ঢাকা, মঙ্গলবার 18 September 2018, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাতিলের পথে চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে খুলনার বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি

সংগ্রাম অনলাইন : প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে না পারায় খুলনার ৩৩০ মেগাওয়াট দ্বৈত-জ্বালানি সমন্বিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতা চুক্তি বাতিল হতে যাচ্ছে।

সরকারি সূত্র অনুসারে, ২০১৬ সালে ১৭ নভেম্বর ১৫ মাসের (৪৫০ দিন) মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ছোট আকারের চক্র ইউনিট এবং ৩০ মাসের (৯০০ দিন) মধ্যে সমন্বিত চক্র ইউনিট স্থাপন করতে চীনের হার্বিন ইলেকট্রিক ইন্টারন্যাশনাল কো. লিমিটেড (এই্চইআই) এবং জিয়াংসু ইটার্ন কো. লিমিটেডের সাথে চুক্তি করে সরকার।

কিন্তু উনিশ মাস পার হয়ে গেলেও প্রকল্পটির বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি হয়নি। জানা গেছে, দরপত্রদাতা প্রতিষ্ঠানটি চীনের ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলেন, প্রকল্পের মোট খরচ প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা ৩,২৫৩ কোটির সমপরিমাণ। এর মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংকের ৩০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় ২,৩৭০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ ঋণ দেয়ার কথা, যা চুক্তির মোট খরচের ৮৫ শতাংশ।

সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী, দরপত্রদাতাকে নিজ উদ্যোগে চুক্তির খরচের অন্তত ৮৫ শতাংশের ব্যবস্থা করতে হবে। বাকি ১,২৪০ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করবে। কিন্তু গত ১৯ মাসে খসড়া ঋণ চুক্তি ছাড়া প্রয়োজনীয় ঋণ গ্রহণের জন্য দরপত্রদাতা কিছুই করতে পারেনি।

গত মাসে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি পর্যালোচনা সভায় চীনা দরপত্রদাতার ব্যর্থতার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, আগামী দুই মাসের মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রতিশ্রুতি দেয়া ২৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হলে চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতার চুক্তি বাতিল করা হবে।

বৈঠকে সিদ্ধান্তের পর, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ২০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটির অর্থায়ন নিশ্চিত করার জন্য ১০ দিনের সময় দিয়ে চীনের প্রতিষ্ঠানকে একটি চিঠি পাঠায়।

তবে প্রকল্পটির পরিচালক জোতির্ময় হালদার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো তথ্য নেই যে হার্বিন-জিয়াংসু কোম্পানি ২০ জুনের মধ্যে অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে পারবে।’

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে চীনের দরপত্রদাতার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

জানা গেছে, এক্সিম ব্যাংক একটি খসড়া ঋণ চুক্তি পাঠায় যা বাংলাদেশ সরকার কিছু সংশোধনীসহ অনুমোদন করে পরবর্তীতে সেটি এক্সিম ব্যাংকের কাছে আবারও পাঠানো হয়।

সংশোধনী অনুযায়ী ঋণ চুক্তি সম্পাদনের জন্য পিডিবি দরপত্রদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছেও একটি চিঠি পাঠায়। সূত্র: ইউএনবি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ