ঢাকা, শনিবার 23 June 2018, ৯ আষাঢ় ১৪২৫, ৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ডিমলায় পৃথক ঘটনায় ২ গৃহবধূসহ ৩ জনের অপমৃত্যু

ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা: নীলফামারীর ডিমলায় পৃথক ঘটনায় ২ নারীসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, উপজেলা পূর্বছাতনাই গ্রামের জুল হোসেনের স্ত্রী রাসেদা বেগম(২৮) ও দক্ষিন তিতপাড়া (বড়জুম্মা) গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী লাইলী বেগম(২৭) এবং ছাতনাই বালাপাড়া গ্রামের ছলিমুদ্দিনের পুত্র কামরুল ইসলাম (৩৫)। এসব ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে।
ঘটনা ৩টি ঘটেছে, গত ৩ দিনে ডিমলা উপজেলার দক্ষিন তিতপাড়া, পূর্বছাতনাই ও ছাতনাই বালাপাড়া গ্রামে।
জানাগেছে, ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী গ্রামের আজিজুল ইসলামের কন্যা লাইলী বেগম (২৭)এর সাথে একই উপজেলা দক্ষিন তিতপাড়া (বড়জুম্মা) গ্রামের সমসের আলীর পুত্র শফিকুল ইসলাম(৩২) প্রায় ১৩ বছর আগে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে কারনে-অকারনে স্বামী ও স্বামীর বাড়ীর লোকজন লাইলী বেগমকে প্রায়ই মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যতন করতো।
এমতাবস্থায় গত মঙ্গলবার ভোরে লাইলী বেগমকে তার স্বামীর বাড়ীতে মৃত্যু অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় লাইলী বেগমের বড়ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের স্বামী শফিকুল ইসলাম(৩২)সহ ৬ জনকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগ করে। অভিযোগ পেয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে লাইলী বেগমের স্বামী শফিকুল ইসলাম(৩২) ও শ্বশুর সমসের আলী(৬৫)কে পুলিশ আটক করে।
এদিকে ডিমলা উপজেলার দক্ষিন সুন্দর খাতা গ্রামের আহেদ আলীর কন্যা রাশেদা বেগম(২৮) এর সাথে প্রায় ১২ বছর আগে একই উপজেলা পূর্বছাতনাই গ্রামের মৃত আব্দুল গণির পুত্র জুল হোসেন (৩৭) এর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও স্বামীর বাড়ীর লোকজন রাশেদা বেগমকে গত সোমবার সকালে শারীরিক ভাবে নির্যতন করে। এতে রাশেদা বেগম মারাগেলে তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থকমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশেদাকে মৃত্যু ঘোষণা করলে লাশ রেখে স্বামী জুল হোসেন পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায়  নিহতের ভাই আসাদুল হক বাদী হয়ে জুল হোসেনসহ ৫ জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। আটক জুল হোসেনকে গত মঙ্গলবার নীলফামারী জেল হাজতে প্রেরণ করেন থানা পুলিশ।
অপর দিকে উপজেলার ছানতাই বালাপাড়া গ্রামে  ঈদের আগের দিন(শুক্রবার) বিকেলে দিন মুজুরীর টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে এক সংঘর্ষে কামরুল ইসলাম(৩৫) নামে এক দিনমুজুর গুরুতর আহত হয়। আহত দিনমুজুরকে প্রথমে ডিমলা এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় দিন মুজুর কামরুল ইসলাম গত রোববার  রাতে মারাযায়। এ ঘটনায়  নিহতের স্ত্রী  কুলছুম বেগম বাদী হয়ে গত সোমবার ৫ জনকে আসামী করে ডিমলা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেও আটক হয়নি।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ মফিজ উদ্দিন শেখ ঘটনা ৩টির সত্যতা স্বীকার করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ