ঢাকা, শনিবার 23 June 2018, ৯ আষাঢ় ১৪২৫, ৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফুলবাড়ী পৌরশহরের রাস্তার দুই ধারের জায়গা দখল

মো: আফজাল হোসেন ফুলবাড়ী (দিনাজপুর): ফুলবাড়ী পৌরশহরের বাজারের রাস্তার দ্ইু ধারের সরকারি জায়াগা দখল, সাধারন মানুষ ফুটপাত না থাকায় রাস্তায় চলাচল করতে পারছে না। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পারহয়ে গেলেও ফুলবাড়ী শহরের তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ফুলবাড়ী পৌরশহরে এক সময় হিন্দু ও পশ্চিমা এবং বিহারীরা বসবাস করত এর মধ্যে মুসলমানরাও বসবাস করত। দেশ বিভাগের হিন্দু ও পশ্চিমা সম্প্রদায়ের অনেক লোক পরিবার পরিজন নিয়ে জমি জমা বাড়ি ঘর রেখে অনেকে ভারতে চলে যান। স্বাধীনতার যুদ্ধে বিহারীদের ফেলে রাখা সম্পত্তি গুলি এবং হিন্দু ও পশ্চিমাদের সম্পত্তি গুলি শক্রু সম্পত্তি হিসাবে গণ্য হয়। এর মধ্যে কিছু সম্পত্তি সরকারী খাস খতিয়ানে চলে যায়। এ সব রেখে যাওয়া সম্পত্তি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জাল কাগজ তৈরি করে দখল করে নিয়েছে। গত ৫ বছর আগে এসব সম্পত্তি ক ও খ তালিকা ভুক্ত সরকার করলে পরবর্তীতে সরকার দুটি গেজেট প্রকাশ করে ঐসব সম্পত্তি অবমুক্তি করার ঘোষনা দেন। সেই সব সম্পত্তি দখল করে নিয়ে অনেকে পৌরশহরে দোকান-পাঠ, বাসা-বাড়ী তৈরি করছে। রাস্তার জায়গা পর্যন্ত দখল করে রেখেছে। সাধারণ জনগণ শহরে ঢুকতে হিমশিম খাচ্ছে। দাড়ানোর কোন জায়গা নেই। যার যার মত জায়গা দখল করে রেখে দোকান তৈরি করছে। পৌরকতৃপক্ষের শহর সুরক্ষায় বিধিমালা থাকলেও পৌরসভার সেই বিধিমালা কেউ মানছেনা। ফলে পৌরশহরে এখন সাধারন জনগণ রিকসা বা একটি সাইকেল নিয়ে ঢুকতে পারছে না। এমন কী ছোট-খাটো যানবাহন গুলিও চলাচল করতে পারছেনা। দিন যত যাচ্ছে ততই শহরের রাস্তাগুলি ছোট হয়ে আসছে। অপর দিকে ফুলবাড়ী পৌরশহরের ইন্দ্রচাঁদ বোতড়ার জমিদারের কাছারি বাড়ির পাশে এক বিশাল পুকুর রয়েছে। সেই পুকুরটির চারি পাশ দিয়ে এখন দোকান গড়ে উঠেছে। তারা রাতের অন্ধকারে সেই ঐতিহ্যবাহি পুকুরটিতে মাটি ফেলে যার যার মত দখল করে নিচ্ছে। সরকারী পুকুরটি উদ্ধারের জন্য কারও কোন মাথাব্যাথা নেই। এই পুকুরটি মো: ঈমান আলী তার নিজ নামে লিজ নেন। কিন্তু তার নামে আদও লিজ আছে কিনা জানাযায়নি। বর্তমান ফুলবাড়ী পৌরশহরের পূর্বদিকে এক বিশাল জলাশয় রয়েছে। সেই জলাশয়টি প্রায় ৩ একর তার মধ্যে কিছু অংশ এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করে দেওয়া হয়। ঐ সম্পত্তি ফুলবাড়ী কালি মন্দিরের নামে রেকর্ড ভুক্ত সম্পত্তি। পশ্চিমদিকে জনতা ব্যাংক থেকে নিমতলা মোড় হয়ে ভূমি অফিস পর্যন্ত এসব সম্পত্তি সরকারী। এই সব সম্পত্তি প্রভাবশালীরা জাল কাগজ পত্র সৃষ্টি করে দখল করে নিয়েছে। বর্তমান ফুলবাড়ী শহরের ৫০% জমি সরকারের। ফুলবাড়ী শহর নতুন করে সাজানোর কোন জায়গানাই। সাধারণ মানুষ ফুলবাড়ী শহর ছেড়ে এখন দিনাজপুর ও রংপুরে মার্কেট করতে যান। ব্যবসা-বানিজ্যতে প্রায় ধষ নেমেছে। ২ শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ফুলবাড়ী শহরটি যেভাবে তৈরি হওয়ার কথা ছিল সে ভাবে তৈরি হয়নি। ফুলবাড়ী পৌরশহরের উত্তরদিকে উপশহর করার জন্য তৎকালীন সরকার জমি হুকুম দখল করে কাঠামো তৈরি করা শুরু করে। হঠাৎ করে তার কাজ কর্ম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সেই উপশহরটি এখন মাঠ আকারে পড়ে রয়েছে। যার যার ইচ্ছে তাই করছে। দেখার কেউ নেই। ফুলবাড়ী পৌরশহর এখন উন্নয়নমুখী বলা চলেনা। যদিও প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হয়েছে। এই শহরে কাজ-কর্ম সঠিক ভাবে করতে গেলে অনেক বাধার স্বমুক্ষিন হতে হবে। ধিরে ধিরে পৌরসভার রাস্তা-ঘাট গুলির উন্নয়ন হলেও সেই উন্নয়ন নামে মাত্র। কাজ-কর্মগুলি করা হলেও তদারকের অভাবে নি¤œমানের কাজ করা হচ্ছে। ফুলবাড়ী পৌরশহর ধিরে ধিরে ছোট হয়ে আসছে। শহরের ভিতরে একটি রিক্সা আরএকটি রিক্সাকে কাটতে গেলে আর জায়গা থাকে না। ফুতপাত না থাকায় সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ