ঢাকা, মঙ্গলবার 19 June 2018, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ৪ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজর
Online Edition

সরকারের গ্রেপ্তার নির্যাতনে অসংখ্য পরিবারে ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে -শিবির সভাপতি

গতকাল সোমবার ছাত্রশিবির কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা আয়োজিত সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীলদের নিয়ে ঈদ প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, ঈদ সবার জন্য খুশি আনন্দের বার্তা নিয়ে আসলেও অপশাসনের কারণে সবার জন্য তা আনন্দময় হয়নি। সরকারের গ্রেপ্তার নির্যাতনে অসংখ্য পরিবারে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। 
গতকাল সোমবার ছাত্রশিবির কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা আয়োজিত সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীলদের নিয়ে ঈদ প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাঙ্গলকোট সদর উপজেলা সভাপতি মো. ইব্রাহিম ফয়সালের পরিচালনায় ও সদর দক্ষিণ পূর্ব উপজেলা সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মেহেদির সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমীর মো. আব্দুস সাত্তার। উপস্থিত ছিলেন, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক ও গলিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, সদর দক্ষিণ উপজেলা জামায়াতের আমীর মিজানুর রহমান, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি খাইরুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন মজুমদার, দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি জুবায়েল ফয়সাল, কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। 
শিবির সভাপতি বলেন, জনগণের ঈদ আনন্দ নির্বিঘ্ন করার দায়িত্ব ছিল সরকারের উপর। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সরকারই অপশাসন ও জুলুম নির্যাতনের ষ্টিমরোলার চালিয়ে জনগণের ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করতে দেশের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে বছরের পর বছর কারাগারে আটক রেখেছে। অসংখ্য নেতাকর্মীকে কোন কারণ ছাড়াই অন্যায় ভাবে জেলে পুরে রাখা হয়েছে। মেধাবী ছাত্র ওয়ালীওল্লাহ, মুকাদ্দাস, সাবেক সেনা কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার আজমী আযম, ব্যারিস্টার আরমানসহ অনেককে গুম করে রেখে সরকার তাদের পরিবার গুলোতে হাহাকার জুড়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক কারণে বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তাছাড়াও ক্রসফায়ারের নামে বিনা বিচারে হত্যা, মিথ্যা মামলা, দলীয় সন্ত্রাসী ও পুলিশি নির্যাতন অব্যাহত আছে। পরিবারে হাসি ফুটানো মানুষটিকে সরকার অন্যায় ভাবে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় জুলুমের শিকার প্রতিটি পরিবারে ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। তাদের কোন ঈদ আনন্দ ছিল না বরং প্রতিটি পরিবারেই ছিল স্বজনদের জন্য হাহাকার। যা একটি মুসলিম প্রধান দেশে কখনোই প্রত্যাশিত নয়।
তিনি বলেন, শত জুলুম নির্যাতনেও অপশক্তি আমাদের মনোবল ভাংতে পারেনি। ইসলামী আন্দোলনের পথ থেকে একচুল পরিমান বিচ্যুৎ করতে পারেনি। কেননা ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের হারানোর কিছু নেই। কারণ তারা দ্বীনের পথে চলার প্রত্যয় নিয়ে জান-মাল আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে হলেও দ্বীন কায়েমের পথে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাত্রশিবিরের জনশক্তিকে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক আরো বেশি মজবুত করতে হবে। সর্বাবস্থায় তার ওপর ভরসা করতে হবে। সব সময় দায়ী ইলাল্লাহর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সকল মানুষকে ইসলামের সুমহান পতাকাতলে সমবেত করার মাধ্যমে দ্বীন কায়েমের আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে। মানুষের কল্যাণে আরো বেশি কাজ করতে হবে। নিজেদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে করে সমাজের মানুষ আমাদের কাছে উপকার ব্যতীত কখনো অপকার আশা করবে না। সমাজের মানুষের আরো কাছাকাছি যেতে হবে, তাদের সুখে-দুঃখে অংশগ্রহণ করতে হবে। ইসলামের সুমহান আদর্শ তাদের কাছে সুন্দর করে তুলে ধরতে হবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ