ঢাকা, শুক্রবার 15 June 2018, ১ আষাঢ় ১৪২৫, ২৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে তিনি নোংরা রাজনীতি করছেন  --- রিজভী

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নোংরা রাজনীতি করছেন মন্তব্য করে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেট হাসপাতাল ছাড়া কোথাও চিকিৎসা করানো হবে না । রাস্তাঘাটে কোনো যানজট নেই, মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র নেতা বলেন, সেতুমন্ত্রীর বক্তব্য জনগণের সঙ্গে ইয়ার্কি ঠাট্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন। 

রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে সরকার। কারাগারের ভগ্নস্তূপের গুমোট পরিবেশে চিকিৎসাহীন দেশনেত্রী ট্র্যানজিয়েন্ট স্কীমিক এ্যাটাক্ (টিআইএ) এ আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হলেও এখনও তার চিকিৎসার সুরাহা করেনি সরকার। তার জীবন আশঙ্কার মতো পরিস্থিতি তৈরী হলেও দীর্ঘসূত্রতা করে বেগম জিয়াকে কোন বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কী না তা নিয়ে দেশের সর্বত্র মানুষের মনে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। কারণ রাজনৈতিক ময়দানে শেখ হাসিনার একমাত্র প্রতিপক্ষ বেগম খালেদা জিয়া। দেশনেত্রীকে মাইনাস করতে পারলে রাজনীতির ময়দানে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে কোন অসুবিধা থাকবে না। শেখ হাসিনা বিচারিক প্রক্রিয়াকে কব্জায় নিয়ে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বীকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে দূরে সরিয়ে দিতেই দেশনেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে কালক্ষেপণ করছে এবং মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের দিয়ে আজেবাজে কথাবার্তা বলাচ্ছে। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনকে যে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দী করা হয়েছে, তিনি সেই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত। অথচ নি¤œ আদালতে জামিনযোগ্য মামলায় কূটকৌশল করে তার জামিন পাওয়ার পথ পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ কাজটি করা হচ্ছে স্বয়ং সরকার প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে। তার উদ্দেশ্য পরিষ্কার, তা হলো রাজনৈতিক ময়দান থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে সরিয়ে দেয়া। জনতার স্মৃতিতে বাসি হওয়ার কোন সুযোগ নেই যে-শেখ হাসিনা যখন বন্দী ছিলেন তখন তিনি বেসরকারী স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন, প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আব্দুল জলিল সাহেবও ল্যাব এইডে চিকিৎসা নিয়েছিলেন, বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রী মো: নাসিমও কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক তাকে ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাহলে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিনবারের বিরোধীদলীয় সাবেক নেতা, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আপোষহীন নেত্রী এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে যার অবদান অপরিসীম, তার মতো জননন্দিত একজন নেত্রীকে চিকিৎসার নামে শর্ত আরোপ হচ্ছে তাকে চিকিৎসা না দিয়ে সরকার বিপজ্জনক নীলনকশা আঁটছে। চিকিৎসা সেবা না দেয়ার জন্যই সরকারের এসব শর্তারোপ। আর শেখ হাসিনার নির্দেশেই দেশনেত্রীকে যথাযথ চিকিৎসা না দিতে দুরভিসন্ধিমূলক বিলম্ব ঘটিয়ে তার জীবন নিয়ে নিখুঁত চক্রান্ত করা হচ্ছে। আর এই চক্রান্তজাল বোনার ঘটনা জনগণের কাছে অজানা থাকছে না। দেশনেত্রীর জীবন নিয়ে শেখ হাসিনার এই নিষ্ঠুর তামাশা দেশের কোটি কোটি মানুষের মনে সরকারবিরোধী ঘৃণার জন্ম দিয়েছে। 

রিজভী বলেন, বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই-পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসকদের চিকিৎসা নেয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। আর কোন শর্তারোপ নয়, বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা নিন। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া কোথাও চিকিৎসা নেবেন না। যে নির্দয়, অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ দেশনেত্রীর সঙ্গে করা হচ্ছে তাতে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এই গভীর ক্ষোভ থেকেই একদিন কড়া জবাব পাবে সরকার প্রধান ও তার সরকার। খুব শীঘ্রই জনতা অন্যায়ের প্রতিবাদে শূন্যে মুঠি তুলে রাস্তায় বাঁধভাঙ্গা ঢলের সৃষ্টি করবে। 

রাস্তাঘাটে কোনো যানজট নেই, মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র নেতা বলেন, সেতুমন্ত্রীর বক্তব্য জনগণের সঙ্গে ইয়ার্কি ঠাট্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। সড়ক ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের সাহেব সম্পূণরূপে ব্যর্থ।

রিজভী বলেন, ‘আর একদিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের বাড়িমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগকে আমলে না নিয়ে গতকাল সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন-রাস্তাঘাটে কোনো যানজট নেই, মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ঈদে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। খানাখন্দে ভরপুর রাস্তাঘাটে বৃষ্টির পানি, কাদা লুটোপুটি খাচ্ছে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষ।

তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-উত্তরাঞ্চল, ঢাকা-ময়মনসিংহসহ সকল সড়ক-মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটে পড়ে মানুষকে সীমাহীন কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। শুধুমাত্র টঙ্গী-জয়দেবপুর পার হতেই লাগছে ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা।

তিনি বলেন, বেশির ভাগ লোক ঝুঁকছে ট্রেনের দিকে, সেখানে দুর্ভোগের সীমা নেই, সিডিউল বিপর্যয় আর যাত্রীদের ভিড়ে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে বাদুড়ঝোলা ঝুলে বাড়ি যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে মানুষ।

এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ঈদের আগেই বেগম জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। তিনি জানান, ঈদেও বিএনপির নেতাকর্মীরা আনন্দে নেই। তবে দলের নেতাকর্মীরা মাযারে যাবেন। জেলগেটে যাবেন। সিনিয়র নেতারা বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে আবেদন করেছেন বলেও জাানান রিজভী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ