ঢাকা, রোববার 24 June 2018, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ধানের শীষের পরিচালনা কমিটির সদস্যদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গ্রেফতারকৃতদের তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ কোনো মামলা ছাড়াই তাদেরকে সাদা পোশাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে এবং খোঁজও দিচ্ছে না তাদের যে আটক করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তালিকা তুলে ধরেন দলের বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গ্রেফতারকৃত সদস্যরা হলেন- কাশিমপুর অঞ্চলে সদস্য সচিব শাহিন, সদস্য শাহজাহান ডিলার, কোনাবাড়ির আহ্বায়ক ড. মিলন, সদস্য তাইজুল ইসলাম, ৩০ নং ওয়ার্ডের বালিয়ারার সদস্য আব্দুস সামাদ, কাউলতিয়া অঞ্চলের সদস্য শাহ আলম, টঙ্গির মরকুন টেকপাড়ার যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সায়েম, ৩৬ নং ওয়ার্ডে গাছা অঞ্চলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক, ৪০ ওয়ার্ডে পূবাইল ইছালির সদস্য আব্দুস সামাদ, পূর্বাইলের সদস্য কাজিমউদ্দিন, ৩৫ নং ওয়ার্ডের সানওয়ে মডেল স্কুল কেন্দ্রের কাওসার জোসেন ও ২২ নং ওয়ার্ডে শাহাব উদ্দিন।
রিজভী বলেন, পুলিশ প্রতিরাতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতাদের গ্রেফতারের জন্য বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে। গত রাতে (শুক্রবার) গোয়েন্দা পুলিশ স্থানীয় বিএনপির কাওয়ার হোসেন, গাছা অঞ্চলের ৩৫ ওয়ার্ডের ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদককে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানাও নেই। নেতা-কর্মীর বাসা-বাড়িতে পুলিশ তল্লাসির নামে পরিবারের সদস্যদের গালাগাল, ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ উদ্যোগে এইসব তল্লাশি চালাচ্ছে, গ্রেফতার করছে বলে আমাদেরকে নেতারা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গাজীপুরে একতরফা নির্বাচন করতে পুলিশ গোটা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন একেবারেই নীরব, নিথর, নিশ্চল, চুপ হয়ে বসে আছে। বিএনপির পক্ষ থেকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের এই চক্রের হীন অনাচারমূলক কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী।
রিজভী বলেন, এসব বিষয় প্রতিকার চেয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানানো হলে পুলিশ অভিযান-হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ডের যে কথা আমরা বলছি এটা এখন দূরের তারা। এই কমিশনের অধীনে কোনো এলাকায় নির্বাচনী মাঠ সমতল হওয়া সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছে তাও কমিশন ‘চোখে দেখছে না’ বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।
রিজভী বলেন, কাশিমপুর ও কোনাবাড়িসহ সকল অঞ্চলে ২০ দলীয় জোটের সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাসা-বাড়িতে পুলিশ প্রতিদিনই হানা দিচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী-সমর্থকদের তালিকা ধরে টার্গেট গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। এতে নেতাকর্মীরা ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পুলিশ নেতাকর্মীদের বাড়ির গেট ও দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে গ্রেফতার করছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোন গ্রেফতারী পরোয়ানা নাই। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনৈতিক মিথ্যা অভিযোগে মামলার আসামী হলেও বর্তমানে জামিনে আছে। নির্বচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানানোর পরও পুলিশের গ্রেফতার অভিযান এখনো অব্যাহত আছে।
ভোটারদের আস্থা অর্জনসহ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুণ। গণভবনে আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আমি মনে করি এতদিনে যথার্থই উপলব্ধি করেছেন যে, তার এবং সরকারের প্রতি ভোটারদের আস্থা নেই। লুটপাট, দখল, ডাকাতি, ব্যাংকের টাকা তসরুপ, খুন, জখম, বেআইনী হত্যা, গুম, সন্ত্রাসীদের লালন পালন, ভোট জালিয়াতী এবং একের পর এক ভোটারবিহীন নির্বাচন করাতে ভোটারদের আস্থা শূন্যের কোঠায় চলে গিয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর আর একটু উপলব্ধি করতে পারলে দেশের গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক হবে। সেটি হলো, নিজের ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। তাহলেই কেবলমাত্র কিছুটা ভোটারের আস্থা ফিতে আসতে পারে। শেখ হাসিনা ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখলে কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার বিএনপির মতো নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী নয়। দলের কর্মীদের একথা মাথায় রাখতে হবে’। এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী অকপটে সত্য কথাই বলেছেন। অবশ্যই বিএনপি‘র মতো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে না আওয়ামী লীগ। বিএনপি বহুদলীয় বিশ্বাস করে, আওয়ামী লীগ একদলীয় বাকশালে বিশ্বাস করে। বিএনপি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেয়, আওয়ামী লীগ ফেনী মার্কা নির্বাচন, হাজারী মার্কা নির্বাচন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে বিশ্বাস করে। বিএনপি বহুদল ভিত্তিক মতান্তরে বিশ্বাস করে, আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধ মতের লোকদের গুম করে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে অকুতোভয় উচ্চারিত কুৎসীত, অসংযোমী বাক্যবিলাশে লিপ্ত আর বিএনপি সৌজন্যবোধ ও হিতাহীত জ্ঞানসম্পন্ন বক্তব্য বিবৃতি প্রদান করে। আওয়ামী নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের ভোট কারচুপির সীলমোহর বানায়, বিএনপি কমিশনের স্বাধীন সত্ত্বা কখনোই ক্ষুণœ করেনি। গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রধান শর্ত আলোচনা ও সংলাপ- যা আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে না। বিএনপি সমঝোতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অব্যাহত রাখায় বিশ্বাসী। আওয়ামী নেতারা শোনে কম, বলে বেশী। বিএনপি নেতারা বলে কম, শোনে বেশী। আওয়ামী নেত্রী ক্ষমতায় চিরস্থায়ী থাকার গ্যারান্টি হিসেবে পার্শ্ববর্তী দেশকে নিজে দেশের সার্বভৌমত্ব দুর্বল করে অনেক কিছু উজাড় করে দিয়েছেন আর বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার জন্য জনগণের ওপর নির্ভর করে। সুতরাং বিএনপি’র প্রক্রিয়া আর আওয়ামী লীগের প্রক্রিয়া এক নয়। আমার মনে হয় উল্লিখিত কথাগুলো জনগণের মাথায় খুব ভালভাবেই গেঁথে আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ