ঢাকা, বুধবার 13 June 2018, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনার কর্মসংস্থান ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপকের কারাদন্ড

খুলনা অফিস : কর্মসংস্থান ব্যাংক খুলনা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক সুলতান আহমেদকে ৪০৯ ধারার অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ৫৯ হাজার ১২৯ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার খুলনা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এস এম আব্দুস ছালাম এ রায় ঘোষণা করেন। দন্ডাপ্রাপ্ত আসামি সুলতান আহমেদ বরিশাল জেলার আগৈলঝরা উপজেলার রাংতা গ্রামের মৃত কাইয়ুম আলির ছেলে। রায় ঘোষণাকালে আসামি সুলতান আহমেদ পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হতে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৩ পর্যন্ত সুলতান আহমেদ কর্মসংস্থান ব্যাংক খুলনা শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়ে তিনি ৪টি ভুয়া নামে সেলাই প্রকল্পের ৪০ হাজার টাকা আত্মসাত করেন। ৪টি লোনের মঞ্জুরীকৃত ৪০ হাজার টাকা ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সুদসহ মোট ৫৯ হাজার ১২৯ টাকা হয়। যা উক্ত শাখার ভিইও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের প্রতিবেদন ও ২০০৮ সালের ১৪ মে এজিও মো. মিজানুর রহমানের প্রতিবেদনে প্রতীয়মান হয়। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন সম্মিলিত জেলা কার্যালয় খুলনার উপ-সহকারী পরিচালক আবুল হাশেম কাজী বাদী হয়ে সুলতান আহমেদের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন যার নং-০৮ তাং-১৭/১২/২০১৩ ইং। মামলার তদন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন সম্মিলিত জেলা কার্যালয় খুলনার উপ-সহকারী পরিচালক আবুল হাশেম কাজী ২০০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে সুলতান আহমেদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি এম এম মুজিবর রহমান।
খুলনায় ৮০ বোতল ফেন্সিডিলসহ
বিজিবি’র সাবেক সদস্য গ্রেফতার 
খুলনা মহানগরীর স্টেশন রোডস্থ পাওয়ার হাউজ মোড় থেকে ৮০ বোতল ফেন্সিডিলসহ বিজিবি’র সাবেক সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম (৬৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবির জানান, সোমবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্টেশন রোডস্থ পাওয়ার হাউজ মোড়ের এ্যানি বিরানী হাউজের সামনে থেকে ৮০ বোতল ফেন্সিডিলসহ শহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার পাচপোতা গ্রামের মো. রজব আলীর ছেলে শহিদুল বিজিবি’র সাবেক সদস্য।
কেসিসিতে নিম্নমানের যাকাতের
শাড়ি ও লুঙ্গি সরবরাহ
খুুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ৭৬ লাখ টাকার টেন্ডারে সরবারহকৃত যাকাতের শাড়ি ও লুঙ্গি লম্বায় কম এবং অত্যন্ত নিম্নমানের বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বেশির ভাগ কাউন্সিলর ওই শাড়ি, লুঙ্গি নিতে অনীহা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তবে সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত কাউন্সিলররা তাদের ম্যানেজ করতে মারিয়া হয়ে উঠেছে।
কেসিসি’র ভান্ডার শাখা থেকে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের আগে শাড়ি ও লুঙ্গি কেনার জন্য ২৫ মে দু’টি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য ১৭ হাজার ২৫ পিস শাড়ি এবং ৪ হাজার ৫০ পিস লুঙ্গি কেনার সিডিউল বিক্রির শেষ দিন ছিল গত ৪ মে। নির্ধারিত সময়ে দু’টি গ্রুপে ১৯টি সিডিউল বিক্রি হয়। গত মঙ্গলবার দরপত্র বাক্স খোলার সময় ভেতরে দু’টি গ্রুপে তিনটি করে ৬টি সিডিউল পাওয়া যায়। তখন অভিযোগ ওঠে দরপত্র জমার আগের দিন রাতে ভয় দিয়ে সিডিউল কেড়ে নেয়া হয়। আর যাদের সিডিউল নেয়া হয়নি, যুবলীগ নেতাদের বাধায় তারাও কেউ দরপত্র জমা দিতে পারেননি। এছাড়া দরপত্র বাধা দেয়া নিয়ে যুবলীগের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ অবস্থার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সংস্থাটির টেন্ডার ইভোলেশন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় টিইসি কমিটি দু’টি গ্রুপেই সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মেসার্স এস এইচ এন্টারপ্রাইজকে শাড়ি ও লুঙ্গি সরবরাহের অনুমোদন দেয়। টিইসি কমিটির অনুমোদনের পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গত রোববার সকল শাড়ি ও লুঙ্গি সরবরাহ করে। কিন্তু ফের অভিযোগ উঠেছে সরবরাহকৃত যাকাতের শাড়ি ও লুঙ্গি অত্যন্ত নিম্নমানের এবং লম্বায় কম। ফলে বেশিরভাগ কাউন্সিলর ওই শাড়ি ও লুঙ্গি নিতে অনীহা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ অবস্থায় সরবরাহকৃত কাপড় নেয়ার জন্য সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত কাউন্সিলররা সকলকে ম্যানেজ করতে মারিয়া হয়ে উঠেছে।
কয়েকজন কাউন্সিলর জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যে সব শাড়ি ও লুঙ্গি সরবরাহ করেছে তার বেশিরভাগ লম্বায় কম। কাপড়ের গুণগত মানও তেমন ভালো না। অনেক কাপড়ে মমের প্রলেপ দেয়া রয়েছে। যা বিতরণ করলে সমালোচনা সৃষ্টি হতে পারে। তাই ফের সঠিক পরিমাপের শাড়ি সরবরাহের দাবি জানানো হয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. ইকবাল হোসেন বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটি রয়েছে। ওই কমিটি দেখে শুনে সিদ্ধান্ত নেবে। এ ব্যাপারে যাচাই-বাচাই কমিটি আহ্বায়ক প্যানেল মেয়র-১ মো. আনিছুর রহমান বিশ্বাষ-এর সাথে মুঠোফোনে একাধিবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ