ঢাকা, শুক্রবার 22 June 2018, ৮ আষাঢ় ১৪২৫, ৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্যাংকগুলো ঋণের সুদহার না কমালে কর্পোরেট কর কমনো হবে না

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, ঢালাওভাবে করপোরেট কর কমালে অনেক রাজস্ব ক্ষতি হয়। ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদের হার কমাতে কর্পোরেট কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ব্যাংক যদি ঋণের সুদের হার না কমায় তাহলে কর্পোরেট করহারও কমানো হবে না। এদিকে ব্যাংকের সুদহার কোনো অ্যাসোসিয়েশনের বেঁধে দেয়া ঠিক নয় ববে মন্তব্য করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলের মেট্রো চেম্বার ভবনে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবির। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাঈদী সাত্তার, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, এসিআইয়ের চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলা, সাবেক বাণিজ্যসচিব সোহেল আহমেদ চৌধুরী, এমসিসিআইয়ের কর সংক্রান্ত উপকমিটির সদস্য সাইদ আহমেদ খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর ও কেপিএমজির জ্যেষ্ঠ অংশীদার আদিব এইচ খান।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, করপোরেট কর কমার সুবিধা ব্যাংক খাত সৌভাগ্যবশত পেয়ে গেছে। অর্থমন্ত্রীর ইচ্ছা ছিল, এবার করপোরেট কর কমানো হবে। কিন্তু ঢালাওভাবে করপোরেট কর কমালে অনেক রাজস্ব ক্ষতি হয়। ব্যাংকগুলো লাকি যে তাদের কর হার কমানো হয়েছে। তবে লেন্ডিং রেট ঠিক না রাখলে ব্যাংকগুলো এই বেনিফিট পাবে না।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ৭ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন। বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট ট্যাক্স বিদ্যমান ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন। আর অনিবন্ধিত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট ট্যাক্স বিদ্যমান ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন।

অর্থমন্ত্রীর এ প্রস্তাবের পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হচ্ছে। সিপিডি বলেছে, ব্যাংক খাতের বিদ্যমান  নৈরাজ্যের সমাধান না করে এ ধরনের সুবিধা দেওয়া উচিত হবে না। আর টিআইবি একে বলছে অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক।

এমতাবস্থায় গত বুধবার (২০ জুন) বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি)  সভার পর সংগঠনের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা আগমী ১ জুলাই থেকে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি আমানতের সুদ হার ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেসব ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশের নিচে (সিঙ্গেল ডিজিট) নামিয়ে আনতে তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেসরকারি ব্যাংকগুলো ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদে ঋণ বিতরণ করছে। আর আমানত সংগ্রহ করছে ৮ থেকে ১১ শতাংশ সুদে।

অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর তার প্রবন্ধে যেসব ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনবে কেবল সেসব ব্যাংকের ক্ষেত্রে বাজেটে প্রস্তাবিত করপোরেট কর আরোপ করার সুপারিশ করেছেন।

তিনি বলেন, একটি অ্যাসোসিয়েশন ব্যাংকের সুদহার নির্ধারণ করেছে। সুদহার কোনো অ্যাসোসিয়েশনের বেঁধে দেয়া ঠিক নয়। সুদহার কত হবে তা বাজার নির্ধারণ করবে। তাই এটি বাজারের উপরে ছেড়ে দেয়া উচিত। তবে ১০ শতাংশের ঋণের সুদহার থাকা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ভালো নয়।

নিহাদ কবির বলেন, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার জন্য তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্য খাতকে কর সুবিধা দেয়া উচিত।

আদিব এইচ খান বলেন, ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ