ঢাকা, বুধবার 20 June 2018, ৬ আষাঢ় ১৪২৫, ৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজর
Online Edition

রংপুর অঞ্চলে বৃষ্টি নির্ভর জিংক সমৃদ্ধ আউশ ধান-৭৪ চাষের সম্ভাবনা বাড়ছে

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : বৈরী পরিবেশে ভালো ফলন এবং রোগ বালাই কম হওয়ায় রংপুর অঞ্চলে প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় বৃষ্টি নির্ভর জিংক সমৃদ্ধ-৭৪ জাতের আউশ ধান চাষে কৃষকরা ক্রমেই উৎসাহী হয়ে উঠছে। 

ভূগর্ভস্থ পানির মজুদ বাড়াতে সেচ নির্ভর বোরো চাষ কমিয়ে -৭৪ জাতের আউশ ধান চাষের পরিসর বাড়াতে রংপুরের চাষি ও কৃষি বিভাগের উদ্যোগে নিরন্তর প্রচেষ্টা চলছে । এর ফলে আউশ মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল স্বল্প মেয়াদী জিংক সমৃদ্ধ-৭৪ জাতের ধানের চাষে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। রবি ফসল বিশেষত আলু চাষের পর জিংক সমৃদ্ধ-৭৪ জাতের ধান চাষে সেচ ও বালাইনাশক ছাড়া বৈরি পরিবেশে ফলন ভালো হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা ক্রমেই উৎসাহী হচ্ছে। 

আলু সহ বিভিন্ন রবি ফসল ওঠার পর কম খরচে অল্প সময়ে বাড়তি ফসল পেতে ব্রি ধান ২৮-২৯ এর চাষ এ অঞ্চলে এক সময় বেশ জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে বোরো মৌসুমের শেষে ঝড়-বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ায় পেকামাকরের উপদ্রব, ব্লাষ্ট ও পচানী রোগে  লোকসান গুণছে চাষিরা। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হারভেস্ট প্লাসের সহায়তায় রবি ও আলু চাষের পর বৈরি আবহাওয়া উপযোগী জিংক সমৃদ্ধ উচ্চ ফলনশীল  আউশ ধান-৭৪ চাষ সম্প্রসারিত করায় দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। প্রতিবছর বাড়ছে এই ধান চাষ, লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। 

রংপুর সদর  উপজেলার চব্বিশ হাজারী ডাক্তার পাড়ায় সম্প্রতি জিংক সমৃদ্ধ আউশ ধান-৭৪ কর্তনে এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ডক্টর সরওয়ারুল হক। আরডিআরএস এর কৃষি ও পরিবেশবিদ মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে মাঠ দিবসে ধান গবেষণা ও হারভেস্ট প্লাসের কৃষিবিদ রুহুল আমিন মন্ডল সহ বিপুল সংখ্যক কিষক-কিষাণী এতে অংশ নেন। এ সময় চাষিরা জিংক সমৃদ্ধ নাবি জাতের উচ্চ ফলনশীল আউশ-৭৪ ধান চাষের উপকারিতার কথা জানান।

হারভেস্ট প্লাসের কৃষিবিদ রুহুল আমিন মন্ডল জানান, এই ধানে সর্বাধিক ২৪ ভাগ জিংক থাকায় প্রসূতি ও গর্ভবতি মা ও শিশুদের  রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে জিংকের ঘাটতি পূরণ করে। পাশাপাশি খর্বাকৃতি সন্তানরা বাড়ন্ত হতে পারে। সেজন্য আরডিআরএস এর সহায়তায় হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশ রংপুর অঞ্চলের ৪ জেলায় ৩ হাজার ৬ জন কৃষকের ৩ হাজার ৬শ বিঘা জমিতে এই ধানের সফল চাষ করেছে। এতে প্রতি হেক্টরে উৎপন্ন হয়েছে  পৌনে ৬ মেট্রিকটনেরও বেশি। আরডিআরএস এর সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর কৃষি ও পরিবেশবিদ মামুনুর রশিদ জানান, এই ধান চাষে উল্যেখযোগ্য কয়েকটি লাভজনক বিষয়  হচ্ছে, আলু চাষের পর বিরি- জাত ২৮-২৯ চাষ করে কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া যায় না। আউশ মৌসুমের উপযোগী এই ধান চাষে রোগ বালাই কম, বৈরী পরিবেশেও ভালো ফলন দিচ্ছে যা আউশ মৌসুমের জন্য  একটি ভালো জাত। কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক ডক্টর সরওয়ারুল হক জানান, ভূগর্ভস্থ পানির মজুদ বৃদ্ধি এবং সেচ নির্ভর বোরো চাষ কমিয়ে বৃষ্টি নির্ভর রোপা আউশ চাষে আগামী ২ বছরে রংপুর জেলায়  নতুন চমক সৃষ্টি হবে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ১৭ হাজার হেক্টরে আউশ চাষের লক্ষ্য মাত্রার বিপরীতে চাষ হয়েছে ২০ হাজার হেক্টরের বেশি। যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ১শ ১৯ ভাগ বেশী। এর  ফলনও হয়েছে বাম্পার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ