ঢাকা, শুক্রবার 15 June 2018, ১ আষাঢ় ১৪২৫, ২৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দ্বিতীয় বারের মত নির্জন কারাগারে  ঈদ কাটবে খালেদা জিয়ার

 

স্টাফ রিপোর্টার : পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারের নির্জন কক্ষে এবার ঈদ কাটবে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা, সাবেক প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার। কারাগারে বেগম জিয়ার এটি প্রথম ঈদ নয়। ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সরকারের সময়ে সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ কারাগারে বেগম জিয়াকে ঈদ কাটাতে হয়েছিল। 

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টিকে সরকার রাজনৈতিক বিষয়ে পরিণত করেছে।  বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও অন্যায়ভাবে এবং তার  দেয়া জবানবন্দী বিকৃত করে একটি আদালত তাকে পাঁচ বছরের জেল দিয়ে সরকারের ইচ্ছা পূরণ করেছে। বর্তমানে তাকে একটি পরিত্যক্ত ঘোষিত নির্জন কারাগারের একমাত্র বন্দী হিসেবে রাখা হয়েছে। ৭৩ বছর বয়স্কা এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে যে পরিবেশে রাখা হয়েছে তা যেকোন সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করে ফেলার মতো। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থাইটিস, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। তার দুই হাঁটু এবং দুই চোখেই অপারেশন করতে হয়েছে। ফলে তাকে সবসময়ই যোগ্য চিকিৎসকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়। অথচ নির্জন এই কারাগারে তাকে দেখার জন্য জুনিয়র ডাক্তার ও ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ করে সরকার দাবি করছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩ বারের নির্বাচিত এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীর স্বাস্থ্যের যে অবস্থা তাতে তাকে সর্বক্ষণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে এবং জরুরী পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা একান্তই জরুরী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর্থাইটিস এর ব্যথা বৃদ্ধির ফলে তিনি চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়ছেন এবং পাশাপাশি তার অপারেশন করা চোখ লাল হয়ে আছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত তার উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হতে পারে। 

আগের বছরগুলোতে পরিবারের সদস্যদের ছাড়া ঈদ করলেও সান্ত¡না শুধু এইটুকু যে, ঈদের দিন অসংখ্য নেতাকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীদের নিয়ে তিনি ঈদ করেছেন। আর যখনই মনে পড়েছে টেলিফোনে ছেলেদের সাথে কথা বলে মনকে সান্ত¡না দিয়েছেন। ঈদের দিন সবার আগে ফজরের নামায শেষে চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকা দুই ছেলের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। কথা বলতেন ছেলের বউ আর নাতনিদের সাথে। এবার আর তাদের ফোন করার সুযোগ নেই। আদরের নাতনি, ছেলে আর ছেলের বউদের কারো কন্ঠই তিনি শুনতে পাবেন না। 

এদিকে মা বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে ঈদ করায় আনন্দ নেই বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। নিরানন্দ ঈদ কাটবে নেতাকর্মীদের। কাছে না থাকলেও দূর থেকে মায়ের কন্ঠটা শুনতে পাবেন না তিনি। ঈদের দিন নাতনি জাইমা রহমান, পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়ার সাথে কথা বলতেন তিনি। মাঝে কয়েকটা ঈদে নাতনিদের কাছে পেয়েছিলেন বেগম জিয়া। এবারো কেউই নেই তার পাশে। বাবাকে হারানোর যে কষ্ট তা কোকোর মেয়েরা দাদিকে কাছে পেয়ে ভুলতে চেয়েছিল। কিন্তু এবার সেই সুযোগও নেই। ওয়ান ইলেভেনের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হন খালেদা জিয়া। ওই সময় তার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোও গ্রেফতার হন। ৩৭২ দিন সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ কারাগারে আটক থাকার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ২০০৭ সালের দুটি ঈদ কারাগারে কেটেছে তার। পরে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। তিনি এখন সেখানেই আছেন। সঙ্গে আছেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। আরাফাত রহমান কোকোও প্যারোলে মুক্তি নিয়ে থাইল্যান্ড যান। তার স্ত্রী শর্মিলা রহমান, দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানও ছিলেন তার সঙ্গে। ২০১৫ সালের ২৪ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ