ঢাকা, রোববার 24 June 2018, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সাথে প্রস্তাবিত বাজেটের কর কাঠামোর মিল নেই

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে তামাক ব্যবহার ৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দিলেও প্রস্তাবিত  বাজেটের কর কাঠামো দেখে তাদের ভিশনের সঙ্গে কোনও মিল পাচ্ছেন না অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, প্রতিবারই আমরা দেখছি যেভাবে চলে আসছিল সেভাবেই চলছে, কোনও পরিবর্তন নাই। পরিবর্তন না আনলে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। আমরা চেষ্টা করে যাবো তবে আশাহত হওয়ার কিছু নেই।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রজ্ঞা ও এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স আত্মার আয়োজিত তামাকজাত পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত কর বিষয়ক বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যপক ড. কাজী খালিকুজ্জামান বলেন, তামাক রপ্তানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক যেন এবারের বাজেটেই পুনর্বহাল করা হয়। আমরা আজকে এখানে সব প্রতিষ্ঠান এক হয়েছি। আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো। প্রতিবারই আমরা দেখছি যেভাবে চলে আসছিল সেভাবেই চলছে, কোনও পরিবর্তন নাই। পরিবর্তন না আনলে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। আমরা চেষ্টা করে যাবো তবে আশাহত হওয়ার কিছু নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ২০৪০ এর মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার শুণ্যের কোঠায় না হলেও অন্তত ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। আমরা দেখেছি অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন ২০৪০ সালের মধ্যে বিড়ি শিল্প বন্ধ করে দেয়ার কথা। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটের কর কাঠামো দেখে তাদের ভিশনের সঙ্গে কোনও মিল পাওয়া যাচ্ছে না। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তামাকের ওপর এমনভাবে কর বাড়াতে হবে যাতে ব্যবহারকারী নিরুৎসাহিত হয়।
ডাক্তারদের তামাকবিরোধী সংগঠন উফাত (ইউনাইটেড ফোরাম এগেইনস্ট টোবাক্যো) এর সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগী অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও আমরা আশা করেছিলাম বাজেটে ভালো কিছু দেখতে পাবো। অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন বিড়ি শিল্প বন্ধ করে দিবেন। কিন্তু তার বাজেট বক্তৃতায় জানতে পারলাম তিনি সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটছেন। সরকার যদি কোনও ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে তাহলে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে যে আমরা চিন্তিত হই তাতে লাভ কি?
আত্মার সহ-আহ্বায়ক ও এটিএন বাংলার প্রধান প্রতিবেদক নাদিরা কিরণ বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য আমাদের প্রস্তাব ছিল সিগারেটের কর নির্ধারণ প্রক্রিয়া সহজতর এবং যুগোপযোগী করা। বিদ্যমান বহুস্তরভিত্তিক অ্যাড ভ্যালরেম পদ্ধতির পরিবর্তে সিগারেটের ক্ষেত্রে দুটি মূল্যস্তর প্রচলন এবং অ্যাড ভ্যালরেম পদ্ধতির পাশাপাশি সম্পূরক শুল্কের একটি অংশ সুনির্দিষ্ট কর আকারে আরোপ করা। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এর কোনও প্রতিফলন ঘটেনি। অর্থাৎ সিগারেটের কর কাঠামোয় বিন্দু মাত্র সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে নানা ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বললেও বাজেট প্রস্তাবনায় তার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন নেই। সিগারেটের মূল্যস্তর কমানোর কথা তিনি বলেছেন অথচ উচ্চস্তরে দুটি বিভাজনসহ সিগারেটে মোট চারটি স্তর বহাল রয়েছে। বিড়ির ব্যবহার হ্রাসেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তামাকের কাঠামো আধুনিকায়নে নেই কোনও পদক্ষেপ। সার্বিকভাবে এবারের প্রস্তাবিত বাজেট তামাক বিরোধীদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আব্দুল মালিক বলেন, মাদকের চেয়েও বেশি খারাপ তামাক। এই তামাক মানব দেহে বহু রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। টেকসই উন্নয়ন ধরে রাখতে হলে মানুষকে সুস্থ রাখতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ