ঢাকা, শুক্রবার 15 June 2018, ১ আষাঢ় ১৪২৫, ২৯ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

৩০ কোটি টাকা বাঁচাতে অসমাপ্ত অবস্থায় শেষ হচ্ছে  ডুমুরিয়ার ভদ্রা ও শালতা নদী পুনঃখনন প্রকল্প

 

খুলনা অফিস : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে ভদ্রা ও শালতা নদী পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় দিঘলিয়া ও তেলিগাতি প্রান্তে দু’টি স্লুইচগেট নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে ঘটছে উল্টো ঘটনা। ৩০ কোটি টাকা বাঁচাতে ওই দু’টি স্লুইচ গেট নির্মাণ ছাড়াই অসমাপ্ত অবস্থায় এ প্রকল্পের কাজ করা হচ্ছে। ফলে ওই নদী খননের আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অবশ্য পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পার্শ্ববর্তী হামকুড়া নদী খননের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, তাই পূর্বের ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ১২ থেকে ১৩ বছর আগেও ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা-শালতা নদী ঘিরে হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা চলতো। জোয়ার-ভাটা, মাছ শিকার ও নৌ-যান চলাচল ছিলো নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র। অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ছিল নদী দু’টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু কালের বিবর্তনে ও নানা প্রতিকূলতার মুখে ভদ্রা ও শালতা নদীতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পলিপড়ে নাব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়ে যায়। আর ভরাটের সাথে সাথে নদীর বুক জুড়ে শুরু হয় অবৈধ দখল। প্রভাবশালীরা যে যার মত করে ভরাট হওয়া নদীর বুক দখল করে নেয়। দখলবাজ চক্র নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভরাট হওয়া জমিতে গড়ে তোলে বসত বাড়ি, রাইস মিল, স মিল, বাজার, বহুতল ভবনসহ নানা স্থাপনা। যার ফলে ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় করুণ পরিণতির সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক  বসত বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। এমন সব পরিস্থিতিতে ২০০৫ সালে নদী দু’টি খননের উদ্যোগ নেয় খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু নানা জটিলতায় প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে লাল ফিতা বন্দী হয়ে পড়ে। এরপর ফের উদ্যোগটি বাস্তবায়নে ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ওই নদী দু’টি খননের জন্য ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল (ডিপিপি) জমা দেয়া হয়। যার প্রেক্ষিতে প্রকল্পটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সরকার গত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একনেকের বৈঠকে ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়। যার বাস্তবায়ন মেয়াদ নির্ধারণ করা  হয় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছর। 

ডিজাইন ও এষ্টিমেট অনুযায়ী ভদ্রা নদী দক্ষিণ অংশে ডুমুরিয়ার দিঘলিয়া (স্থানীয় নাম দিঘেলা) থেকে ডুমুরিয়া বাজার পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং উত্তরাংশের তেলিগাতি হতে ডুমুরিয়া বাজার পর্যন্ত ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার খননের কথা। এছাড়া সালতা নদীটি ডুমুরিয়া বাজারের ভদ্রা নদী থেকে শুরু হয়ে ৯ কিলোমিটার খনন করে শৈলমারি নদীতে সংযুক্ত করা হবে। নদীর প্রস্থ ১২০ ফুট এবং গভীরতা ১২ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত খনন হবে। 

জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে গত বছর ৯টি প্যাকেজে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কাজগুলো পায় আর বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমিন এন্ড কোং, হাসান এন্ড ব্রাদার্স, কেএসএল জেভি, রানা বিল্ডার্স, সালেহ আহমেদ ও কামরুল এন্টারপ্রাইজ। ইতোমধ্যে শতকরা ৯৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের অন্যতম অঙ্গ দিঘলিয়া ও তেলিগাতি প্রান্তে দু’টি স্লুইচগেট নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে এখন ঘটছে উল্টো ঘটনা। ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই দু’টি স্লুইচ গেট নির্মাণ না করেই এ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করা হচ্ছে। 

বিশেজ্ঞরা বলছে, দুই প্রান্তে স্লুইচগেট নির্মাণ না করলে জোয়ার-ভাটায় এক বছরই পলিতে নদী ফের ভরাট হয়ে যাবে। এছাড়া লবণ পানি প্রবেশ করলে কৃষি কাজেও ওই পানি ব্যবহার করা যাবে না। ফলে নদী খননের ব্যয় হওয়া পুরো টাকা পানিতে যাবে। আর ওই নদী খননের আসল যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সেটিও ব্যাহত হওয়ার অশঙ্কা রয়েছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. লুৎফর রহমান বলেন, আইডাব¬ুএম প্রকল্প নিয়ে স্টাডি করছে। স্টাডির মধ্যে একটি অন্যতম পরিকল্পনা হামকুড়া নদী খনন করা। হামকুড়া নদী খননের জন্য স্লুইচগেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ