ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পানিতে তলিয়ে গেছে মৌলভীবাজার শহর, উত্তরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা

মৌলভীবাজার শহরে বন্যা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশের উজানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে অধিক বৃষ্টিপাত থেকে সৃষ্ট বন্যার পানি দ্রুত নিচের দিকে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা অববাহিকা এবং পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় বন্যা দেখা দেবার  পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এরই মধ্যে উত্তর পূর্বের সিলেট অঞ্চলের মৌলভীবাজার শহর তলিয়ে গেছে পানিতে। দুই দিন ধরে পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, যমুনা নদীর অববাহিকায় পানি ক্রমেই বাড়ছে। আগামী তিনদিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদনদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুইয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, উজানের পানি নেমে আসার কারণে এ মাসের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশে সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাসে বন্যা দেখা দেয়। কিন্তু গত বছর আগাম বন্যার কারণে হাওর আঞ্চলে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানান, এবারও মূলত উত্তর ও পূর্বাঞ্চল বন্যা কবলিত হবে। বিশেষ করে যমুনা নদীর অববাহিকার পানির বৃদ্ধির ফলে জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধাসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলা প্লাবিত হতে পারে।

 

মৌলভীবাজারে বন্যা

ওদিকে, মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যায় এ জেলার চারটি উপজেলার ৩০টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভায় প্রায় ৪০ হাজার ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে ডুবে নিহত হয়েছে সাতজন। নষ্ট হয়েছে দুই হাজার ৯৬০ হেক্টর আউশ ধান। সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই লাখ  মানুষ।

মৌলভীবাজার শহরতলীর বারইকোনা এলাকায় মনুর বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়ায় মৌলভীবাজারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রোববার সকাল থেকে পৌরসভাধীন বড়হাট এলাকায় মৌলভীবাজার-সিলেট রোডে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এর আগে, মৌলভীবাজার-রাজনগর-সিলেট রোডের রাজনগর উপজেলাধীন কদমহাটা এলাকায় বন্যার পানিতে রাস্তা তলিয়ে গেলে এই রোডে যান চলাচল বন্ধ করা হয়।

এছাড়া, জেলার রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া, হবিগঞ্জ জেলা শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত খোয়াই নদী এখন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। নদীর পানি ঈদের দু’দিন আগে বিপদসীমার ২২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এখন পানি অনেকটাই নেমে গেছে। তবে স্রোতের টানে রোববার বিকেলে ও সন্ধ্যায় শহরের মাছুলিয়া এলাকার একাংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। অকস্মাৎ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ১০টি পরিবারের বাড়িঘর। তাদেরকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

বাঁধ ভাঙার কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। সোমবার দুপুরে ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র মতে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও ভারতের উজানে বাঁধ খুলে দেবার কারণে খোয়াই নদীতে পানি বড়তে থাকে। প্রবল স্রোতে নদীর পানি গর্জন করে দ্রুত বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। তখন বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি প্রাণহানির আশঙ্কা নিয়ে দু’পাশে লোকজন রাত জেগে পাহারায় থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খোয়াই নদীর অন্তত ৪ কিলোমিটার নদীর ফ্লাট বাঁধ শক্ত করে মেরামত করা হলে অন্তত শহরবাসী ঝুঁকিমুক্ত থাকবে, তা না হলে প্রতি বছর শহরবাসী আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটাতে হবে।

হবিগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সেক্রেটারি তোফাজ্জল সোহেল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড নানা অজুহাতে খোয়াই নদীর বাঁধ সংস্কার করছে না। এ কারণে নদীতে জোয়ার আসলে বাঁধের চোরা গর্ত দিয়ে কিংবা নদীর তীর উপচে পানি প্রবেশ করে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম জানান, খুব দ্রুত ধসে পড়া খোয়াই নদীর বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধের অংশ পরিদর্শন করেছেন।

তিনি বলেন, হবিগঞ্জ শহরবাসীকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে হলে শহরের মাছুলিয়া ব্রিজ এলাকা থেকে শহরের কামড়াপুর ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফ্লাট বাঁধ তৈরি করতে হবে। ফ্লাট বাঁধ তৈরি করতে পারলে শহরকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।-ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ