ঢাকা, রোববার 24 June 2018, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রূপসা সেতুকে কেন্দ্র করে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে

দূর থেকে রূপসা সেতুর দৃশ্য

আব্দুর রাজ্জাক রানা : পদ্মা সেতুর কাজ চলমান অবস্থায়ই খুলনাঞ্চলে শিল্প-কারখানা নির্মাণের ধুম পড়েছে।
আবাসন প্রকল্পসহ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে এরই মধ্যেই অনেক উদ্যোক্তা এখানে আগেভাগে জমি কিনতে শুরু করেছেন।
শিল্প কল-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার ঘটলে রূপসা সেতুর ওপরও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাবে। যে কারণে সেতুটির পথচারী ও অযান্ত্রিক যানবাহনের জন্য বিশেষ লেনের অযান্ত্রিক যানবাহনের লেন তুলে দেয়া হতে পারে। একই সঙ্গে সেতুর মাঝ দিয়ে একটি ডিভাইডার তৈরি করা হতে পারে। 
রূপসা সেতু পরিচালনাকারী ও টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠান জিএসআইসি-এসইএল জেভি-এর সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার তৌফিক আহমেদ রনি বলেন, সেতু ও তার দুই পাশ মিলে সর্বমোট ১৩শ’ ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য। খুলনা শহরের রূপসা থেকে ব্রিজের দূরত্ব ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার। এই সেতুকে খুলনা শহরের প্রবেশদ্বার বলা হয়। কারণ এই সেতু খুলনার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর বিশেষত মংলা সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এই সেতুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো-দুই প্রান্তে দু’টি করে মোট চারটি সিঁড়ি রয়েছে, যার সাহায্যে মূল সেতুতে ওঠা যায়। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেতুটি পরিদর্শন করতে আসেন।
গভীর রাত পর্যন্ত অনেক দর্শনার্থী সেতুর দুই পাড়ে আড্ডা দেন। পুলিশের পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী থাকায় দর্শনার্থীদের কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না।
তিনি মনে করেন, রূপসা সেতুকে কেন্দ্র করে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে। যেখানে ওয়াইফাই জোন থাকলে তরুণ প্রজন্ম রাজশাহীর পদ্মা পাড়ের মতো এখানেও বিনোদনের সঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারতো।
রূপসা সেতুতে টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠান জিএসআইসি-এসইএল জেভি-এর প্রোজেক্ট ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলেই বদলে যাবে রূপসা সেতু। এসময় যশোর, সাতক্ষীরা, বেনাপোলসহ আশপাশের জেলার পরিবহনগুলো এ সেতু হয়ে রাজধানীতে যাবে। তখন যানজট এড়াতে সেতুর পূর্ব পাড়ের মতো পশ্চিম পাড়েও টোলঘর নির্মাণ করতে হবে।
তিনি জানান, বড় বড় সেতুর দুই পাশে টোল আদায়ের জন্য টোল ঘর রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সেতুর পূর্ব পাশে টোল আদায়ের আটটি লেন রয়েছে। যার মধ্যে চারটি ব্যবহার করা হয়। তবে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে পশ্চিম পাড়ে আরো আটটি টোল আদায়ের লেন হতে পারে বলে জানান তিনি।
মূল সেতুর দুই পাড়ে সংযোগ সড়কের সংস্কার সম্পর্কে প্রজেক্ট ম্যানেজার বলেন, কুদির বটতলা থেকে জিরো পয়েন্ট এই ১০ কিলোমিটারের সংস্কার কাজ রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে অচিরেই শুরু করা হবে।
এদিকে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে উঠেছে সোডিয়াম বাতি। আলোর রোশনাইয়ে জ্বল জ্বল করছে চারপাশ। মোহনীয় এক পরিবেশ আচ্ছন্ন করে রেখেছে। শহুরে ব্যস্ততার ঘেরাটোপ পেরিয়ে এ যেন অনন্য এক সৌন্দর্যপুরী। সৌন্দর্য সম্ভার বুকে নিয়ে ঐশ্বর্যময়ী রূপসা নদী। তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা খানজাহান আলী (র.) সেতুর (রূপসা সেতু) রাতের চিত্র এটি।
সেতুটির নাম খানজাহান আলী সেতু হলেও রূপসা সেতু হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত। সেতুটির মাঝে দাঁড়ালেই মনে হবে যেন, রূপসার বুকে অসংখ্য তারা জ্বল জ্বল করে জ্বলছে। আসলে তা নয়, বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছে সেতুতে। যাতায়াত করছে দ্রুতগামী যানবাহন।
সন্ধ্যায় রূপসা সেতুতে দাঁড়ালে এই মনোরম দৃশ্য যেকোনো পর্যটককে আকর্ষণ করবে।
বিশেষ করে বাতাসে প্রচন্ড গতিতে রূপসা নদীর ঢেউগুলো যখন দুই পাড়ে আছড়ে পড়ে, তখনকার সে দৃশ্য যে কারও মন কাড়বে। যার কারণে নির্মল বায়ু সেবনের আমেজে নানা বয়সী মানুষ প্রতিদিন আড্ডায় মেতে ওঠেন এখানে।
খুলনা শহরের রূপসা থেকে ব্রিজের দূরত্ব ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার। এই সেতুকে খুলনা শহরের প্রবেশদ্বার বলা যায়। কারণ, সেতুটি খুলনার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর বিশেষত মংলা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করেছে। সেতুটিতে পথচারী ও অযান্ত্রিক যানবাহনের জন্য বিশেষ লেন রয়েছে।
বর্তমানে সেতুটি খুলনার একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। রাতে সেতুর ওপর থেকে খুলনা শহরকে অপূর্ব সুন্দর বলে মনে হয়।
সেতুর দুই পাশে নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। সবচেয়ে বেশি ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি আর চানাচুরের দোকান।
স্ত্রী ও এক মেয়ে নিয়ে সেতুতে বেড়াতে এসেছেন আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সেতুটি দেখতে সত্যিই অসাধারণ। সন্ধ্যার পর সোডিয়াম বাতি জ্বলার পর রাতের আকাশ অন্য রকম মনে হয়। নদীর পাড়ে বিশুদ্ধ বাতাস টানতেই পরিবার নিয়ে এখানে এসেছি।
নদী, প্রাকৃতিক বাতাস, এতো মানুষ সব মিলিয়ে অন্য রকম পরিবেশ, যেন অচেনা কোনো স্থান। কথা হয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তৌহিদুর রহমান ও তার বন্ধুদের সঙ্গে। তারা সবাই প্রায় অভিন্ন কণ্ঠে বলেন, খুলনায় তেমন কোনো বিনোদনের স্থান না থাকায় তারা প্রায়ই সেতুতে আড্ডা দেন। এখানে না এলে তাদের আড্ডা যেন পূর্ণতা পায় না।
রূপসা সেতুতে টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠান জিএসআইসি-এসইএল জেভি-এর সিস্টেম প্রকৌশলী তৌফিক আহমেদ রনি বলেন, ঐশ্বর্যময়ী রূপসা নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা খানজাহান আলী (র.) সেতুর (রূপসা সেতু) রাতের চিত্র যে কারও মন কাড়ে। তাই তো বিকেল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত নানা শ্রেণীর মানুষ নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে এ সেতুতে আসেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ