ঢাকা, শনিবার 23 June 2018, ৯ আষাঢ় ১৪২৫, ৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চৌগাছা হাসপাতালে দায়িত্বরত নার্সকে লাঠিপেটা ও ভাংচুর

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছা উপজেলা হাসপাতালের স্টাফ নার্স সালমা খাতুনকে দায়িত্বপালনরত অবস্থায় লাঠি দিয়ে বেদম মারপিট এবং হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভাংচুর করেছে রানা আলম নামে এক যুবক। মারপিটকারি যুবক উপজেলার চৌগাছা সদর ইউনিয়নের মন্মথপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের পুত্র।
আহত স্টাফ নার্স ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রঞ্জু খাতুন নামের একলামশিয়া (গর্ভপরবর্তী খিচুনি) রোগীর স্বামী রানা আলম হাসপাতালের স্টাফ নার্স সালমা খাতুনকে দায়িত্বপালনরত অবস্থায় হঠাৎ চড়-থাপ্পড়ের পর লাঠিপেটা করে।
সূত্র জানায় ওই নারী কিছুদিন আগে সন্তান জন্মদান পরবর্তী খিচুনি রোগে আক্রান্ত হয়ে চৌগাছা হাসপাতলে ভর্তি হয়। সেখান থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতাল শেষে খুলনা শেখ আবু নাছের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরে। দুইদিন আগে আবারো একলামশিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে তিনটায় হাসপাতালের স্টাফ নার্স সালমা খাতুন দিনের দ্বিতীয় শিফটের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কাগজপত্র দেখার সময়ে হঠাৎ করেই ওই রোগীর স্বামী রানা আলম তাকে মারপিট করেন।  পরে হাসপাতাল থেকে চৌগাছা থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ এসে ওই ব্যক্তির নাম ঠিকানা লিপিবদ্ধ করে নিয়ে যায়। চৌগাছা থানা সূত্রে জানা গেছে, রানা আলম একাধিক মাদক মামলার আসামী।
হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার ও নার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুন্নাহার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
সন্ধ্যায় চৌগাছা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার সুব্রত কুমার বাগচী বলেন ওই স্টাফ নার্স ইনজুরড, তাকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আওরঙ্গজেব বলেন কোন অপরাধ ছাড়াই আমাদের স্টাফ নার্স সালমাকে মারপিট করা হয়েছে। তিনি বলেন, মিটিংয়ে বসে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সেলিনা বেগম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আগামী মিটিংয়ে বসে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ