ঢাকা, শুক্রবার 15 June 2018, ১ আষাঢ় ১৪২৫, ২৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভোগান্তির শেষ নেই তবুও যেতে হবে

মুহাম্মদ নূরে আলম: প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে শেষ মুহূর্তে গতকাল বৃহস্পতিবার এবং আজ শুক্রবার রাজধানী ছাড়বে মানুষ। সদরঘাট, সায়দাবাদ, গাবতলী, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং বিমানবন্দর স্টেশন ও কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এদিকে বিভিন্ন ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। এতে রেলপথে বাড়িফেরা মানুষ বিশেষ দুর্ভোগে পড়ছেন। এ নিয়ে টিকেট কাটা যাত্রীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যাত্রীরা বলছেন, অনেক কষ্ট করে ট্রেনের টিকিট কেটেছেন। তারপরও রীতিমত যুদ্ধ করে ট্রেনে চড়তে হয়েছে। বগির ভেতর শুধু করিডরে নয়,অনেক যাত্রীকে সিটের হাতলেও বসতে হয়েছে।

১৪ জুন, বৃহস্পতিবার ট্রেনে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন ৫ জুন অগ্রিম টিকেট কেনা যাত্রীরা। এদিন সকালে রাজশাহী, দেওয়ানগঞ্জ, পার্বতীপুর, লালমনিরহাট ও খুলনার উদ্দেশে পাঁচটি বিশেষ ট্রেন ছেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ৫৯টি ট্রেন ছেড়ে যায়। বন্ধ রয়েছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ১০টি লোকাল ট্রেন চলাচল। সকালে কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের পর কমলাপুর স্টেশন ছেড়েছে। দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল ট্রেনের ছাড়ার সময় ছিল সকাল পৌনে ৯টায়, তা ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের পৌনে একঘণ্টা পর। লালমনিরহাটের লালমনি ঈদ স্পেশাল ট্রেন বেলা সোয়া ৯টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা। পরে এটি ছাড়ে বেলা ১১টায়। 

এছাড়া রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ৯টায় ছাড়ার কথা থাকলেও তা সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ছেড়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস কমিউটার ট্রেন সকাল সাড়ে ৯টার পরিবর্তে ২০ মিনিট দেরি করে বেলা ৯টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে গেছে। জামালপুরের তারাকান্দি রুটের অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেন আধাঘণ্টা দেরি করে সকাল সোয়া ৯টায় ছেড়েছে।

অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী আলীমুজ্জামান জানান, ট্রেনের বগির ভেতরের অবস্থা ভালো না। তিনি প্রথম শ্রেণির এসি চেয়ার কোচের টিকেট কিনেছেন। কিন্তু সিট ভাঙা। এরমধ্যে কয়েকটি সিট পেছনে কাত হয়ে যায়। সোজা হয়ে বসা যায় না। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণির এসি বগিতে বিনা টিকেট অর্ধশত যাত্রী দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করেন। কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, বুধবার আগের চেয়ে ভিড় বেশি হয়েছে। কয়েকটি ট্রেন সামান্য দেরি করেছে। তবে ঈদের সময় ১৫-২০ মিনিট দেরি করে যাওয়া বড় কিছু নয়।

শহীদ সেলিনা পারভীনের ছেলের ট্রেনে কাটা পড়া লাশ উদ্ধার: শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের ছেলে সুমন জাহিদের (৫৩) ট্রেনে কাটা পড়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে খিলগাঁওয়ের বাগিচা নামক এলাকা থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য তার লাশটি ট্রেনে কাটা পড়া ছিল। তিনি ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে। নিহত সুমন জাহিদের শ্যালক সরোয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, ট্রেনে কাটা পড়ে লাশ বিকৃত হয়ে গেছে। নিহত সুমন দুই সন্তানের জনক ছিলেন। সুমন জাহিদ উত্তর শাহজাহানপুর এলাকায় থাকতেন। 

গাজীপুরে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ২ যুবক নিহত : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ধীরাশ্রম এলাকায় ঢাকা-জয়দেবপুর রেললাইনে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) এসএম রকিবুল হক জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুর কমিউটার ট্রেন ধীরাশ্রম এলাকায় পৌঁছালে ছাদ থেকে ওই দুই যুবক পড়ে যান। এসময় ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তারা দু’জন মারা যান। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে তাদের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর। 

ঈদে লঞ্চযাত্রা: পবিত্র ঈদুল-ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা থেকে চাঁদপুরে ফেরা শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। এই পথে নৌ-চলাচল অনেকটা আরামদায়ক আর সস্তা হওয়ার কারণে অধিকাংশ মানুষই যাতায়াত করেন লঞ্চে। কিন্তু ঈদযাত্রায় আইনের তোয়াক্কা না করে লঞ্চগুলোতে বহন করা হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী। ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলো ৭শ’ থেকে ৮শ’ যাত্রী বহনের জায়গায় এখন ঢাকা থেকে ২-৩ হাজার যাত্রী নিয়ে আসছে। এতে যাত্রীরা যেমন দুর্ভোগে পড়ছেন তেমনি বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি। এ ছাড়া পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী বয়াও নেই এসব লঞ্চে। ১৪ জুন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১৫/১৬টি যাত্রীবাহী লঞ্চ ঢাকার সদরঘাট থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর ঘাটে আসে। লঞ্চগুলোর প্রতিটিতে গড়ে ২ হাজারের মতো যাত্রী ছিল। এমভি ইমাম হাসান-৫ ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর ঘাটে আসে। এ লঞ্চে যাত্রী ছিল প্রায় ৩ হাজার। এরপর ঘাটে ভিড়তে থাকা এমভি আল-ওয়ালিদ-২, এমভি গ্রিন লাইন-৭, বোগদাদিয়া-৭, সব লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রী দেখা গেছে।

ঘাটে আসা লঞ্চগুলোতে দেখা যায়, এমনভাবে যাত্রীদের উঠানো হয়েছে যে অনেকের দাঁড়িয়ে থাকাও ছিল কষ্টকর। অনেকে লঞ্চের ছাদে করেও এসেছেন। যাত্রীদের মধ্যে শিশু ও নারীদের বেশি কষ্ট পোহাতে দেখা গেছে। তাদের গরমের মাঝে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হয়েছে বলে কয়েকজন নারী যাত্রী অভিযোগ করেছেন। এমভি বোগদাদিয়া-৭ লঞ্চের যাত্রী ইমরান হোসেন ও সিয়াম হোসেন জানান, ঢাকার সদরঘাটে লঞ্চগুলো ভিড়তেই মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীতে ভরপুর হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘাট ছাড়ছে লঞ্চগুলো। স্থানীয় লঞ্চ মালিকদের প্রতিনিধি আলী আজগর জানান, চাঁদপুর-ঢাকা নৌ-রুটে ২৪-২৫টি লঞ্চ চলাচল করে। এ ছাড়া অন্য লাইনের লঞ্চগুলোও চাঁদপুর ঘাট হয়ে যাতায়াত করে। সকাল থেকে যত লঞ্চ সদরঘাট থেকে চাঁদপুরে এসেছে সবগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। কিন্তু চাঁদপুর থেকে যেসব লঞ্চ ঢাকা যাচ্ছে সেগুলোতে কোনো অতিরিক্ত যাত্রী নেই।

বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, তারা চাঁদপুর ঘাট থেকে অতিরিক্ত যাত্রী বহন নিয়ন্ত্রণ করছেন। যাত্রীদের পন্টুন থেকে উপরে উঠার জন্য কিছুদিন আগে একটি নতুন জেটি চালু করা হয়েছে। এতে যাত্রীদের পারাপার সহজ হচ্ছে।

ঈদযাত্রায় হয়রানির অভিযোগ যাত্রী কল্যাণ সমিতির: ঈদযাত্রায় যাত্রীসাধারণ যাত্রাপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ‘নৈরাজ্য’ ও ‘পদে পদে হয়রানি’র শিকার হচ্ছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি নামের একটি সংগঠন। তারা দ্রুত এই নৈরাজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

সায়েদাবাদের বাসচালক-হেলপারদের মনে হতাশা: সকাল থেকে চিল্লাইতে চিল্লাইতে গলা বইসা গেছে। ঈদের আগে যাত্রী আইসা টিকেটের জন্য যেখানে কাড়াকাড়ি করবে, সেখানে ডাকাডাকি করেও যাত্রী পাই না। সায়েদাবাদে ঘরমুখো যাত্রী কম থাকায় হতাশ হয়ে কথাগুলো বলছিলেন কন্ডাক্টর চান মিয়া। ঈদুল ফিতরের আর মাত্র একদিন বা দুইদিন বাকি। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) সকালে সয়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায় প্রায় সব রুটেই ঘরমুখো যাত্রী তুলনামূলক কম। যাত্রী কম থাকায় হতাশ বাসচালক-হেলপাররা। সয়েদাবাদ জনপদ মোড়ে শ্যামলী, ইকোনো, হানিফসহ বিভিন্ন বাস কাউন্টারগুলোতে খুব একটা যাত্রী দেখা যায়নি। সিট পূরণ না হওয়ায় বেশির ভাগ বাসই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছাড়ছে। জনপদ মোড়ের দুই পাশের কাউন্টারগুলোর একই দৃশ্য। কোনো কোনো কাউন্টারে কিছু যাত্রী থাকলে বেশির ভাগ কাউন্টারই ফাঁকা। সায়দাবাদ মূল টার্মিনালের ভেতরের দৃশ্য আরও করুণ। এখানে একটা অংশে একজন যাত্রীও চোখে পড়েনি। অন্য একটা অংশে ৮/১০ যাত্রী দেখা গেছে। যাত্রী না থাকায় খোশ গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন কয়েকজন বাসচালক, কন্ডাক্টর ও হেলপার। অনেকে আবার যাত্রী যোগাতে এদিক ওদিক ছুটোছুটি করছেন।

সিডিএন বাসের কন্ডাক্টর চান মিয়া বলেন, যাত্রী কম। এত কম বোঝাতে পারবো না। সকাল থেকে শুধু চিল্লাইয়ে যাচ্ছি। যাত্রী নাই। গলা বসে গেছে। ঈদের আগে এ সময় যাত্রীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে যেখানে আমাদের বেগ পেতে হতো সেখানে ডাকাডাকি করেও যাত্রী পাই না। আমরা এবার ভাতে মরবো। তিনি জানান, এবার ছুটি কম। মেঘনা ও গোমতি ব্রিজের জ্যামের ভয়ে অনেকে বাড়ি যেতে সাহস পাচ্ছেন না। আবার অনেকে লঞ্চে চাঁদপুর গিয়ে সেখানে থেকে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীর দিকে যাচ্ছেন। ইকোনো বাস কাউন্টারের ম্যানেজার তানভীর বলেন, জ্যাম শুনতেছি কিছু আছে। সকাল ৭টা পর্যন্ত যাত্রীর কিছুটা চাপ ছিল। এরপর থেকে যাত্রী অনেক কম।

ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন গাবতলী বাস টার্মিনাল: রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল হঠাৎ আগুনের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। টার্মিনালের পাশে আবর্জনা থেকে এ আগুনের সূত্রপাত। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শিশু ও শ্বাসকষ্টের সমস্যায় আছেন এমন যাত্রীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে প্রায় সব যাত্রী বের হয়ে যান টার্মিনাল থেকে। এভাবে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ধোঁয়ায় কষ্ট করতে থাকেন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা।

এসময় যাত্রীদের পক্ষে একজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কল্যাণপুর কন্ট্রোল থেকে একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। প্রায় ৩০ মিনিট চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। যেভাবে আগুনের সূত্রপাত, গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনে বেড়িবাঁধ বাইপাসের পাশে লিচুর পাতা স্তুপ করে রাখা আছে। সঙ্গে ফেলা আছে বিভিন্ন কাগজ, টার্মিনালের উচ্ছিষ্ট। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে কারো মাধ্যমে বা কারো ফেলা সিগারেট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। আনিস আহমেদ নামে এক যাত্রী বলেন, আমি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ধোঁয়া দেখতে পাই। আস্তে আস্তে ধোঁয়া বাড়তে থাকে। পরে যাত্রী বিশ্রামাগার থেকে বের হয়ে রাস্তায় চলে আসি। সেখানে বসার পরিস্থিতি ছিল না। শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। 

প্লেন ভাড়া বেড়ে ডাবল-ট্রিপল: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে শুরু করে প্রাইভেট সব ক’টি এয়ারলাইন্স বাড়িয়েছে টিকিটের দাম। প্লেন টিকিটওয়ালারা বা এয়ারলাইন্সগুলোর এখন বাম্পার অবস্থা। ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রুটে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে সারা বছরের গড় ভাড়ার ডাবল-ট্রিপল। ঈদ উপলক্ষে দূরপাল্লার বাস ভাড়া বাড়লে চারদিকে শোরগোল শুরু হলেও প্লেনের ভাড়া বাড়ানোর এই বিষয়ে সবাই নীরব। জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে শুরু করে প্রাইভেট সব ক’টি এয়ারলাইন্সে একই হাল। প্রত্যেকটি এয়ারলাইন্সে দ্বিগুণ-ত্রিগুণ করা হয়েছে টিকিটের মূল্য। দেশের সবচেয়ে স্বল্প দূরত্বের রুট ঢাকা-যশোর। ১৮ থেকে ২২ মিনিট যাত্রার এই রুটে প্রাইভেট এয়ারলাইন্সগুলোতে স্বাভাবিক সময়ে সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকায়ও টিকিট পাওয়া যায়। কিন্তু ঈদের সময়ে ভাড়ার শুরুই সাড়ে ৪ হাজার টাকা থেকে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন টিকিটেরই ভাড়া বেড়ে গেছে প্রায় আড়াই হাজার টাকা। এয়ারলাইন্স ভেদে সর্বনিম্ন ভাড়ার অংকেও অনেক তারতম্য দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো এয়ারলাইন্সে সাড়ে ৫ হাজার টাকার নিচেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিক সময়ে সর্বোচ্চ ভাড়া আদায় করা হয় সাড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা। অথচ এখন সর্বনিম্ন ভাড়াই তা ছুঁয়ে গেছে, আর সর্বোচ্চ উঠে গেছে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটেও অবস্থা একই। এই রুটে সর্বনিম্ন ২৯শ’ টাকায় টিকিট পাওয়া যেতো। কিন্তু এখন টিকিট খুঁজতে গেলেই ৪ হাজারের নিচে কথা বলা যাচ্ছে না। সমান অবস্থা ঢাকা-সৈয়দপুর ও ঢাকা-সিলেট রুটেও। এ দুই রুটেও ঈদ উপলক্ষে দেড় থেকে দুইগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে অন্য সময়ে ৩২শ’ টাকায় টিকেট পাওয়া গেলেও ২০ জুনের পর নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোতে ৫ হাজার টাকার নিচে কোনো টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বোচ্চ ভাড়া সাড়ে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। প্রাইভেট এয়ারলাইন্সগুলোর এই গলাকাটা ভাড়া নেয়ার বাইরে নেই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও। বিমান গত ৭ জুন বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। সেখানে তারা ১৮ জুন পর্যন্ত অফার দিয়েছে। তাদের এই বিজ্ঞপ্তির বার্তা হলো- ঈদে ঘরে ফেরার যাত্রা যখন অন্য সময় আমরা ছাড়ে টিকিট বিক্রি করি। কিন্তু ঈদ এলে যেহেতু এমনিতেই চাহিদা থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ