ঢাকা, মঙ্গলবার 19 June 2018, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজর
Online Edition

রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

ঈদের ছুটিতে রাজধানীর শহীদ জিয়া শিশু পার্কের চিত্র -সংগ্রাম

মুহাম্মদ নূরে আলম : ঈদ মানে আনন্দ ঈদ মানে খুশি। নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে ঢাকা ছেড়েছে গত শুক্রবার প্রায় সবাই। এখন ফাঁকা ঢাকা, এবার যারা ঢাকায় ঈদ করেছেন তারা একটু আনন্দ উল্লাস ভাগাভাগি করতে পরিবারের সদস্যদের সাথে উদযাপদ করার জন্য ছুটছেন রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রেগুলোর দিকে। তাই ঈদের ছুটিতে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। তীব্র গরম আর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে এখন বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে মেতে উঠেছেন ঈদ আনন্দে। গত রোবার এবং গতকাল সোমবার  ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয়দিনে যানজটের চিরচেনা রাজপথে ছিল শুনশান নীরবতা। তবে এই নীরবতা ভেঙেছে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে। রাজধানীর প্রত্যেকটি বিনোদন কেন্দ্রে টয়লেট সংকট রয়েছে। আরও রয়েছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং উৎকট দুর্গন্ধ।  ঢাকা চিড়িয়াখানায় হাজার হাজার দর্শনার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ২টি টয়লেট।
প্রিয় মানুষকে নিয়ে রাজধানীর হাতিরঝিল, শিশু পার্ক, চিড়িয়াখানা, রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, আগারগাঁওয়ে বিমান বাহিনী জাদুঘর এবং বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার দেখতে বেরিয়েছেন অনেকে। গত শনিবার ঈদের দিন ও গত রোববার এবং গতকাল সোমবার দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর শাহবাগের শিশু পার্কের প্রবেশপথসহ শিশুপার্ক এলাকায় শিশু ও তাদের অভিভাবকদের যেন ঢল নেমেছে। নভোযান, এসো গাড়ি চড়ি, রেলগাড়ি, চাকা পায়ে চলাসহ প্রতিটি রাইডে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানায়ও ছিলো উপচে পড়া ভিড়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে সালমা আক্তার, কেয়া ও সোহান ভূঁইয়া এসেছেন তাদের বাবুল মামার সঙ্গে চিড়িয়াখানা দেখতে।
তারা জানান, আগে আরও একবার চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন মা-বাবার সঙ্গে। তখন বেশ ছোট ছিলো। তবে এখানকার টয়লেট নিয়ে দর্শনার্থীদের চরম দুর্ভোগের কথা জানালেন তিনি। টিকিট কেটে চিড়িখানায় ঢোকার পরও টয়লেটে যেতে স্থানীয় ইজাদারের লোকেরা জোর করে ১০ টাকা আদায় করছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা জানান, তারাও জিম্মি স্থানীয় এই গ্রুপটির কাছে। হাজার হাজার দর্শনার্থীর জন্য মাত্র দুটি টয়লেট। চিড়িয়াখানা সংলগ্ন বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রবেশমুখে কথা হয় খোমেনী আহসান নামে সপরিবারে আসা এক চাকরিজীবীর সঙ্গে। পরিবার নিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনে এসেছেন তিনি। ঈদের এই ছুটিতে রাজধানীর সব বিনোদন কেন্দ্রকে হার মানিয়েছে হাতিরঝিল। ঈদ আনন্দ যেন এখানে উপচে পড়েছে। রোবার সকাল থেকেই নগরবাসীর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে হাতিরঝিল। বিনোদনপ্রেমীরা উপভোগ করছেন এখানকার সৌন্দর্য। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখানকার ভিড় বাড়ছেই। এদিকে, ঈদ উপলক্ষে হাতিরঝিলও সেজেছে নতুন সাজে। নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে চক্রাকার বাস ও ওয়াটার বোট।
রাজধানীর শ্যামপুরে অবস্থিত বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। শহরের কোলাহল ছেড়ে রাজধানীর উপকণ্ঠ শ্যামপুরে প্রায় সাত একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয়েছে পার্কটি। সবুজ বৃক্ষরাজি আর বুড়িগঙ্গা নদী মিলে পার্কটিকে করে তুলেছে নয়নাভিরাম। পার্কে বসে অনেককেই গল্পে মশগুল থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া সায়েদাবাদের ওয়ান্ডারল্যান্ড এবং ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্ক ও সোনারগাঁয়ের লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগের জন্য ভিড় জমাচ্ছেন।
সকালে ধানমন্ডি লেক পাড়ে দেখা যায়, অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে ঘুরতে এসেছেন। নব বিবাহিত ছাড়াও উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েদের ঘুরতে দেখা গেছে। ঈদের দিন আত্মীয় স্বজনদের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার কারণে কোথাও ঘুরতে যেতে পারেননি। তাই ঈদের পরদিন পরিবারের সদস্য, স্বজন বা বন্ধুদের নিয়ে দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে এসেছেন। রাফি ও মিথিলা দুই বন্ধু। চাকরির সুবাধে এবারই ঢাকায় প্রথম ঈদ করেছেন। ঈদের দিন কয়েকজন সহকর্মীর বাসায় বেড়াতে যাওয়ায় তারা একান্তে কোথাও ঘুরতে পারেননি। তাই গতকাল সোমবার সকালে তারা ধানমন্ডি লেকের পাড়ে এসেছেন।
তারা জানান, কোলাহল আর যানজটের কারণে ঢাকার সৌন্দর্য দেখা যায় না। এবার ঈদে ঢাকা ফাঁকা থাকায় তারা ইচ্ছেমতো ঘুরতে পারছেন। রাফি বলেন, ঢাকায় সুন্দর সুন্দর জায়গাগুলো যে কতটা উপভোগ্য তা এই সময়ে ঘুরে না দেখলে বোঝা যাবে না। মিথিলা বলেন, ‘যেহেতু ঈদে পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারিনি সেহেতু আনন্দটা একটু কমই। তারপরও ঘুরছি। ভাল থাকার চেষ্টা করছি।’
মিরপুর থেকে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে পরিবারের প্রায় ১০ জন সদস্য নিয়ে মাছ ধরতে এসেছেন ষাটোর্ধ্ব তোফায়েল চৌধুরী। তিনি বলেন, সবাই ব্যস্ত থাকে। কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না। ঈদের ছুটি তাই সবাইকে নিয়ে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে এসেছি। পিকনিকের মতো সময় কাটানোর চেষ্টা করছি। মাছ ধরছি। বাচ্চারা খেলছে। ওরা সবাই আনন্দ করছে। এটা দেখে নিজেরই ভাল লাগছে। দুপুরের খাবার সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। সবাই উন্মুক্ত জায়গায় একসঙ্গে খাব। এছাড়া ধানমন্ডি লেকে ছোট নৌকায় করে অনেক কপোত-কপোতিকে ঘুরতে দেখা গেছে। এদিকে ঢাকার লালবাগ কেল্লায় গিয়ে দেখা গেছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ছোট থেকে বৃদ্ধ, ঈদ উপলক্ষে সবাই এখানে ঘুরতে এসেছেন। তাইমুর রহমান নামে একজন বলেন, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঘুরতে এসেছি। ঈদে রাস্তাঘাট ফাঁকা। তাই আসতেও বেশি সময় লাগেনি। বাচ্চারাও বেশ খুশি এখানে ঘোরাফেরা শেষ হলে অন্য কোথাও ঘুরতে যাব। সদরঘাট এলাকায় আহসান মঞ্জিলে গিয়েও মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সেখানে গিয়ে দর্শকদের ভিড় দেখা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ