ঢাকা, বুধবার 13 June 2018, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় শপিংমল থেকে ফুটপাতে ঈদের বাজার জমজমাট

খুলনা অফিস : আর ছয়দিন বাদে ঈদ উল ফিতর। জমে উঠেছে নগরীর মার্কেট। সেই সাথে জমে উঠেছে নগরীর শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতর ক্ষুদ্র ব্যবসা।
স্বল্প আয়ের মানুষ তাদের ঈদ আনন্দকে বেগবান করতে ভিড় করছেন এসব স্টলে। এসব স্টলে মিলছে পোশাক, জুতা, কসমেটিক্সসহ নানা প্রয়োজনীয় পণ্য।
নগরীর জলিল সুপার মার্কেট, নিউমাকের্ট, শপিং কমপ্লেক্স, রেলওয়ে মার্কেট, ডাকবাংলা মোড়, দরবেশ চেম্বার, এস এম রব সুপার মার্কেট, আক্তার চেম্বার, এশা চেম্বার, আড়ং, সেফ এন্ড সেভ, চিত্রালী বাজার, দৌলতপুর বাজারের ফুটপাত থেকে শুরু করে মূল দোকানের ভেতরে কোথাও যেন পা ফেলার জায়গা নেই। সব স্থানেই মানুষ আর মানুষ। তবে প্রচন্ড তাবদাহে ক্রেতাদের অবস্থা ওষ্ঠাগত।
এবার ঈদে খুলনার তরুণীদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ টু পিস ও থ্রি পিস, ভারতীয় লং থ্রি পিস জিনাম, গঙ্গা, বিনয় ফ্যাশন, ইস্তা, দিল্লি বুটিকস প্রভৃতি।
এসব থ্রি পিস ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তরুণ ও যুবকদের পছন্দের শীর্ষে বরাবরের মতো এবারও রয়েছে সুতির পাঞ্জাবি। আর নারীদের পছন্দ চিরচেনা শাড়ি। দোকানিরা জানান, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। তীব্র গরমের হাত হকে বাঁচতে ক্রেতাদের ভিড় রাতেই বেশি।
সরেজমিনে একাধিক মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বাহারি রঙের বৈচিত্র্যময় পোশাকে দোকানগুলো সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একেক পোশাকের একেক নাম দেয়া হয়েছে। ক্রেতাদের বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী।
কেনাকাটা নির্বিঘœ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মার্কেটগুলোতে রয়েছে পুলিশি টহল। ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষদের কারণে মার্কেট এলাকাতে তীব্র যানজট লেগেই আছে।
প্রতি বছরের ঈদ মার্কেটে হিন্দি সিনেমা ও সিরিয়ালের নাম অনুসারে ভারতীয় পোশাকগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এবার তার কিছুটা ব্যতিক্রম হয়েছে। হিন্দি সিনেমার নাম অনুসারে ভারতীয় পোশাকগুলো নেই বললেই চলে।
গরমে সুতি কাপড়ের পোশাক দেহে ও মনে স্বস্তি এনে দেয়। এ কারণে সুতি কাপড়ের চাহিদা অন্য কাপড়ের চেয়েও তুলনামূলক বেশি বলে জানান দোকানিরা। সাধারণ ক্রেতাদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, গত ঈদের চেয়ে এবার পোশাকের দাম বেশি।
গৃহিনী আফরোজা বেগম বলেন, মার্কেটগুলোতে ইচ্ছেমতো দাম নেয়া হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে সবচেয়ে মুশকিলে পড়তে হচ্ছে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের।
এ বিষয়ে অভিজাত মার্কেট মালিকরা বলেন, দোকানভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ বেশি হওয়ায় পোশাকের দাম একটু বেশি ধরা হয়। অন্য মার্কেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দাম নির্ধারণ করলে লোকসান হয়।
জলিল মার্কেটের গোল্ডেন হাউজের প্রোপ্রাইটর রাহুল বলেন, আধুনিক ডিজাইনের রুচিশীল বাহারি পোশাক পাওয়া যায় এখানে। নিত্য-নতুন ডিজাইন, কারুকাজ এবং কাপড়ের মান ভালো হওয়ায় ক্রেতারা আকৃষ্ট হয়ে এখানে আসছেন। যে কারণে বিক্রিও ভালো।
আদ্রিত বস্ত্রালয়ের প্রোপ্রাইটর অমলেশ মল্লিক বলেন, নিত্য-নতুন ডিজাইনের জামদানি, বেনারসী, সিল্ক, কাতান, জর্জেট, বুটিকস শাড়ি ও টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ি এখানে পাওয়া যায়। এতদিন যা বিক্রি করেছি তা পরিমাণে কম হলেও এখন বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ