ট্রাম্পের সঙ্গে হাঁটার সময় কিমকে প্রেসিডেন্টের লিমুজিন গাড়ির ভেতরটা দেখতে দেওয়া হয়। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরা ‘বিস্ট’ নামের গাড়ি দেখান। কিছুক্ষণ বাদে অপেক্ষারত সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি সই করছি। একটি দুর্দান্ত বিস্তারিত দলিল।’ এতে কী আছে, তা পৃথক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হবে। এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। সমঝোতা স্বাক্ষরের প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম বলেছেন, বৈঠক আয়োজন করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চান তিনি। অনুবাদকের সাহায্যে কিম বলেন, ‘ঐতিহাসিক এক বৈঠক হয়েছে। অতীতকে পেছনে ঠেলে ঐতিহাসিক একটি নথিতে সই করতে যাচ্ছি।’ বিশ্ববাসীর চাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ব্যাপক একটি পরিবর্তন দেখবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, নথিতে সইয়ের অর্থ দাঁড়ায় আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে এবং এর গতি বজায় থাকবে।
 বৈঠক শুরুর আগে থেকেই ট্রাম্প বলেছিলেন, এটা দুর্দান্ত বৈঠক হবে। আর কিম বলেন, ‘এমন অবস্থায় আসা সহজ ছিলো না।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শাšিরÍ জন্য বড় এক ঘটনা ছিল আজকের দিনটি। দুই নেতার একান্ত বৈঠকের পর এখন দ্বিতীয় পর্বের বৈঠকে তাদের সঙ্গে মিলিত হন দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বৈঠক নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এর আয়োজনে মূল ভূমিকা পালনকারী দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন।  মুন বলেছেন, ‘গত রাতে ঘুমাতে পারিনি।’ কেবিনেটের এক বৈঠকে মুন বলেন, ‘আশা করি, বৈঠক সফল হবে এবং নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হবে।’ এর আগে সব জল্পনা-কল্পনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে সেন্টাসা দ্বীপে বৈঠক শুরু করেন দুই নেতা। প্রথমেই দুই দেশের পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে হাত মেলান ট্রাম্প-কিম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, বৈঠক শুরুর আগে ১২ সেকেন্ড সময় ধরে করমর্দন করেন তারা।
প্রথম দেখায় ‘নার্ভাস ছিলেন’ ট্রাম্প-কিম
সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক বৈঠকে দেখা হওয়ার প্রথম মুহূর্তগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন উভয়েই নিজের নিজের কর্তৃত্ব প্রদর্শনে আগ্রহী ছিলেন।
প্রথম ৬০ সেকেন্ডের মধ্যেই দুই নেতা একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তারে বেশ সচেষ্ট হয়ে উঠেছিলেন বলে জানিয়েছেন শরীরী ভাষা বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ।
 “হাত মেলানোর সময় দুজনকেই সমকক্ষ মনে হচ্ছিল। নিজেকে নেতা এবং বিষয়টির ওপর নিয়ন্ত্রণ আছে দেখাতে বেশ সচেতন ছিলেন ট্রাম্প,” বলেন সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইনফ্লুয়েন্স সলিউশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিয়ং।  
প্রথম দেখায় ট্রাম্পই বেশি সময় ধরে কথা বলেছেন, কিম ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী। বৈঠক কক্ষে যাওয়ার আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা অন্তত তিনবার ট্রাম্পের দিকে ঝুঁকে কথা শোনার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাহুতে চাপড় দিয়ে কিম মুখোমুখি সাক্ষাতে নিজের নিয়ন্ত্রণ আছে এটা দেখাতেও সচেষ্ট ছিলেন। উত্তর কোরীয় নেতার পিঠে হাত দিয়ে দ্বিগুণ বয়সী ট্রাম্প এরপর কিমকে লাইব্রেরির পথ দেখিয়ে দেন, যেখানে দুই নেতা একান্তে বৈঠক করেন।
  বৈঠক কক্ষে বসার পরও দুজনই স্নায়ুচাপজনিত উত্তেজনা লুকাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানান লিয়ং। দুই হাত দিয়ে অস্থিরতা ঢাকার চেষ্টার পাশাপাশি চটজলদি হাসিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন ট্রাম্প; খানিক ঝুঁকে থাকা কিমের চোখ ছিল মাটির দিকে।
যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার এ শীর্ষ সম্মেলনে কোরীয় উপদ্বীপের ‘পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ’ ও দুই কোরিয়ার মধ্যে শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। দায়িত্বরত কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উত্তরের কোনো শীর্ষ নেতার এটিই প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ।
 বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক কি না, দেখা হওয়ার প্রথম মিনিটেই তা বুঝে যাবেন তিনি।
 “ভাল কিছু হতে যাচ্ছে কি না, খুব দ্রুতই তা আমি বুঝতে পারবো। কিছু হবে কি না তাও দ্রুতই আমি জেনে যাব বলেই মনে করছি, হয়তো এটি হবে না। আদৌ ইতিবাচক কিছু হবে, কি হবে না, তা আমি অতি দ্রুতই বুঝে যাব,” কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প-কিমের মধ্যাহ্ন ভোজে প্রাচ্য-প্রতীচ্যের মেলবন্ধন
গরুর পাঁজরের মাংসের সঙ্গে টক-মিষ্টি শূকরের মাংস- সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের আপ্যায়ন তালিকায় এভাবেই মিশে ছিল পূর্ব ও পশ্চিমের স্বাদ। 
মঙ্গলবার দুই নেতার শীর্ষ বৈঠকের পর দুপুরের খাবারে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মেলবন্ধনের অপূর্ব নজির পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
চিংড়ির ককটেল ও অ্যাভোকেডো সালাদ দিয়ে দুই নেতার ভোজনপর্ব শুরু হয় বলে হোয়াইট হাউজের প্রকাশ করা মেন্যুতে দেখা গেছে। সঙ্গে ছিল মধুর ছটা দেওয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কাঁচা আমের সালাদ ও তাজা অক্টোপাস। ছিল স্টাফ করা শসার কোরীয় ডিস- ‘ওইজেন’।
 মধ্যাহ্ন ভোজের মূল পর্বে ছিল ভাজা ব্রোকলি ও আলুর দোপিনোর সঙ্গে পরিবেশিত চর্বির আঁচে রান্না গরুর পাঁজরের মাংস। টক-মিষ্টি মচমচে শূকরের মাংস, ফ্রাইড রাইস, ‘জো’ চিলি সসের সঙ্গে আরও ছিল লালচে এশীয় শাকসবজি দিয়ে অল্প আঁচে রান্না কড মাছের কোরিয়ান পদ ‘দায়েগু জরিম’।
ট্রাম্প-কিম এবং তাদের প্রতিনিধিদের জন্য শেষ পর্বের মিষ্টান্নে ছিল কালো চকোলেটের টার্টলেট গানাচে, হাগেন-দাজস ভ্যানিলা আইসক্রিমের সঙ্গে চেরি কুলিস ও ক্রিমমাখানো পেস্ট্রি ট্রপিজিয়েনে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ