ঢাকা, শনিবার 23 June 2018, ৯ আষাঢ় ১৪২৫, ৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

২ ও ৫ টাকার নোট

সম্প্রতি নিউজচিটাগাংটুয়েন্টিফোর জানায়, বাজারে প্রচলিত ২ ও ৫ টাকার কাগুজে নোটগুলোকে ক্রসফায়ারে দেয়া হচ্ছে। অবশ্য আমাদের অর্থমন্ত্রী অনেক আগেই ২ ও ৫ টাকার কাগুজে নোট ক্রসফায়ারে দেবার ব্যবস্থা করতে চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেসময় জনতার প্রতিরোধের মুখে পড়ে ব্যর্থ হন তিনি। জনগণের দাবি ছিল, এ নোট অর্থমানের দিক থেকে সামান্য হলেও খুব জনপ্রিয় এবং দারুণ প্রয়োজনীয়। এখনও এদেশে ২ টাকা দিয়ে দিয়াশলাই বক্স, বিস্কিট, বাচ্চাদের চকোলেট, লোলিপপ, লেবেনচুস ইত্যাদি পাওয়া যায়। শহরে না হলেও গ্রামাঞ্চলে ৫ টাকা দিয়ে লালশাক, ধনেপাতা, পুদিনাপাতার আঁটি, ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম কাঁচামরিচ ইত্যাদি পাওয়া যায়। তাই এ নোট বাতিল করা যাবে না বলে রুখে দাঁড়ায় মানুষ। তবে এবার অন্য অজুহাত দেখিয়ে এ নোট বাতিলের পথে এগোচ্ছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, মাদকব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অগ্রসর হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সারাদেশে চলছে মাদকবিরোধী অভিযান। ধারাবাহিকভাবে ঘটছে ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা। ইতোমধ্যে দেড়শতাধিক মাদকব্যবসায়ী মারা গেছে। যদিও কথিত বন্দুকযুদ্ধে বা ক্রসফায়ারে নিহতরা সবাই মাদকব্যবসায়ী কিনা এ নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২ ও ৫ টাকার নোট বিতরণ না করবার। এর কারণ হচ্ছে, দেশের ভেতরের ও ভারতের ইয়াবা-হেরোইনসেবীদের কাছে এ দু’টি নোটের ব্যাপক চাহিদা। এ নোট বিড়িসিগারেটের মতো মুড়িয়ে পাইপ বানিয়ে ইয়াবা-হেরোইনের ধোঁয়া টেনে নেয় নেশাগ্রস্তরা। এজন্য ভারতে পাচার বাড়ছে এ নোটের। পাশাপাশি দেশেও মাদকসেবনে এ দু’টি নোটের ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে। মাদকসেবনে ব্যবহার করায় ২ ও ৫ টাকার নোট পুড়ে যাচ্ছে বলে টাকার যে কাজ সে কাজে আসছে না। আর পাচার হয়ে গেলেও অবস্থা হয় তথৈবচ। বিষয়টি অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এ জন্যই এ দু’টি নোট বিতরণ না করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাই রসিকজনদের মন্তব্য, মাদকসংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি ২ ও ৫ টাকার নোটকেও ক্রসফায়ারে দেয়া হচ্ছে। অবশ্য এ সিদ্ধান্ত নেবার নেপথ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও একটি উদ্দেশ্য আছে। ২ ও ৫ টাকার ধাতবমুদ্রা বাজারে খুব একটা চলে না। ফলে এগুলো ভল্টে জমা হচ্ছে। এই সংরক্ষণের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে ২ ও ৫ টাকার নোট বিতরণ না করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক। মূলত কাগুজে নোটের পরিবর্তে কয়েনের প্রচলন বাড়াতে চাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২ ও ৫ টাকার নোট কেন দেয়া হবে না জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মাদকসেবনের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার, পাচার ঠেকানো এবং কয়েনের প্রচলন বাড়ানোই এর লক্ষ্য। ২ ও ৫ টাকার কাগুজে নোট পাচারের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় সূত্রটি। সেটি হচ্ছে: গত বছরের ১৫ নবেম্বর বেনাপোলে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকার ২ ও ৫ টাকার নোট আটক করে বিজিবি। এর মধ্যে ২ টাকার নতুন নোটের সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার পিস। গত ২৫ জানুয়ারি ২ ও ৫ টাকার নোট পাচারের সঙ্গে জড়িত দু’জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে বিজিবি। এর আগেও বিভিন্ন সময় এমন অপরাধে অনেকেই গ্রেফতার হয়েছেন। পাচারকারীরা জানান, হেরোইন ও ইয়াবাসেবনে ‘পন্নি’ বা বিশেষ পাইপ হিসেবে এসব নোট ব্যবহৃত হয়। সাধারণ কাগজের পাইপ অল্প তাপেই পুড়ে যায়। কিন্তু ২ ও ৫ টাকার নোট বিশেষ ধরনের কাগজে তৈরি বলে সহজে পোড়ে না। এ কারণে ইয়াবা ও হেরোইনখোরদের কাছে এসব নোটের খুবই চাহিদা। ভারতের মাদকসেবীরা মূল্যমানের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে এসব নোট ক্রয় করে নেয়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভারতে এই দু’ধরনের নোট পাচার করে থাকে। এ চক্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শ্রেণির কর্মচারীও রয়েছেন বলে সূত্রটি জানায়। এ কারণে চলতি বছরের শুরুতেই ২ ও ৫ টাকার নোটের সরবরাহ কমাতে শাখা অফিসগুলোতে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে ২ ও ৫ টাকার বিপুল পরিমাণ কয়েন ছাড়া হয়েছে বাজারে। তবে সাধারণের মধ্যে কয়েনের প্রতি অনাগ্রহের জন্য প্রচলন অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। ভারি এবং পকেটে রাখতে অসুবিধে বিধায় ধাতবমুদ্রা কেউ নিতে চান না। বাধ্য হয়ে নিলেও বিদায় করে দিতে উৎসাহী প্রায় সবাই। এমনকি ফকিরকে দিয়ে হলেও। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সব অফিসের ভল্টে প্রচুর ধাতবমুদ্রা জমেছে। ভল্টগুলোতে জায়গা আর হচ্ছে না। তাই ২ ও ৫ টাকার কাগুজে নোটের এই ‘ক্রসফায়ার’। ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই বাজারে ২ ও ৫ টাকা মূল্যমানের কাগুজে নোটের তীব্র সংকট সৃষ্টি হবে। তখন জনগণ দুই-তিন টাকার জিনিস দশ টাকায় কিনতে বাধ্য হবে। তবে বাজার থেকে তুলে নেয়া ২ ও ৫ টাকার কাগুজে নোট ভল্টবন্দীই থাকবে না সত্যই সত্যই ক্রসফায়ারে দেয়া হবে তা বাংলাদেশ ব্যাংক এখনও স্পষ্ট করেনি। উল্লেখ্য, ১ টাকা ও ৫০ পয়সা মূল্যমানের কয়েনও চালু আছে। এগুলোর কী হবে তাও জানানো হয়নি। তবে ২ ও ৫ টাকার কাগুজে নোট তুলে নিলে ছোটখাটো কেনাবেচায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ