ঢাকা, শনিবার 23 June 2018, ৯ আষাঢ় ১৪২৫, ৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইতিহাসের কালো অধ্যায় ও পলাশীর ট্রাজেডি

মো. জোবায়ের আলী জুয়েল : আজ ২৩ জুন পলাশী দিবস। দেশীয় বণীক, বিশ্বাস ঘাতক ও ইংরেজ বেনিয়াদের চক্রান্তে পলাশীর আক্রমণে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়। নবাব সিরাজ উদ্দৌলা পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের সাথে মাত্র এক ঘন্টার প্রহসনের যুদ্ধে পরাজিত হন। তার পর প্রায় দু’শো বছরের গোলামীর জিঞ্জির। ইংরেজ বেনিয়াদের হাত থেকে দেশকে স্বাধীন করার জন্য সূদীর্ঘ প্রায় দু’শো বছরের আন্দোলন। কত বীরের রক্ত করেছে, কত মায়ের কোল খালি হয়েছে, কালের গর্ভে ইতিহাস তার স্বাক্ষী। পলাশীর ২৩ জুনের ইতিহাস প্রকৃত সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করার ইতিহাস। ২৩ জুনের ইতিহাস, বিশ্বাস ঘাতকার ইতিহাস। পলাশীর প্রান্তরে মীর জাফরের বিশ্বাস ঘাতকতায়, বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার ভাগ্য বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। মীর জাফর অবশ্যই বিশ্বাস ঘাতক ছিলেন, ইতিহাসে  দেখা যায় তার চেয়ে বহুগুণ বড় ও সফল বিশ্বাস ঘাতক ছিলেন ধনকুবের জগৎ শেঠ। মীরজাফর বিজাতি, বিদেশী ইংরেজদেরেকে কখনই আপন উদ্যোগে ডেকে আনেন নাই। সে কাজটি করেছিলেন জগৎশেঠ গোষ্ঠী ও তাদের সঙ্গী সাথীরা তিনি ছিলেন শিখন্ডী মাত্র।
মাড়োয়ারী হীরা চান্দ লোটা, কম্বল সম্বল করে সূবে-বাংলায় এসেছিল ১৬৯৫ সালে। তারপর পুত্র মানিক চাঁদ পরে সূবে বাংলায় পাটনা থেকে চলে আসে ঢাকায়। এই মানিক চাঁদের ভাগিনাই ফতে চাঁদ হচ্ছে  কূখ্যাত স্বরূপ চাঁদ জগৎশেঠ। যে ছিল তথা ভারতের বুক থেকে মুসলিম শাসনের উচ্ছেদের মূল নায়ক। ইতিহাসে দেখা যায় বিভিন্ন কূটনীতি ও কলা কৌশলের এই পথের বিশ্বস্ত সহযোগী ছিল মীর জাফর, ইয়ার লতীফ, শেঠ রূপ চাঁদ, মাহতাব রায়, রায় দূর্লভ, রাজা রাজ বল্লভ, নন্দ কুমার, উমিচাঁদ, দূর্লভরাম, মানিক চাঁদ সহ আরো অনেকে। দেশ ও জাতির অকল্পনীয় ক্ষতির দূয়ার এরাই খুলে দেন এবং ইতিহাসের কদাকার আর্বজনায় এরা নিক্ষিপ্ত হয়। এই স্বরূপ চাঁদ জগৎশেঠ ও পিতামহের নীতি ও আদর্শের অনুসারী ছিলেন এবং জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত সিরাজউদ্দৌলা, মীর জাফর ও মীর কাশিমের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতার ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন। নবাবের উদার ছত্রছায়ায় সুদের ব্যবসায় অর্থ লগ্নি করে এই স্বরূপ চাঁদ জগৎ শেঠ হয়েছিলেন ধনকুবের। নবাবের দরবারে সর্বগ্রাসী ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন এই স্বরূপ চাঁদ জগৎশেঠ। পাঁচ পুরুষ ধরে নবাবের দরবারে সর্বাত্মক পৃষ্ঠপোষকতা এবং নিজেদের ক্রমবর্ধিষ্ণু  বিশ্বাস ঘাতকায় চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে অপরিমেয় বিত্তের অধিকারী জগৎ শেঠই ইংরেজদেরকে বাংলার শাসন ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠার কাজে তৎকালীন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় সে সময়ে জগৎশেঠের পরিবারের বার্ষিক আয় ছিল ৪০ লক্ষ টাকা যা’কিনা বর্তমান বাংলাদেশের মূদ্রা মানে ৯০০ শত কোটি টাকারও বেশী। মুর্শিদাবাদের দরবারে বেসরকারি ব্যক্তিত্ব হয়েও বিপুল ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন এই স্বরূপ চাঁদ জগৎ শেঠ। মুর্শিদকুলী খাঁর আমল থেকে গড়ে ওঠা নব্য বণিক শ্রেণীকে ও বিদেশী বণিকদেরকে পূজিঁ সরবরাহ করে সারাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যের একক করায়ত্ত চলে আসে তার হাতে। এই সূবাদেই নবাবের দরবারে ডজন খানেক মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও অনেক গুণ বেশী শক্তিশালী ও কর্ণধার ব্যক্তি ছিলেন এই স্বরূপ চাঁদ জগৎ শেঠ। প্রচলিত ইতিহাসে সিরাজউদ্দৌলাকে অত্যাচারী, নারী লোভী, মাতাল এবং আরো অনেক দোষে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তরুণ যুবক সিরাজের কিছু কিছু দোষ ত্রুটি থাকাই স্বাভাবিক, অস্বাভাবিক কিছু নয়। সত্যিকারভাবে ইতিহাসের বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে এগুলো অতিরঞ্জিত।  এর কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।
সিরাজের নানা  আলীবর্দী খান ইন্তেকাল করেন ১৭৫৬ খৃষ্টাব্দের ৯ এপ্রিল, আর পলাশী যুদ্ধে সিরাজের পতন ঘটে ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দের ২৩ জুন, অর্থাৎ মাত্র ১৪ মাস ১৪ দিন। তাঁকে চর্তুদিকে ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হয়েছে। কিশোর সিরাজউদ্দৌলা ক্ষমতায় আরোহণ করেই এই ১৪ মাস পর্যন্ত কমপক্ষে ১২০০ মাইল দূর্গম পথ তাঁকে অতিক্রম করতে হয়েছে। সে সময়ে কোন উন্নত যানবাহন ছিল না। পাঁচ, পাঁচটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করতে হয়েছে। চর্তুদিকে অসংখ্য ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করতে হয়েছে। তাঁকে তো আলেকজান্ডারের চেয়েও দ্রুত গতিতে পথ চলতে হয়েছে। রাত কাটাতে হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে ও অশ্বপৃষ্ঠে। দিন কাটাতে হয়েছে ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করে। নানাজীর উদ্যোগে সেই অল্প বয়সে বিবাহিত সিরাজের তখন আপন স্ত্রী লুৎফা, শিশু কন্যা জোহরারও প্রতি ফিরে তাকাবারও তো ফুরসৎ ছিল না। নাটকে আলেয়া নাম্নি আর্য্য সুন্দরীদের মোহবিষ্ট জালে রূপা কৃষ্ট পতঙ্গের মতো লাম্পট্য লীলায় সময় কাটাবার সুযোগ তিনি পেলেন কোথায়? এগুলো আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মকে আজ অবশ্যই গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে। এদেশের মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে যারা সে’সময়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন তাদের অনেকেই অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করেছিল মোহাম্মদী বেগম মিরণের নির্দেশে। মোহাম্মদী বেগম উম্মাদ অবস্থায় দাম্পত্য কলহে এক কুঁপে ঝাপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে। মীরণের মৃত্যু ঘটেছিল বজ্রপাতে। সিরাজের খালা ষড়যন্ত্রকারী ঘষেটি বেগমকে মীরণ বুড়িগঙ্গায় প্রবল খরস্রোতা নদীতে নৌকা ডুবি করে মেরে ফেলে। মীর জাফর ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে দু’দুবার বাংলার মসনদে বসেছিলেন। কিন্তু শেষ বয়সে মারাত্মক কুষ্ঠ ব্যধিতে তার ভবলীলা সাঙ্গ হয়। মীর কাশিম আলী খান পরবর্তীতে বাংলার নবাব হয়েছিলেন কিন্তু শুরুতেই তিনি ছিলেন বাংলার মুসলিম শাসনের অবসানের মূল ষড়যন্ত্রের অন্যতম সহযোগী। ভগবান গোলায় নবাবকে তিনি সর্ব প্রথম ধরিয়ে দেন তার শ্যালক মীরণের হাতে। শেষ পর্যায়ে এসে মীর কাশিম অনুধাবন করলেন একদা এই চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে তিনি বাংলার মুসলমানদের স্বার্থের চরমতম ক্ষতিই সাধন করেছেন এখন আর কোন উপায় নেই। মীর কাশিম বুঝলেন ঠিকই কিন্তু ততোদিনে অনেক দেরী হয়ে গেছে। কিন্তু মূল ষড়যন্ত্রকারীরা কি চিরকালই পর্দার অন্তরালে থেকে যাবে? মুঙ্গেরের দূর্গশীর্ষ থেকে বস্তায় ভরে তিনি নিক্ষেপ করলেন জগৎ শেঠ আর রায় দূর্লভের জীবন্ত দেহ গঙ্গার বুকে। অপর এক অপঘাতে নিহত হলো রাজা রাজ বল্লভ। পরবর্তী কালে তার সমুদয় কীর্তি পদ্মা নদী গ্রাস করে কীর্তিনাশা নামধারণ করলো। কিন্তু এতো করেও মীর কাশিম তার শেষ রক্ষা করতে পারলেন না। বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হবার পর ইংরেজ কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে বনে জঙ্গলে আত্মগোপন করে রইলেন। জঙ্গলেই তার দুই পুত্র নিহত হন। র্নিবংশ মীর কাশিম আলী খান এরপর কোথায় উধাও হয়ে যান ইতিহাস সে সম্পর্কে নীরব। দীর্ঘদিন পর তার লাশ পাওয়া যায় দীল্লির আজমেরী গেটের নিকট রাস্তার উপরে। ষড়যন্ত্র কারীদের ইংরেজরা প্রায়ই প্রচুর অর্থবিত্ত এবং পদক, পদবী দিয়ে তুষ্ট করতো বলে জানা যায়। এ রকম এক পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে হাজির হয়েও পদক প্রাপ্ত হিসাবে ডাক না পাওয়ায় সভাস্থলে উমিচাঁদের হৃদযন্ত্রের ক্রীড়া বন্ধ হয়ে মারা যান। নন্দকুমার ভূষিত ছিল মহারাজা উপাধিতে কিন্তু ওয়ারেন হেস্টিংসের সাজানো মামলায় আসামী হিসাবে তাকে শেষ পর্যন্ত শেওড়া গাছে ঝুলতে হয় ফাঁসি কাষ্ঠে। আর রবার্ট ক্লাইভ স্বয়ং নিজের গলায় ক্ষুর চালিয়ে আত্মহত্যা করে নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে যান। বড়ই করুণ সে মৃত্যু। এ ভাবেই দেখা যায় বাংলার মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী ভূমিকা পালনকারীদের ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করে নাই, চক্রান্তকারীদের ভোগ করতে হয়েছে মর্মান্তিক পরিণতি। পলাশী যুদ্ধে পরজয়ের মূল কারণ কি? তা’ সঠিকভাবে আজ ও আমাদের জানা নেই। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এই যে পলাশী যুদ্ধে রবার্ট ক্লাইভের মাত্র ৩২০০ সৈন্যের কাছে সিরাজউদ্দৌলার ৫০,০০০ সৈন্যের অভাবনীয় পরাজয় ঘটে। আশ্চর্য্য জনক ব্যাপার একটা দেশের হাজার হাজার সৈন্য পরবর্তীতে কোথায় গেলো? পলাশী যুদ্ধের মাত্র ৩/৪ বছরের পরে মীর কাশিমের কাটোয়া, গিরিয়া, উদয় নালার যুদ্ধে অথবা দিনাজপুর ও রংপুরকে কেন্দ্র করে নূরুল দিন ও ফকির মজনু শাহের যে প্রতিরোধ সংগ্রাম সেখানেও এসব সৈন্যের ঐক্যবদ্ধ লড়াই দেখতে পাওয়া যায় নাই। সে সময় বাংলার নবাব মীর জাফরকে সবাই ক্লাইভের গর্দভ বলে জানতেন। শেষ মুহুর্তে বাংলার মানুষেরা কেনো তখন সেই গর্দভের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে নাই। পলাশীর প্রান্তরে ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া প্রেক্ষাপটে আজ আমাদের গভীর ভাবে নতুন করে উপলব্ধি করতে হবে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। বিশ্বাস ঘাতকতার অধ্যায়।
অথচ পলাশী যুদ্ধ সমন্ধে রবার্ট ক্লাইভ তার আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন সেদিন স্থানীয় অধিবাসীরা ইংরেজদের প্রতিরোধ করতে চাইলেই লাঠি সোটা আর হাতের ইট পাটকেল মেরেই তাদের খতম করে দিতে পারতো। কিন্তু এদেশবাসীরা তা’ উপলব্ধি করতে পারে নাই। যেকোনো কারণেই হোক সেদিন বাংলার মানুষ এগিয়ে যান নাই।  তাদের রাজনৈতিক সচেতনতার তখন খুবই অভাব ছিল। পলাশীর ট্রাজেডির পরেও বাংলার সাধারণ মানুষ, কৃষক সমাজ দৈনন্দিন জীবন, নিত্যদিনের মতই মাঠে কৃষি কাজ করেছে। ফসল বুনেছে। অথচ পলাশীর যুদ্ধে গোটা জাতীর জীবনে কি নিদারুণ ভাগ্য বিপর্যয় ঘটলো, এক ঘন্টার প্রহসন যুদ্ধে গোটা জাতির স্বাধীনতা হরণ করে নিয়ে গেলো, গোটা কয়েক বেনিয়া ইংরেজ, অথচ তাদের টনক নড়লোনা। টনক যখন নড়লো তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে। তাদের আর তখন কিছুই করার ছিলনা। সিরাজ উদৌল্লা কখন ও তার দেশের প্রজাদের সাথে কোন অবস্থাতেই বিশ্বাস ঘাতকতা করেন নাই। কখন ও স্ব-ইচ্ছায় স্বদেশকে বিকিয়ে দেন নাই। পলাশীর প্রান্তরে মর্মান্তিক নাট্য মঞ্চে এক মাত্র তিনি ছিলের মূল নায়ক। সিরাজ উদৌল্লা ছিলেন বাংলার স্বাধীনতার শেষ প্রতিক।
প্রভাবশালী বাঙ্গালীদের স্বার্থপরতা, ঔপনিবেশিক অধিপত্যবাদ, বাংলার দক্ষিণ এশিয়ার বৃটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বাণিজ্যিক ঔপনিবেশীক প্রভূত্ব প্রতিষ্ঠার দূর্বার আকাংখা। প্রশাসনিক কাজে নবাবের সে সময়ে হিন্দু অধিপত্যের বিস্তার লাভ। নবাবের পরিবারের কিছু কিছু ঘোর শত্রু বিভীষনের ক্ষমতার লোভ  এবং মুশির্দকুলি খার এই উদার দাক্ষিণ্যে বেড়ে উঠা কুলিন হিন্দু রাজা, মহারাজা, সভাসদ, সামরিক প্রশাসক, রাজত্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের মুসলিম বিদ্বেষই পলাশীর যুদ্ধে সিরাজের পতন, পরাজিত এবং নিহত হওয়ার অন্যতম মূল কারণ।
২৩ জুন আমাদের জাতীয় জীবনে দূরপনেয় কলঙ্কে দিন, তেমনি তা’এক শিক্ষনীয় দিবস ও বটে। বাংলার ইতিহাসে এই পলাশী অধ্যায় যেমন ন্যাক্কারজনক হৃদয় বিদারক ঘটনা তেমনি আমাদের জাতীয় জীবনে এর মাশুল দিতে হয়েছে দীর্ঘ দু’শো বছরের গোলামীর জিঞ্জির। ২৩ জুনের পলাশীর ইতিহাস, কতিপয় বিশ্বাসঘাতক চক্রান্তকারীর যোগসাজশে দেশের স্বাধীনতা বিদেশী বেনিয়াদের হাতে তুলে দেবার ইতিহাস। ২৩ জুনের ইতিহাস প্রকৃত সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করার ইতিহাস।
উপসংহারে একটা কথাই বলতে হয়, স্বাধীনতা দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। স্বদেশ প্রেম দেশের সবচেয়ে বড় আমানত। এই সত্যটা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি নাগরিককে আমাদের সর্বদাই মনে রাখতে হবে। বস্তুতঃ বাংলার মুসলিম স্বার্থবিরোধী যে কোন চক্রান্তের পরিণতি যে কতোটা ভয়াবহ ও মর্মান্তিক হতে পারে চোখ, কান খোলা রাাখলে যে কেউ দূর এবং নিকট ইতিহাস থেকে তার ভূরি ভূরি প্রমাণ পেতে পারেন। বস্তুতঃ ইতিহাস কোনো ষড়যন্ত্রকারীকেই ক্ষমা করে না। পলাশী পরবর্তী ঘটনাবলী তার আরেক জ্বলন্ত প্রমাণ।
প্রতিবছর ২৩ জুন আমাদের এই সতর্কবাণী শুনিয়ে যায় দেশের ভেতরের শত্রুরা বাইরের শত্রুর চেয়ে অনেক বেশী ভয়ঙ্কর। আমরা কি ২৩ জুনের বিপর্যয় থেকে আদৌ কোনো শিক্ষা নিতে পেরেছি কি? ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো এই যে, ইতিহাস থেকে কেউ কিছু শেখে না।
তথ্যসুত্র :
(১) বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস ঃ- আব্দুর রহীম
(২) ইতিহাসের অন্তরালে : ফারুক মাহমুদ
(৩) মুর্শিদাবাদ কাহিনী : নিখিল নাথ রায়
(৪) নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও বাংলার মসনদ :
      ডঃ মুহম্মদ ফজলুল হক
(৫) সিরাজউদ্দৌলা :-অক্ষয় কুমার মৈত্র
(৬) আলীবর্দী এন্ড হিজ টাইমস্  : কে, কে, দত্ত
(৭) হিস্ট্রি অব দি মুসলিম অব বেঙ্গল : ডঃ মোহর আলী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ