ঢাকা, শুক্রবার 22 June 2018, ৮ আষাঢ় ১৪২৫, ৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজপথের রাজনৈতিক আন্দোলনই হতে পারে জবাব

জিবলু রহমান : [তিন] বিএনপির মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনাকে যদি স্কয়ারে নিতে পারেন, প্যারোলে বিদেশে পাঠাতে পারেন, নাসিম সাহেবকে যদি ল্যাবএইডে নিতে পারেন, জলিল সাহেবকে ল্যাবএইডে দিতে পারেন, তাহলে দেশনেত্রীকে ইউনাইটেডে দেবেন না কেন? কারণ কী? বিএনপি মহাসচিব বলেন, কারাগারে ৫ জুন ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক (টিআইএ) হয়েছিল খালেদা জিয়ার। তিনি বাম হাত ও বামপায়ে অর্থোপেডিক্স ব্যথায় ভুগছেন। বাম হাত ও বাম পা অনেকটা ফুলে গেছে এবং তিনি অন্যের সহায়তা ছাড়া হাঁটাচলা করতে পারছেন না। ঘাড়ের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় বাম হাতের আঙুলগুলো সার্বক্ষণিক ব্যথা করছে। এ কারণে হাত দিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না। কোমরের ব্যথা ছড়িয়েছে বামপায়ের তালু পর্যন্ত। সর্বশেষ লন্ডন সফরে তার দুটি চোখের অপারেশন হয়েছিল। বর্তমানে কারাগারের ভেতরে ধুলোবালির কারণে চোখ লাল হয়ে গেছে।

মির্জা আলমগীর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা। এটাকে নরমাল এক্স-রে মেশিনে, নরমাল সিটি স্ক্যানে ও নরমাল এমআরআইতে হবে না। এ জন্য স্পেশাল এমআরআই, স্পেশাল সিটি স্ক্যান ও স্পেশাল হসপিটালাইজেশন প্রয়োজন। এই জিনিসগুলো দিতে কোনোভাবেই রাজি হচ্ছে না সরকার। কিন্তু খালেদা জিয়া বর্তমানে সরকারের কাস্টডিতে আছেন এবং বিনা চিকিৎসায় তার কিছু হলে দায় সরকারকে নিতে হবে।

পরদিন ১৭ জুন ভোলায় এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ নন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। যদি তিনি অসুস্থই হতেন তাহলে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি হবেন না কেন? আসলে তাকে বিদেশ নেয়ার জন্য একটা পাঁয়তারা করা হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হাসপাতাল বা সিএমএইচে যদি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার কোনো ব্যত্যয় ঘটতো, তাহলে অন্য হাসপাতালের প্রশ্ন উঠতো। কিন্তু তিনি নিজের পছন্দের হাসপাতালের কথা কেন বলছেন? কারণ সেখানে তার পছন্দের চিকিৎসক রয়েছে। তিনি তাকে বলে দেবেন বিদেশ ছাড়া তার কোনো চিকিৎসা হবে না। সুতরাং তাকে বিদেশ নেয়ার জন্য একটা পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

১৯ জুন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে তোফায়েল আহমেদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ সময় তার ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আপনি ও আপনার সঙ্গে যারা ছিলেন, সেই মাইনাস টু তত্ত্বের প্রচারকরা; আপনারা কি এখনো মাইনাস টুতে আছেন? নাকি মাইনাস ওয়ান-এ আছেন? এটা একটু খোলাশা করে জনগণকে জানাবেন কি? 

১৮ জুন ২০১৮ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে দলের নেতারা রাজনৈতিক ইস্যু বানাতে চাইছে বলে দাবি করেছেন । তিনি বলেন, ‘আমার তো মনে হয়, তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নয়, রাজনীতি করার ইস্যু খুঁজছেন। তাদের কাছে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নয়, ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের পরে বিএনপি আন্দোলনের অজুহাত হিসেবে এটিকে কাজে লাগাতে চায়।’ 

 আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নেতারা কি প্রতিদিন জেলখানায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন? তার আত্মীয়রা জেলখানায় দেখা করতে যাবেন। তারা গেছেন এবং ঠিকই দেখা করতে পেরেছেন। 

 তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে এটা জেলখানা, কারও বাসাবাড়ি না। জেলখানায় প্রতিদিন নেতারা দেখা করতে যাবেন এ সুযোগ জেল কোডে নাই। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, জেলখানায় আত্মীয়-স্বজনরাই মূল। আমি যখন জেলে ছিলাম, আমারও আত্মীয়-স্বজনরা দেখা করতে এসেছেন। জেলখানায় দলীয়দের দেখা করার সুযোগ নেই। তারপরও তিনি একটি দলের প্রধান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সেই জন্য তাকে দলের লোকজন এবং আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে হয়। সেখানে কোনো প্রকার বাধা ছিল না। 

 খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সেবা নিয়ে কাদের বলেন, সিএমএইচ হলো সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতাল। কেন যে তিনি সেখানে চিকিৎসা নিতে চান না তা আমাদের জানা নেই। আমার এখন সন্দেহ হয় বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিন্তিত কিনা। 

 ‘খালেদা জিয়া কেন ইউনাইটেডে চিকিৎসা নিতে পারবেন না’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তখন আমাদের নেত্রীকে সিএমএইচে চিকিৎসা করানোর সুযোগ পেলে স্কয়ারে নিয়ে যেতাম না। (সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক ১৯ জুন ২০১৮)

অন্যদিকে সচিবালয়ের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে দ্বিতীয় দিনের মতো খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও ইউনাইটেড হাসপাতাল নিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। সরকার তাকে (খালেদা জিয়া) হাসপাতালে নিতে চাইলে তিনি যখন যান না, তখন অনেকে মনে করেন তিনি অসুস্থ নন। কোনো অসুস্থ লোক হাসপাতাল পছন্দ নিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে পারেন না। (সূত্র : দৈনিক মানব জমিন ১৯ জুন ২০১৮)

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ডাক্তার ফায়েজুল হাকিম রেডিও তেহরানকে বলেছেন, সরকার যাই বলুক, জনগণ মনে করেন, বেগম জিয়াকে রাজনৈতিক কারণে জেলে নেয়া হয়েছে। তার চিকিৎসা নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে। সরকার যদি মনে করে বিএনপি কারাবন্দি বেগম জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু খুঁজছে তাহলে সরকারের উচিত বিএনপিকে সে সুযোগ না দিয়ে তাঁর আস্থা রয়েছে এমন চিকিৎসকদের দিয়ে তার উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া। (সূত্র : দৈনিক সংগ্রাম ১৯ জুন ২০১৮)

মিজানুর রহমান খান লিখেছেন, ‘...অসুস্থতার কারণে জামিন ও সুচিকিৎসা বিষয়ে আমাদের উচ্চ আদালতের গাইডলাইন কিছুটা আছে। কিন্তু তা খুব স্পষ্ট বলে প্রতীয়মান হয় না। এক-এগারোতে আমরা স্বাস্থ্যগত কারণে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করতে শুনেছি। দুদক তখন দ-িত ব্যক্তির পক্ষে তৎকালী পিজির (বর্তমানের বিএসএমএমইউ) মেডিকেল বোর্ডের অনুকূল প্রতিবেদন নাকচ করতে গিয়ে স্বাস্থ্যগত কারণকে মানবিক জায়গা থেকে দেখতে পারেনি। যেমন ইকবাল মাহমুদের (টুকু) মামলায় তখন দুদক বলেছিল, আপিল বিচারাধীন থাকতে জামিন চলবে না, কারণ তিনি ইমার্জেন্সি আইনে দ-িত হয়েছেন। একই আইনজীবী এখন জামিনের বিরোধিতা করতে ইমার্জেন্সি আইন না থাকায় ভিন্ন যুক্তিকে বড় করে দেখাতে চাইছেন।

৬০ ডিএলআরে আপিল বিভাগের একটি রায় ছাপা আছে। তাতে বলা আছে, যখন দ- তিন বছর থাকবে এবং অসুস্থতার কারণে জামিনের দরখাস্ত করার আগামী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার (আপিলকারীর কোনো দায় থাকবে না) সম্ভব হবে না কিংবা যথাযথভাবে গঠিত মেডিকেল বোর্ড জীবনের প্রতি গুরুতর হুমকি বিবেচনায় সনদ দিলে জামিন মঞ্জুর হতে পারে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনাকে যদি স্কয়ারে নিতে পারেন, প্যারোলে বিদেশে পাঠাতে পারেন, নাসিম সাহেবকে যদি ল্যাবএইডে নিতে পারেন, জলিল সাহেবকে ল্যাবএইডে দিতে পারেন, তাহলে দেশনেত্রীকে ইউনাইটেডে দেবেন না কেন? কারণ কী? বিএনপি মহাসচিব বলেন, কারাগারে ৫ জুন ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক (টিআইএ) হয়েছিল খালেদা জিয়ার। তিনি বাম হাত ও বামপায়ে অর্থোপেডিক্স ব্যথায় ভুগছেন। বাম হাত ও বাম পা অনেকটা ফুলে গেছে এবং তিনি অন্যের সহায়তা ছাড়া হাঁটাচলা করতে পারছেন না। ঘাড়ের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় বাম হাতের আঙুলগুলো সার্বক্ষণিক ব্যথা করছে। এ কারণে হাত দিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না। কোমরের ব্যথা ছড়িয়েছে বামপায়ের তালু পর্যন্ত। সর্বশেষ লন্ডন সফরে তার দুটি চোখের অপারেশন হয়েছিল। বর্তমানে কারাগারের ভেতরে ধুলোবালির কারণে চোখ লাল হয়ে গেছে।

মির্জা আলমগীর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা। এটাকে নরমাল এক্স-রে মেশিনে, নরমাল সিটি স্ক্যানে ও নরমাল এমআরআইতে হবে না। এ জন্য স্পেশাল এমআরআই, স্পেশাল সিটি স্ক্যান ও স্পেশাল হসপিটালাইজেশন প্রয়োজন। এই জিনিসগুলো দিতে কোনোভাবেই রাজি হচ্ছে না সরকার। কিন্তু খালেদা জিয়া বর্তমানে সরকারের কাস্টডিতে আছেন এবং বিনা চিকিৎসায় তার কিছু হলে দায় সরকারকে নিতে হবে।

পরদিন ১৭ জুন ভোলায় এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ নন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। যদি তিনি অসুস্থই হতেন তাহলে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি হবেন না কেন? আসলে তাকে বিদেশ নেয়ার জন্য একটা পাঁয়তারা করা হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হাসপাতাল বা সিএমএইচে যদি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার কোনো ব্যত্যয় ঘটতো, তাহলে অন্য হাসপাতালের প্রশ্ন উঠতো। কিন্তু তিনি নিজের পছন্দের হাসপাতালের কথা কেন বলছেন? কারণ সেখানে তার পছন্দের চিকিৎসক রয়েছে। তিনি তাকে বলে দেবেন বিদেশ ছাড়া তার কোনো চিকিৎসা হবে না। সুতরাং তাকে বিদেশ নেয়ার জন্য একটা পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ