ঢাকা, শুক্রবার 15 June 2018, ১ আষাঢ় ১৪২৫, ২৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঈদ মোবারক

ঈদ মোবারক। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সবাইকে জানাই ঈদ-শুভেচ্ছা। ঈদ মুসলিম জীবনে শুধু আনন্দ-বিনোদনের বিষয় নয়, ঈদের সাথে জড়িয়ে আছে পবিত্র চেতনা ও দায়িত্ববোধ। ঈদ-আনন্দ তো আসলে তাদের জন্যই, যারা পবিত্র কুরআনের বার্তা উপলব্ধি করে রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ মোতাবেক মাহে রমযানে সিয়াম পালনে সফল হয়েছেন। সিয়াম শুধু উপবাসের নাম নয়, সিয়ামের লক্ষ্য তাকওয়া অর্জন। শুধু ‘খোদা-ভীতি’ শব্দ দিয়ে তাকওয়ার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা যায় না। তাকওয়ার ব্যঞ্জনা আরো গভীর ও ব্যাপক। আমরা বর্তমানে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, রাষ্ট্রিক ও বৈশ্বিক পরিম-লে যেসব সমস্যা ও সঙ্কট লক্ষ্য করছি, তার সমাধানও কিন্তু তাকওয়ার মধ্যে নিহিত। কেউ কেউ ভাবতে পারেন হয়তো বেশি বলা হয়ে গেল। কিন্তু মহান স্রষ্টার কাছে জবাবদিহিতার চেতনায় যারা ঘর-সংসার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন তাদের উজ্জ্বল উদাহরণগুলো পর্যালোচনা করলে হয়তো আমরা বাস্তব ভিত্তি খুঁজে পাব। হযরত ওমর (রা.) কোন চেতনায় বলেছিলেন, ‘আমার বোঝা আমিই বহিব সোজা’। কোন চেতনায় রাষ্ট্রের শাসক হওয়ার পরেও নিজেই খাদ্যশস্যের বোঝা বহন করে নিরন্ন দরিদ্র নাগরিকের ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন? সেটা কি তাকওয়ার চেতনা নয়? এই চেতনা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, স্বয়ং আল্লাহ সিয়ামের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন- আশা করা যায় এর মাধ্যমে তোমরা তাকওয়া অর্জনে সক্ষম হবে।

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর যখন উদার আকাশে শাওয়ালের চাঁদ ওঠে তখন মুসলিম সমাজে আনন্দের ধারা বয়ে যায়। এটাই স্বাভাবিক এবং সঙ্গত। কিন্তু ঈদের পরে আমাদের পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রিক পরিম-লে যখন অনাকাক্সিক্ষত এবং অনৈতিক ঘটনা লক্ষ্য করা যায় তখন প্রশ্ন জাগে, আমরা সিয়াম ও ঈদের বার্তা গ্রহণে কতটা সক্ষম হয়েছি? পবিত্র রমযান মাসে আমরা যাকাত  ও ফেতরা প্রদানের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের প্রতি কর্তব্য পালনের যে শিক্ষা পাই, তা সারা বছর অব্যাহত থাকে না কেন? রমযানের রোজা তো আমাদের সংযম, জবাবদিহিতা ও মানবিকবোধের উন্মেষ ঘটিয়ে দরদী-সমাজ গঠনের চেতনা জাগ্রত করে। সেই চেতনা রমযান ও ঈদের পরে অব্যাহত রাখতে আমরা সমর্থ হচ্ছি না কেন? এমন আত্মসমালোচনা আমাদের জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে।

সিয়াম ও কিয়ামের মাস রমযান আমরা অতিক্রম করেছি। সিয়াম ও কিয়াম আমাদের চিন্তা-চেতনা ও জীবন-যাপনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে, তা আজ আমাদের বিবেচনা করে দেখতে হবে। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস যাদের কপালে জুটেছে; যারা এ মাসে স্রষ্টার আদেশ-নিষেধ পালনে সক্ষম হয়েছে, শাওয়ালের ঈদের চাঁদ তো তাদের জন্য আনন্দের বার্তাই বহন করে এনেছে। কিন্তু আনন্দের এই বার্তার মধ্যে উন্নত ও পবিত্র জীবন-যাপনের লক্ষ্যে যে দায়-দায়িত্ব বহনের নির্দেশনা রয়েছে তাও আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে উপলব্ধি, অন্বেষা ও কর্মতৎপরতার ঘাটতি থাকলে আমাদের ঈদ নিছক আনন্দ-উৎসবের স্থূল আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হতে পারে। যারা সিয়াম সাধনা করেছেন, রাতের দীর্ঘ কিয়ামে স্রষ্টার বাণীকে স্মরণ করেছেন, সিজদায় অবনত হওয়ার মাধ্যমে আনুগত্য প্রকাশ করেছেন, তাদের ঈদ তো শুধু আনন্দ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। আমরা যদি আসলেই সিয়াম ও ঈদের বার্তাকে ধারণ করার মতো যোগ্যতা অর্জন করে থাকি, তাহলে ঈদ-পরবর্তী সময়ে আমাদের পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিম-লেও তার ইতিবাচক প্রভাব আশা করতে পারি। এমন আশা কতটা পূরণ হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ