ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 June 2018, ৭ আষাঢ় ১৪২৫, ৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজর
Online Edition

এবার ঈদে ফটিকছড়ি ও আগৈলঝাড়ায় দর্শনীয় স্থানসমূহে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল

ফটিকছড়িতে দর্শনীয় স্থানে দর্শনার্থীদের ঢল

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, (ফটিকছড়ি) থেকে : ঈদ মানে আনন্দ,ঈদ মানে খুশি। মুসলিম উম্মাহর প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। আনন্দ খুশির এ ঈদ উদযাপনে ফটিকছড়ি সর্বত্রই ঈদের আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে। উপজেলার মুসলিম সমহজার আশেক ভক্ত জেয়ারত করছে এবং আওলাদে পাকগণদের সাথে সাক্ষাত করছে। এক কথায় ঈদের ছটিতে মাইজভান্ডার দরবার শরীফ আশেক ভক্তের সমাগমে মুখরিত।
উপজেলার অন্যান্য স্থানে হযরত মতিউর রহমান শাহ(রহঃ)হযরত রিজোয়ান উদ্দীন শাহনগরী(রহঃ)হযরত মৌলানা আবদুর রহমান(রহঃ), হযরত আব্দুল হাদী কাঞ্চনপুরী (রহঃ)মৌলানা আবদুল গণী কাঞ্চন পুরী(রাঃ),হযরত আব্দুছ ছালাম ভুজপুরী(রহঃ)হযরত নবিদুর রহমান শাহ(রহঃ) হযরত হাদি বাদশা আউলিয়া(রহঃ),হযরত বোরহান উদ্দিন শাহ(রহঃ) হযরত আবেদ শাহ(রহ.)সুফী সাধক মুফতি গরিবুল্লাহ শাহ (রহঃ),হযরত আবদুছ ছালাম ইছাপুরী (রাঃ)সহ অন্যান্য মহান আউলিয়া ক্বেরামগণের মাজার শরীফেও আশেক ভক্তগণ জেয়ারতের উদ্দেশ্যে আসছে।
স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমন পিপাসুরা বন্ধুবান্ধব পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে আসছেন উপজেলার ১৮টি চা বাগানে।  প্রতিটি চা-বাগানই আপন সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ। চা-পাতা তুলার অপরূপ দৃশ্য, নজর কাড়া বাংলো সহজেই পর্যটকদের মন কাড়ছে। বিশেষ করে উদালিয়া চা বাগান, কর্ণফুলী চা বাগান, নেপচুন চা বাগান, কৈয়াছড়া চা বাগান, রামগড় চা বাগানে ভ্রমণ পিপাসুদের সমাগম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
রাবার বাগানগুলোতেও ভ্রমণ পিপাসুরা আসছে। ফটিকছড়িতে রয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এশিয়ার বৃহত্তম রাবার বাগানসহ বেশ কয়েকটি রাবার বাগান রয়েছে। বাগান গুলোর সারিবদ্ধ গাছ, রাবার গাছের কষপড়া দৃশ্য খুব সহজে মনকে রাঙ্গিয়ে তোলছে ভ্রমণ পিপাসুদের।
ভ্রমণ পিপাসুরা উপজেলার পুরানো জমিদার বাড়িগুলোতেও ছুটে আসছে,বিশেষ করে ভুজপুরের শতাধিক বছরের পুরনো কাজি বাড়ি মসজিদ ও জমিদার বাড়ি এবং  লেলাং এলাকার আদালত খাঁ জমিদার বাড়ির ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো দেখতে পর্যটকদের সমাগম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
হারুয়ালছড়ি অভায়রন্যে,হালদা নদীর উপর নির্মিত হারুয়ালছড়ি ও ভুজপুরের রাবারড্যাম দেখতেও ভ্রমণ পিপাসুরা আসছে। এছাড়া আরো বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা, সবুজ ঘেরা পাহাড় টিলা, বিভিন্ন ঔষধি,ফলজ,বনজ বাগানগুলোতে ভ্রমণপিপাসুরা যাচ্ছে।
ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে চলছে উপজেলার বিভিন্ন মানুষ জাতির বসবাস দেখতে। বিশেষ করে উপজাতীয়দের বৈচিত্র্যময় জীবন ও উপজেলায় প্রায় ৮টি ভাষাভাষির মানুষের জীবনযাপন দেখতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণপিপাসুরা আসছে। নানাভাবে আনন্দ লাভের পাশাপাশি সর্বত্রই ছবিও সেলফি তুলে স্মৃতিধরে রাখছেন তারা।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের ঈদ ও ঈদ পরবর্তি পুনর্মিলনী কেন্দ্র হিসেবে সেতু বন্ধন করে দিয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশের পয়সারহাট ব্রিজ। উপজেলা সদরের পশ্চিম এলাকায় সন্ধ্যা নদীর উপর নির্মিত এ ব্রিজটিতে সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল বয়সীদের পদচারণায় মুখর ছিল বরিশালের আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট ব্রিজটিতে। আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম সীমান্ত আর কোটালীপাড়া উপজেলার পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত এ ব্রিজটিতে ঈদুল ফিতরে বাড়ি আসা এই দুই উপজেলার ভ্রমণপিপাসুদের কাছে ছিল একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র। স্থানীয়ভাবে চিত্ত বিনোদনের কোন সুযোগ ও পরিবেশ না থাকায় বিশেষ করে শিশুদের বিনোদনের জন্য পরিবারের সদস্যরা তাদের ছেলে মেয়েদের ইচ্ছে পুরণের জন্য এক বারের জন্য হলেও উপভোগ করেছেন পয়সারহাট ব্রিজ। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর লোক সমাগম ছিল লক্ষণীয়। ব্রিজটিতে সকল বয়সী নারী-পুরুষের মিলন মেলায় শহুরে জীবনের যে কোন পার্কের চেয়ে এটি ছিল অনেকের কাছেই আকর্ষণীয় উপভোগ্য একটি স্থান। এখানে প্রেমিক জুটির রোমাঞ্চ, শিশু থেকে বৃদ্ধ বাবা মাকে নিয়ে কাটিয়েছেন তাদের সন্তানেরা। প্রকৃতির শোভা উপভোগ করে সকাল ও বিকেল গড়িয়ে গভীর রাত পর্যন্ত সময় কাটানোর  সকল উপাদান রয়েছে এখানে। প্রকৃতির নির্মল বাতাস, খোলা আকাশে মেঘের ভেলায় আত্মহারা হয়ে ভেসে চলেছেন যে যার স্বপ্নের গন্তব্যে। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে অন্যান্য দিনের চেয়ে ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় হরেক রকমের পশরা সাজিয়ে বসেছিল দোকানীরা। পর্যটনের সকল সুবিধা না থাকলেও আনন্দ উপভোগের কমতি ছিলনা তাদের আগত ভ্রমণপিপাসুদের। বিশেষ কোন দিন ছাড়াও এই ব্রিজে প্রতিদিন বিকেলে বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষেরা নির্মল বাতাসে ভ্রমণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ