ঢাকা, বুধবার 20 June 2018, ৬ আষাঢ় ১৪২৫, ৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজর
Online Edition

পঙ্গুদের গ্রাম

যুদ্ধের পর পড়ে থাকা স্থলমাইনের আঘাতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারিয়েছেন ইরাকের জুরফ আল-মিল গ্রামের শতশত বাসিন্দা। ফলে গ্রামটি এখন পঙ্গুদের গ্রাম নামে পরিচিত।
পরিচিতি
ইরাকের বসরা শহরের পূর্বের একটি গ্রাম জুরফ আল-মিল। তবে সেখানে অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন মানুষের সংখ্যা এত বেশি যে, স্থানীয়ভাবে সেটি ‘আল বিট্রান’ নামে পরিচিত পেয়েছে। আল বিট্রান মানে হচ্ছে পঙ্গু।
কারণ স্থলমাইন
যুদ্ধের সময় ইরানীরা বিমান থেকে ঐ গ্রামে বোমাবর্ষণ করলে অনেকে পালিয়ে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছিলেন। পরে ফিরে আসেন। তবে তাঁরা জানতেন না যে, তাঁদের গ্রামের আশেপাশে স্থলমাইন পোঁতা আছে। ফলে অনেক গ্রামবাসী মেষ চরাতে গিয়ে এসব মাইনের বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। ছবিতে এক পঙ্গু দম্পতিকে দেখা যাচ্ছে।
সামরিক সরঞ্জামের অংশবিশেষ
যুদ্ধের পর গ্রামবাসীরা তাঁদের এলাকায় বেশ কিছু সামরিক কামান, বন্দুক ইত্যাদি পড়ে থাকতে দেখেন। ১৯৯১ সালে কুয়েত দখল করার কারণে ইরাকের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নেমে এলে দারিদ্র্য দেখা দেয়। তখন গ্রামবাসীরা পড়ে থাকা ঐ সামরিক সরঞ্জামাদির অংশবিশেষ সংগ্রহ করে সেগুলো বিক্রি করে জীবন চালাতেন। কিন্তু তা করতে গিয়েও অনেকে হাত-পা হারান।
আন্তর্জাতিক সহায়তা
দক্ষিণ ইরাকে পঙ্গুদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক রেডক্রসের সহায়তায় ১৯৯৫ সালে সেখানে কৃত্রিম হাত-পা তৈরির একটি ওয়ার্কশপ চালু হয়। সেখানে আল বিট্রান গ্রামের পঙ্গু ছাড়াও অন্যান্য কারণে পঙ্গু হওয়াদের জন্যও কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বানানো হয়।
মাইন সরানো শুরু হয়েছে
অবশেষে শিয়া একটি আধা সামরিক বাহিনী বুলডোজার ও অন্যান্য বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আল বিট্রানের আশেপাশের এলাকা মাইনমুক্ত করার কাজ শুরু করেছে।
যুদ্ধের পরিণতি
১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত যুদ্ধে লিপ্ত ছিল ইরাক আর ইরান। সেই সময় হতাহতের ঘটনা তো ঘটেছেই। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। হারাতে হয়েছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। -ডয়েচেভেলে

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ