ঢাকা, শুক্রবার 15 June 2018, ১ আষাঢ় ১৪২৫, ২৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বুলবুল ও সেলিম উদ্দিনের ঈদ শুভেচ্ছা বাণী নগরবাসীকে

 

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীসহ মুসলিম উম্মাহর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। 

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার নগরবাসীর উদ্দেশ্যে এক শুভেচ্ছা বাণীতে মহানগরী নেতৃদ্বয় বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে খুশীর সওগাত নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের দ্বারে সমাগত। ঈদুল ফিতর ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে শান্তি ও সহমর্মিতার অনুপম শিক্ষা দেয় এবং সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের জন্যে অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা যদি বাস্তব জীবনে ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করতে পারি তাহলেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব। নেতৃবৃন্দ ঈদুল ফিতরের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বৈষম্য ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

 নেতৃদ্বয় বলেন, সরকারের গুম-খুন ও বিচার বহির্ভূত হত্যায় চারদিকে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও স্বজনহারা মানুষের আর্তনাদে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফলে এবারের ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দ অনেকটায় ম্লান হতে চলেছে। সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছে। এজন্য তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ কায়েম করে দেশের জণগণকে জিম্মি করে তাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ফলে জাতীয় জীবনে ঈদকে অর্থবহ ও আনন্দবহ করতে হলে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের কোন বিকল্প নেই। তাই নেতৃবৃন্দ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে নগরবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

নেতৃদ্বয় সর্বস্তরের নগরবাসীসহ মুসলিম উম্মাহর প্রতি পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং দেশের দুঃস্থ, দরিদ্র ও সঙ্গতিহীন মানুষের প্রতি ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে সমাজের বিত্তবান মানুষরা ঈদের আনন্দকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেলিম উদ্দিনের শুভেচ্ছা বাণী : পবিত্র ঈদুল ফিতরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক শান্তির সমাজ বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দেয়া পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে এক শুভেচ্ছা বাণীতে মহানগরী আমীর এসব কথা বলেন। সেলিম উদ্দিন বলেন, বছর ঘুরে আবারও আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে মহামহিমান্বিত ও বরকতপূর্ণ ‘ঈদুল ফিতর’। ঈদ মুসলিম উম্মাহর জীবনে নিয়ে আসে অনাবিল আনন্দ। আমাদের জাতীয় জীবনেও ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব অপরিসীম। দীর্ঘ একমাস সিয়াম ও কিয়াম সাধনার পর ঈদ উৎসব মুসলিম উম্মাহর প্রতি মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে এক মহানিয়ামত। ঈদুল ফিতরের দিনে মুসলমানরা মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে জমায়েত হওয়ার সুযোগ লাভ করেন; জামায়াতবদ্ধ হন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপনের জন্য। ঈদের অনাবিল আনন্দে মুসলিম উম্মাহ শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত শান্তির সমাজ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করেন। তাই ঈদুল ফিতরের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম।

তিনি বলেন, রহমত, মাগফিরাত ও নাযাতের বারতা নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়েছিল মহিমান্বিত মাস মাহে রমযান। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যাতে পবিত্র মাহে রমযানে যথাযথ ও নির্বিঘেœ সিয়াম সাধনা ও কিয়াম পালন করতে পারেন তার নিশ্চয়তা বিধান করার দায়িত্ব ছিল মুলত সরকারের। কিন্তু সরকারের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার  কারণেই ধর্মপ্রাণ মানুষের সিয়াম ও কিয়াম নির্বিঘœ হতে পারেনি। মাহে রমযানের পবিত্রতা রক্ষা ও সিয়াম সাধনাকে সফল এবং স্বাার্থক করতে সহযোগিতা করা সরকারের দায়িত্ব হলেও তারা সে দায়িত্ব পালন করেনি। যা সরকারের দায়িত্বহীনতা ও ব্যর্থতায় প্রমাণ করে। 

তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থের কথা বিবেচনায় না নিয়ে জাতীয় সংসদে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী বাজেট পেশ করেছে। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলা হলেও  ঘোষিত বাজেট প্রায় দেড় লক্ষকোটি  টাকা ঘাটতি দেখানো হয়েছে। মূলত এই বাজেটে উচ্চ শ্রেণির মানুষকে অনুকূল্য দেয়া হয়েছে। অনাকাক্সিক্ষতভাবে করের বোঝা চাপানো হয়েছে নিম্মবিত্তের মানুষের ওপর। মূলত মহল বিশেষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীর কারণেই পবিত্র মাহে রমযান যেমন গণমানুষের কাছে নির্বিঘœ হয়নি, ঠিক তেমনিভাবে ঈদের আনন্দটাও অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। তাই জাতীয় জীবনে ঈদকে অর্থবহ ও আনন্দঘন করতে হলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। 

তিনি মাহে রমযানের তাৎপর্য ও ঈদুল ফিতরের শিক্ষা ধারণ করে শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান এবং সকল স্তরের নগরবাসীর প্রতি পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ