ঢাকা, রোববার 24 June 2018, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হেরে যাওয়ার ভয়ে আ’লীগ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করতে পারে

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসা করানোর দাবিতে যুব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ -সংগ্রাম

# খালেদা জিয়া অবশ্যই মুক্তি পাবেন
স্টাফ রিপোর্টার : হেরে যাওয়ার ভয়ে আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করতে পারে মন্তব্য করে নেতাকর্মীদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারাতে চাইবে না। কারণ তারা যে অন্যায় করেছে সবকিছু ধরা পড়ে যাবে। সে ভয়ে তারা নির্বাচন বানচাল করতে পারে। তাই আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের অবস্থা দেখে বাকী সিটিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। 
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সরকারের নোংরা রাজনীতি বন্ধের দাবিতে যুব সমাজে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন. আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর টিকে আছে। এই দলই স্বাধীনতার পর একটি সুন্দর সংবিধান দিয়েছিলো। আবার সে দলই ২ বছর পর বাকশালী শাসন চালু করে। সেদিন থেকেই দেশে রাজনৈতিক দুর্যোগ শুরু হয়। গণতন্ত্রের দুর্যোগ শুরু হয়। এই দলের কোনো নেতা স্বীকার করে না যে তারা পঁচাত্তর সালে একদলীয় শাসন চালু করেছিলো। তারা ভুল স্বীকারও করে না। আজকে আবারও ১০ বছর একদলীয় শাসন তারা চালিয়ে যাচ্ছে। এই দেশে কখন গণতন্ত্র চালু হবে মানুষ জানে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোন মুখে বলে যে আজকে গণতন্ত্র সুরক্ষিত? আজকে দেশে গণতন্ত্র ভুলুণ্ঠিত।
তিনি বলেন, প্রতিরোধের সময় এসেছে। এই সময় আরও ঘনিয়ে আসছে। জুন মাস পার হয়ে যাচ্ছে। ডিসেম্বর মাস বাদ দিয়ে দেন। মাঝখানে থাকে আর মাত্র চার মাস। সুতরাং সময় এসেছে এখন প্রতিরোধ গড়ে তোলার। অন্যায়-অবিচার, অত্যাচার, নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা- এগুলো রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রতিরোদের জন্য যথেষ্ট শক্তি সঞ্চয় করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এই প্রত্যেকটা শ্রেণির মানুষের মধ্যে ঐক্য আনতে হবে। আমরা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সে জন্য এই আন্দোলন। কোনো বিশেষ দলকে ক্ষমতায় নিয়ে যেতে এই আন্দোলন নয়।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অবশ্যই মুক্তি পাবেন। তাকে নিয়েই আমরা নির্বাচন করবো। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে। তার জন্য আমাদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চাই। যে কারণে, যে চেতনায় বাংলাদেশের জন্য আমরা যুদ্ধ করেছিলাম সেটা ফিরে পেতে চাই। পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সেই জন্যই আজকের আন্দোলন।
রাজনৈতিক কারণেই খালেদা জিয়ার কারাবাস- এমন দাবি করে সরকারের উদ্দেশে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, কতভাবে কৌশল করবেন, কতভাবে বিলম্বিত করবেন, জামিন তো তার হবেই এবং তিনি মুক্ত হয়ে আসবেন এবং তাকে নিয়েই আমরা নির্বাচন করবো।
গাজীপুর নির্বাচন নিয়ে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, গাজীপুর নির্বাচনে বিএনপির অসম্ভব জনসমর্থন রয়েছে। এই নির্বাচন হলো সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য টেস্ট। যদি খুলনা স্টাইলে নির্বাচন করা হয় তার পরিণতি হবে ভয়ংকর। গাজীপুর নির্বাচনের পর আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিব যে বাকি ৩টি সিটি নির্বাচনে আমরা অংশ নেব কিনা।
মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা নমিনেশন দেবো, সবকিছুই করছি আমরা, কারণ আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। কিন্তু গাজীপুরের নির্বাচনের ওপর নির্ভর করবে আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
মওদুদ আরও বলেন, যখন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়ার রাজনৈতিক মুহূর্ত আসবে গণতন্ত্র আসবে কি? আসবে না? তখন হেরে যাওয়ার ভয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করতে পারে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তারা ক্ষমতা হারাতে চাইবে না। মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।
আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে যুব সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ