ঢাকা, বুধবার 13 June 2018, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বদরগঞ্জে ছুরিকাঘাতে ছাত্র লীগ কর্মী খুন

রংপুর অফিস : পাওনা টাকা ফেরৎ চাওয়ায় রংপুরের বদরগঞ্জে ছুরিকাঘাতে ছাত্রলীগ কর্মী রেজাউল ইসলাম (১৭)খুন হয়েছে।
গত সোমবার দিবাগত রাত এগারোটা দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে উপজেলা সদরের পৌরসভার স্টেশন এলাকায়। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে রেলওয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘাতকের বড় ভাই ইলিয়াস আলীকে গ্রেপ্তার করেছে। খুনের শিকার ছাত্রলীগের ওই কর্মী রেজাউল ইসলাম (১৭) উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের শংকরপুর মধ্যপাড়ার আব্দুল মজিদ মিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র এবং পৌরশহরের কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র। ঘাতক ওই ছাত্রদল নেতার নাম ফিরোজ শাহ (২৩)। সে উপজেলার পৌরশহরের কলেজিয়েট স্কুল সংলগ্ন বটপাড়া এলাকার মৃত ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। ফিরোজ ছাত্রদলের পৌরসভা শাখার আইন বিষয়ক সম্পাদক।
এলাকাবাসী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত রেজাউল ইসলামের বড় ভাই হাবিবুরের কাছ থেকে ফিরোজ শাহ ক্লিনিক করার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলো। একাধিকবার ওই টাকা ফেরৎ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও টাকা ফেরৎ না দিয়ে নানা ভাবে টাল বাহানা ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে আসছিলো। এরই মধ্যে তাদের কয়েক দফা কথা কাটাকাটিও হয়। ঘটনার দিন সকালেও ফিরোজের সাথে হাবিবুর ও রেজাউলের এক দফা বাকবিতন্ডা হয়। অপরদিকে ঘটনার দিন রেজাউলের মা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে রেজাউল দিন ভর মেডিকেলেই মায়ের পাশে অবস্থান করে। ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তার মাকে মেডিকেলে রেখে সে একা বাড়ি ফিরছিলো । ফিরোজ এ সময় স্টেশন এলাকায়। রেজাউল স্টেশন এলাকায় ওঁত পেতে ছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছা মাত্র ফিরোজ ও তার সঙ্গিরা রেজাউলের ওপর হামলা করে । এসময় স¤্রাট ও ফিরোজ রেজাউলের বুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এসময় রেজাউলের আতœচিৎকারে পাশ্ববর্তী লোকজন ছুটে এলে ফিরোজ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা পালিয়ে যায়। রেজাউলকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুনের ঘটনার সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোহাম্মদ আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টুটুল চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সাখাওয়াৎ হোসেন শাহানসহ স্থানীয় œ নেতৃবৃন্দ উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন। নিহত রেজাউলের ভাই অভিযোগ করেন, ফিরোজ একটা বখাটে ছেলে। সে মাদকাসক্ত। তাকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করেছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। জানা গেছে, ফিরোজের নামে বদরগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
কর্তব্যরত চিকিৎষক ইফতেখারুল আলম মারুফ জানান, ছুরি হৃদপিবন্ড ভেদ করে চলে যাওয়ায় ঘটনা স্থলেই রেজাউল মৃত্যু বরণ করেছে। বদরগঞ্জ থানার ওসি আনিছুর রহমান জানান, ঘটনার পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাস্থল রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ কারণে লাশ বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ