ঢাকা, বুধবার 13 June 2018, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

...নির্বোধ অতি ঘোর

ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী : কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতায় লিখেছেন : ‘ভূতের মতো চেহারা যেমন, নির্বোধ অতি ঘোর,/ যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর।’ এই পুরাতন ভৃত্যের নাম কেষ্টা। সে প্রভুর খুব নিকটজন। কিন্তু বাড়ির গৃহিণীর দু’ চোখের বিষ। তাকে নিয়ে এই কবিতার বিবরণ বিয়োগান্তক। কিন্তু সেটি আমাদের এই লেখার উপজীব্য বিষয় নয়। এই লেখার আলোচ্য বিষয় বাজেট। বয়সের ভারে নুব্জ বেতাল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ৭ জুন ভোটারবিহীন নির্বাচনের জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ সালের বাজেট পেশ করেছেন। তার বাজেট বক্তৃতা শুনে বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। তাতে রাগে একেবারে ফুলে টং হয়ে ছিলেন অর্থমন্ত্রী। তার এই রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ৮ তারিখে অনুষ্ঠিত তার বাজেট- উত্তর সাংবাদিক সম্মেলনে।
বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, এ সরকারের বাজেট দেয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই যে, এই বাজেট জনগণকে শোষণ করার জন্য এবং এই বাজেট একটি ভুয়া বাজেট। এই বাজেট দিয়ে কখনো বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ হবে না। তিনি বলেন, বাজেট দেয়ার নামে তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকা লুটপাট করার বন্দোবস্ত করেছে। ১০০ কোটি টাকার প্রজেক্টকে তারা ১০০০ কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট বানিয়ে সেখান থেকে লুটপাট করছে। বাজেটের আকার দিয়ে কিছু বোঝা যায় না। বাজেটের আকার বাজেটের মান সম্বন্ধে কিছু বলে না। বাজেটের মান অত্যন্ত নি¤œ। ঢাকা শহরের যেসব বড় বড় প্রজেক্ট নেয়া হয়েছে সেগুলোতে খরচ বাড়ানো হয়েছে। এমনকি পদ্মা সেতুর কাজ প্রথমে শুরু হয়েছিল মাত্র সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা দিয়ে। সেই প্রজেক্ট আজ ৩৫ হাজার কোটি টাকায় পরিণত হয়েছে। আমরা বলেছি, এই বাজেট শেষ হতে হতে পদ্মা সেতুর বাজেট ৫০ হাজার কোটি টাকা হলেও আমরা অবাক হবো না। আবার সিপিডি বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে নি¤œ ও নি¤œ মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের উচ্চবিত্তরা করের ছাড় পাবে। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাজেটের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগভিত্তিক যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা অর্জন করা কঠিন হবে। বিদেশী বিনিয়োগে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় এবং ডলারের বিনিময় মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে যাবে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সবচেয়ে কম আয়ের ৫ শতাংশ মানুষের ৫ বছরে ৬০ শতাংশের মতো আয়ের ক্ষয় ঘটেছে। অন্যদিকে সবচেয়ে উচ্চ আয়ের ৫ শতাংশ মানুষের আয়ের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে ৫৭.৪ শতাংশ। বাংলাদেশ পূর্ব-পশ্চিমে ভাগ হয়ে গেছে। একদিকে সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা। অপর দিকে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী। একদিকে উন্নততর বাংলাদেশ। আরেক দিকে দরিদ্রতর বাংলাদেশ। আমরা দেখছি সম্পদ, ভোগ এসব ক্ষেত্রে বৈষম্য বেড়েছে। তিনি বলেন, শ্রম ও উদ্যোগের তুলনা পুঁজি এবং সম্পদকে এই বাজেটে বেশি পুরস্কৃত করা হয়েছে। এটা মেধাভিত্তিক অর্থনীতির জন্য ভাল ফল নয়।
বাজেট যেভাবে সাজানো হয়েছে, তাতে গরিব মানুষ আগের চেয়ে কম দামে পাউরুটি খেতে পাবে, সেন্ডেলের দামও কমবে। মধ্যবিত্তদের জন্য বরং সঙ্কট বেশি হবে। মূল্যস্ফীতি চাপের মধ্যেও করমুক্ত আয়ের সীমা থাকছে আগের মতোই অর্থাৎ আড়াই লাখ টাকা। একদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অসহনীয় চাপ সেই সঙ্গে আড়াই লাখ টাকা আয় হলেই আয়কর দেয়ার তাগিদ। মধ্যবিত্তকে দৌড়ের উপর রাখবে। আবার ছোট ফ্ল্যাট কেনার পরে নিবন্ধের খরচ বাড়বে। যাদের গাড়ি নেই, যারা পাঠাও-উবার ব্যবহার করেন তাদেরও ব্যয় বাড়বে। আবার বাড়বে পুরনো গাড়ির দামও। কিন্তু উচ্চ বিত্তদের জন্য এই বাজেটে অনেক সুবিধা আছে। একটু বড় আকারের ফ্ল্যাট যারা কিনবে তাদের নিবন্ধের খরচ কমবে। এভাবে নি¤œ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের উপর সর্বাধিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা হলো লুটেরা ব্যাংক মালিকদের অতিরিক্ত সুবিধাদান। ব্যাংকের কর্পোরেট কর হার কমানো হয়েছে আড়াই শতাংশ। এর ফলে তাদের লাভের পকেট বরং আরেকটু ভারি হবে। এছাড়া আয়করেও খানিকটা ছাড় দেয়া হয়েছে বেশি আয়কারীদের। এই বাজেট আসলে ভোটার তুষ্টিরই বাজেট। কিন্তু মধ্যবিত্তকে কষ্টের মধ্যে ফেলে ভোটার তোষণ খুব সহজ হবে বলে মনে হয় না। অর্থমন্ত্রী আগামীর চিন্তা করেন না। বর্তমানে কি হবে সে পর্যন্তই তার হিসেব শেষ। ব্যাংক মালিকদের দেউলিয়াত্ব ঘোচানোর জন্য তাদের আরো নানাভাবে পুঁজি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তার উপর কর্পোরেট কর হ্রাস করা হচ্ছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, নির্বাচনের সময় এসব ব্যাংক মালিকদের কাছ থেকে সরকার আর্থিক সহযোগিতা গ্রহণ করবে। ব্যাংক মালিকরা যা চেয়েছে তাই পেয়েছে। কর্পোরেট ঋণ কমানোর ফলে যে অর্থ বেঁচে যাবে, তা লভ্যাংশ হিসেবে ব্যাংক পরিচালকদের পকেটেই চলে যাবে। এই খাত থেকে সরকারের রাজস্ব কমবে। কিন্তু খাতেরও কোনো উন্নতি হবে না।
এই তো বাজেট উত্তর সাংবাদিক সম্মেলন ব্যাংক নিয়ে তেমন কোনো কথা বললেন না। কয়েক বছর ধরেই তিনি বলে আসছিলেন যে, ব্যাংক কমিশন গঠন করা হবে। এই কমিশন খতিয়ে দেখবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সমস্যা। সেখানকার দুর্নীতি সুদহার প্রভৃতি বিষয়। কিন্তু বাজেট উত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি শেষ পর্যন্ত পল্টি মারলেন। বললেন, ‘আমি বলেছিলাম। ব্যাংক খাতের আকার বড় হয়েছে। তবে সেবার মান তেমন প্রসার হয়নি। দেশের বহু লোক এ সেবার বাইরে। এই জন্য চিন্তা করেছিলাম ব্যাংক খাতের জন্য অদূর ভবিষ্যতে একটি কমিশন গঠন করব। কিন্তু তা আমি করছি না। একে আমি পরের সরকারের উপর ছেড়ে দিয়ে যেতে চাই।’
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন নিয়ে সবাই প্রশ্ন করেন। বাজেট যখন দিই ভেবে-চিন্তেই দিই। এটা ঠিক যে বাজেট বাস্তবায়ন পুরোপুরি হয় না এবং সমস্যাটা এখন একটু বেশি। তবে বাস্তবায়ন না হবার প্রবণতা কমেছে। ভবিষ্যতে আরো কমবে। তিনি বলেন, দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে আমি এমন বাজেটই দিব মানুষ যা পছন্দ করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, সাধারণত নির্বাচনের হাওয়া লাগে এপ্রিলে। এবার এখনও লাগেনি। নির্বাচনী হাওয়া যত কম সময় থাকবে সরকারের কাজ ততো বিঘিœত হবে। কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে ভুয়া বাজেট শিরোনামে প্রতিবেদন হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মানে কি? বাজেট কিভাবে ভুয়া হতে পারে। একমাত্র নির্বোধদের জন্যই এরকম ভুয়া বাজেট হতে পারে। যাদের দেশপ্রেম শূন্য। এভাবে ক্ষেপে যাবার কারণে তিনি অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবেই দুঃখ প্রকাশ করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বাজেটকে ‘ভুয়া সরকারের ভুয়া বাজেট’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার প্রতিক্রিয়ায় এভাবে ক্ষেপে যান অর্থমন্ত্রী।
অনলাইন কেনাকাটায় মূসক আরোপের বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ভারচুয়াল ব্যবসায়ীর উপর কর আরোপের একটি প্রক্রিয়া চালু করেছি, যা থেকে অনলাইন কেনাকাটার অংশটি আলাদা। অনলাইন কেনাকাটা থেকে মূসক নেয়া হবে না। বাজেট বক্তব্যে মূসক নেয়ার কথা রয়েছে। সাংবাদিকরা এটা তুলে ধরলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ছাপার ভুল হতে পারে। ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা ও পুঁজিবাজারের ব্যর্থতা অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন কি না, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার কথা ১০ বছর ধরে বলে এলেও এখনো তা করতে না পারায় ধনীদের সুবিধা অর্থাৎ তেলা মাথায় তেল দেয়া। ছোট ফ্ল্যাট কেনায় নিবন্ধন ফি বাড়ানো এসব প্রশ্ন শুনে আবারো ক্ষেপে যান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখিত এগুলো অর্থহীন হয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের উল্টো প্রশ্ন করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বলুন তো দারিদ্র্য হার বাড়ছে, না কমছে। যিনি বলছেন বাড়ছে, নিশ্চয় তিনি মিথ্যা বলছেন। এমন সব প্রশ্ন করছেন যে, বলতেও লজ্জাবোধ করে। যারা দেশের পরিবর্তন স্বীকার করে না....।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্যের হার এখন ২২ শতাংশ। অথচ আপনাদের জন্মের আগে এই হার ছিল ৭০ শতাংশ। বুঝেন কোথায় ছিল বাংলাদেশ আর এখন কোথায়? কোন মুখে বলেন, গরিব মারার বাজেট। বা তেলা মাথায় তেল দেয়া বাজেট। শেষ দিকে অবশ্য মন্ত্রী বলেন, দুঃখিত আমি একটু রেগে গিয়েছিলাম। তবে এটাও বলব সংবাদ সম্মেলনে আসার আগে সাংবাদিকদের একটু চিন্তা করা উচিত। বাজেটে যেসব ত্রুটি আছে তা এখানে তুলে ধরা যায়। যেসব খটকা আছে তাও জানা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করা হয়, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কয়েক দিন আগে বলেছিল, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলে ব্যাংক খাতকে ধ্বংস করছে। আজ বলেছে, বাজেটে ব্যাংক মালিকদের সুবিধা দেওয়ার কারণ হচ্ছে তারা নির্বাচনে তহবিল যোগান দেবেন। আপনার মন্তব্য কী? দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল, তামাক খাওয়া ভাল নয় বলে এর ওপর কর বাড়িয়ে দিলেন, তামাক চাষ কি তবে ভালো? তামাক রফতানির ওপর প্রণোদনা দিচ্ছেন, এতে তো তামাক চাষ বেড়ে যাবে। এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি অর্থমন্ত্রী। তিনি ব্যাংক খাত নিয়ে কথা বলার নির্দেশ দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে। ফজলে কবির বলেন, একজন সাংবাদিক বলেছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলে ব্যাংক খাত ধ্বংস করছে। আর একজন বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার যেসব সুবিধা দিয়েছে, সুদের হার না কমলে তা প্রত্যাহার করা হবে কি না। এরপর গভর্নর মূল প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে ব্যাংক খাতে আমানত ও ঋণহার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য তৈরি হওয়ার কথা বলেন।
ব্যাংক খাতের অনিয়ম আর লুটতরাজ প্রশ্নে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএ। এফবিসিসিআই বলেছে, মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষীর কারণে দেশের ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। এক শ্রেণীর লোক ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংকের টাকা তছরুপ করছেন। ব্যাংকের টাকা ডাকাতি করছেন। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বজায় রাখতে এদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। ব্যাংকের টাকা জনগণের আমানত। এই টাকা যারা লুট করে এফবিসিসিআই তাদের পক্ষে কখনও দাঁড়াবে না। একই সঙ্গে তারা করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেন। বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ব্যাংক খাতের করপোরেট কর কমানো হয়েছে। কিন্তু যে খাতে সব চেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হচ্ছে, সেই পোশাক খাতের করপোরেট কর বাড়ানো হয়েছে। এতে পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবে। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, পোশাক শিল্পে করপোরেট করহার ১০ শতাংশ নির্ধারণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন।
সব শেষে গত রোববার জাতীয় সংসদে সরকারি দল, সরকারের আশ্রিত বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও ব্যাংক খাতের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন। তারা বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা নেই। ব্যাংক প্রায় শেষ হয়ে গেছে। আর অর্থমন্ত্রী যে ব্যাংক লুটপাটকারীদের পক্ষে, প্রস্তাবিত বাজেটে তিনি সে প্রমাণই দিয়েছেন। সরকারি দলের সদস্য আলী আশরাফ বলেন, ব্যাংক খাতে লুটপাটকারীদের ধরা হলে মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে, সুশাসনও নিশ্চিত হবে। ব্যাংক কমিশন গঠন থেকে পিছিয়ে যাওয়ায় অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, ব্যাংক খাত লুটপাট নিয়ে দুই থেকে তিন বছর ধরেই কথা বলছি। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনেও লুটপাটকারীদের নাম উঠে এসেছে। একদিকে ব্যাংক থেকে এরা টাকা নিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী মানুষের দেওয়া করের টাকায় ব্যাংকগুলোকে মূলধন সরবরাহ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বললেন, ব্যাংক কমিশন গঠন করবেন না। কেন করবেন না। করলে কিন্তু কারা, কীভাবে, কত টাকা কোথায় নিয়ে গেলেন-এ সব উঠে আসত। অর্থমন্ত্রী নিশ্চয়ই চান না এ সব উঠে আসুক।
সংসদে কাজী ফিরোজ রশীদ বরেছেন, এফবিসিসিআই ব্যাংক ডাকাতদের শাস্তি চায়। আর অর্থমন্ত্রী ঐ ডাকাতদেরই সুযোগ করে দিলেন। আপনি অর্থমন্ত্রী আছেন কি ডাকাতদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য? না জনগণের সুরক্ষা দেয়ার জন্য? ব্যাংকঅয়ালা কি আপনাকে ভোট দেবে? আপনি সাধারণ জনগণের দিকে তাকালেন না। প্রস্তাবিত বাজেটকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে ফিরোজ রশীদ বলেন, ধনী ও ব্যাংক ডাকাতদের উৎসাহ দেওয়া ছাড়া এতে কিছুই নেই। অর্থমন্ত্রী ভোট বাড়াচ্ছেন না, বরং তেলা মাথায় তেল দিচ্ছেন। ব্যাংক খাতের লুটপাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গজনীর সুলতান মাহমুদের সোমনাথ মন্দির লুটের পর ব্যাংক খাতের মতো এত বড় লুটপাটের ঘটনা আর ঘটেনি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে অর্থমন্ত্রী নিজেই এটা করলেন, নাকি অন্য কেউ তাকে দিয়ে এ কাজ করিয়ে নিল? তারা কি সেই সব ব্যক্তি, যারা তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লুটের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করতে দেয়নি?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ