ঢাকা, শনিবার 23 June 2018, ৯ আষাঢ় ১৪২৫, ৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নরসিংদীতে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় একই পরিবারের তিন জন নিহত

পলাশ সংবাদদাতা : নরসিংদীতে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে একই পরিবারের তিন জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার  সন্ধা পৌনে ৭টায় নরসিংদী শহরের অদূরে বাদুয়ারচর এলাকায় রেল সেতুতে। নিহতরা হলেন মোঃ হাফেজ মিয়া (৪০) তার তার দুই মেয়ে তারিন আক্তার (১৪) ও তুলি আক্তার (২)। তারিন শহরের ব্রাক্ষন্দী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়  যে, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে হাফেজ মিয়া তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে শহরের অদুরে বাদুয়ারচর এলাকায় নতুন সড়ক ও ট্রেন লাইনের পাশে ঘুরতে যায়, এ সময় স্ত্রী রুমা আক্তার রেল সেতু দিয়ে নিরাপদে পার হতে পারলেও হাফেজ মিয়া ও তার মেয়ে তারিন আক্তার এবং কোলে থাকা দুই বছরের মেয়ে তুলি আক্তার নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস  ট্রেনের ধাক্কায়  নিচে পড়ে যায়। এ সময় স্ত্রী রুমা আক্তারের আত্ম চিৎকারে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও হাসপাতাল থেকে লাশগুলো উদ্ধার করেন । এ বিষয়টি নিশ্চিত করে নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক এস.আই আবু সায়েম চৌধুরী বলেন, ঈদ আনন্দে উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্সে গান শোনা ও কানে হেডফোন ব্যবহারের ফলে ট্রেন আসার শব্দ না পাওয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত হাফেজ মিয়া নরসিংদী শহরের বিলাসদী রাসেল মেম্বার বাড়িতে ভাড়া বাসায় থেকে ভেলানগর জেলখানা মোড়ে চায়ের দোকানের ব্যবসা করতেন। তাদের বাড়ি নোয়াখালী জেলায় বলে জানা যায়। নরসিংদী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ কামাল মোল্লা বলেন, হাফেজ ছোট সময় থেকেই আমাদের এলাকায় থাকতেন। সে বর্তমানে  আমার ভাতিজার বাড়িতে ভাড়া থাকতো। অনেক ভালো লোক ছিল সে। জেলখানা মোড়ে একটি চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো । চায়ের দোকান চালালেও সে তার ছেলে-মেয়েদেরকে মানুষের মত মানুষ করার জন্য শহরের ভাল স্কুলে পড়াশুনা করাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ এই দুর্ঘটনা সবকিছু ধ্বংস করে দিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ