ঢাকা, শুক্রবার 15 June 2018, ১ আষাঢ় ১৪২৫, ২৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্বপ্ন

শেখ বিপ্লব হোসেন : শিশু সিয়ামও বাবা-মায়ের সাথে সাহরী খেতে উঠেছে। সাহরী খেতে বসে বাবাকে বলল, আব্বু! আমার বন্ধুরা সবাই ঈদের জামা-কাপড় কিনেছে। আমাকে কবে কিনে দেবে আব্বু? তোমাকেও কিনে দেবো বাবা। আজ  বেতন-বোনাস দেওয়ার কথা। বেতন-বোনাস  পেলে আর দেরি নয়, অফিস থেকে ফিরেই সোজা ঈদের মার্কেটে নিয়ে যাবো তোমাদের । কথাগুলো ছেলেকে বললেন উজ্জ্বল সাহেব। বাবার কথা শুনে সিয়াম আনন্দে ধেই ধেই করে নাচতে শুরু করলো।  এখন সাহরীর সময় শেষ। চারপাশের মসজিদে ফজরের আযান হচ্ছে। বাবা সিয়ামকে বিছানায় শুইয়ে দিলেন এবং ফজরের নামাজ পড়ে তিনিও ঘুমিয়ে গেলেন।

পাখীর কলকাকলীতে ঘুম ভাঙলো সিয়ামের। দুহাতে চোখ ডলতে ডলতে বিছানায় উঠে বসে সিয়াম। দ্যাখে বাবা ঘরে নেই। অফিসে গেছে। সে মাকে বলল, আম্মু! আব্বু  কোথায় গেছে? শিউলী বেগম বললেন, বাবা অফিসে গেছে।

-কখন আসবে?

-তাড়াতাড়িই  ফিরবে।

-আমাকে কখন মার্কেটে নিয়ে যাবে?

-  তোমার বাবা আসলেই  আমরা মার্কেট করতে যাবো।  তুমি এখন হাত মুখ ধুয়ে খাবে চলো!

ঈদের আর কয়েকদিন বাকি। ঈদকে কেন্দ্র করে শহর-নগর, গ্রাম-গঞ্জের সবখানেই  ঈদের কেনাকাটার ধুম পড়েছে । ধনী-গরিব সবাই, যে যার সাধ্যমতো  ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত। ঈদ উপলক্ষে শপিংমলগুলোও সাজানো হয়েছে বাহারী রঙের  বৈদ্যুতিক বাতি দিয়ে। ঈদের আনন্দে  তারাভরা আকাশ যেন মাটির পৃথিবীতে নেমে এসেছে! ঈদের আমেজে আবৃত  গোটাদেশ! শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সবার মনেই  এখন আনন্দের ঢেউ খেলা করছে।  ছোটছোট ছেলে-মেয়েরা বাবা-মায়ের সাথে শপিংমলে এসেছ্।ে যেন পাখীর কলরবে মুখরিত চারদিক!পথে-প্রান্তরে  মানুষের ঢল। যেন ঈদের আগেই আর এক মহামিলন!

দুপুর গড়িয়ে বিকেল, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। কিন্তু, বাবার অফিস  থেকে  আসার  নাম নেই। সিয়াম মনমরা হয়ে ঘরে বসে আছে।  কিছুই খাচ্ছে না সে। বাবা এলেই মার্কেটে যাবে । শিউলী বেগমও খুব চিন্তিত সিয়ামের বাবাকে নিয়ে।  এখনও আসে নি, এমন তো হয়নি কখনও তাঁর! বারকয়েক ফোন করেও পাওয়া গেল না তাঁকে। এদিকে ছেলেকে  তো  কোনোভাবেই বোঝানো যাচ্ছে না। সে মার্কেটে যাবেই। সিয়াম বাবাকে না-পেয়ে কেঁদেকেঁদে একাকার। শিউলী বেগম  খুব দুশ্চিন্তায় আছেন।  অপেক্ষায় বসে থাকতে থাকতে রাত প্রায় ১২টা।  সিয়ামও কেঁদেকেঁদে এতক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে। শিউলী বেগম  মনেমনে চিন্তা করছেন এখন কী করা যায়! কাকে ফোন করলে তাঁর খবর পাওয়া যাবে! সাতপাঁচ ভাবতেই হঠাৎ একটা ফোন এলো একটা অপরিচিত নম্বর থেকে । তিনি ভাবলেন, কার না কার ফোন, ধরবো কি ধরবো না দ্বিধাদন্দ্বে ভুগছেন।  আবার পরক্ষণেই ভাবলেন, সিয়ামের বাবার কোনো বিপদ  হলো না তো ! এলোমেলো ভেবে ফোন ধরে অপ্রস্তুত গলায় বললেন, কে বলছেন? কোত্থেকে বলছেন? কাকে চান? ওপাশ থেকে উত্তর এলো , আমি হাসপাতাল থেকে বলছি। আপনি কি মিসেস হোসেন বলছেন? হাসপাতালের কথা শুনে শিউলী বেগম আঁৎকে উঠলেন। ভাবলেন না-জানি কী দুঃসংবাদ এলো। নিজেকে সামলিয়ে বললেন, জ্বী । আমি মিসেস হোসেন বলছি। কী বলবেন !

-আপনার স্বামী এখন হাসপাতালে। সম্ভবত মলমপাটির খপ্পরে পড়েছিলেন তিনি!  আপনার স্বামীকে অচেতন অবস্থায়   আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করে গেছে দু’জন পথচারী। তবে চিন্তার কিছুই নেই। তিনি এখন বিপদ মুক্ত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ