ঢাকা, রোববার 24 June 2018, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট প্রকট ॥ আবাসিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকরা চরম দুর্বিপাকে

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের অভাবে আবাসিক গ্রাহক, শিল্প খাতের গ্রাহকরা চরম দুর্দশার শিকার হচ্ছেন। কেজিডিসিএল বলছে, বাখরাবাদ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গ্যাসের সঞ্চালন লাইনে পিগিং (পরিষ্কার) কার্যক্রম চলার কারণে চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি চাহিদা থাকলেও সরবরাহ নেমেছে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে। গ্যাস না থাকায় গত কয়েকদিন বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্প-কারখানায় মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ না পাওয়ার কারণে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও দুটি সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহও বন্ধ রেখেছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিঃ (কেজিডিসিএল)।
 এদিকে গ্যাসের জাতীয় গ্রিড নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা জিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, জিটিসিএল বাখরাবাদ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ২৪ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের ১৭৫ কিলোমিটার হাইপ্রেসার পাইপ লাইনে স্ট্রিম পিগিং কাজ হাতে নেয়। পাইপ লাইনে প্রবাহিত কনডেনসেট, সাজ, কার্বনসহ নানা উপজাত দীর্ঘদিন ধরে জমে গ্যাস সঞ্চালনের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। গ্যাসের সঞ্চালন লাইনের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রতি ৫-৬ বছর পর পর গ্যাসের পাইপ লাইনে পিগিং (পাইপ শূন্যতা বা পরিষ্কার) করতে হয়। ঈদের ছুটির পরপরই গত কয়েকদিন ধরে পাইপ লাইনে পিগিং চলার কারণে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ চাহিদার ২০ শতাংশে নেমে আসে। এতে করে চট্টগ্রাম গ্যাসের মারাত্মক সংকট দেখা দেয়।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিঃ (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্পখাত মিলিয়ে চট্টগ্রাম গ্যাসের গ্রাহক রয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার। তন্মধ্যে আবাসিক ৫ লাখ ৭৫ হাজারের অধিক। চট্টগ্রামে প্রতিদিন চাহিদা থাকে ৪৮০-৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী গত ২১ জুন ১০০ দশমিক নয় মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস কর্তৃপক্ষ। ১৯ জুন পেয়েছিল ৯৬ দশমিক চার মিলিয়ন ঘনফুট। এমনিতে চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকট চলছে। এতে এলএনজি আমদানি করে গ্যাসের সংকট কাটানোর পদক্ষেপ নেয়া হলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে এলএনজি সরবরাহ প্রক্রিয়া। আমদানি করা এলএনজি জাহাজ থেকে গত এক মাস ধরে সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ দেয়া সম্ভব না হওয়ায় চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট এখনো কাটেনি।
এদিকে গ্যাসের অভাবে ঈদের পরদিন থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর গ্যাস নির্ভর অনেক বাসা বাড়ীতে  রান্না করা যাচ্ছে না। রেস্তোরাঁ এবং খাবারের দোকানগুলোতেও খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে শিশু, বয়স্ক নারী-পুরুষ, ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন। গত কয়েকদিন চট্টগ্রাম মহানগরীর জামাল খান, মোমিন রোড, চকবাজার, দেওয়ান বাজার, চান্দগাঁও, মুরাদপুর, হামজারবাগ, আতুরার ডিপো, অক্সিজেন, নাসিরাবাদ, বহদ্দার হাট, কাতালগঞ্জ, বাদুরতলা, সল্টগোলা, বন্দরটিলা, হালিশহর, মাদারবাড়ি, আগ্রাবাদ, নালাপাড়া, আশকারদীঘি, হেমসেন লেন, লাভ লেন, এনায়েত বাজার, আন্দরকিল্লা, ফিরিংগীবাজার, পাথরঘাটা, রহমতগঞ্জ, ঘাটফরহাদবেগ, মোগলটুলি, কদমতলী, পাহাড়তলী, খুলশী, আমবাগান ও লালখানবাজার এলাকায় লাইনে গ্যাসের চাপ ছিল না।
আবাসিক গ্রাহকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সমস্যা চলছে। তবে গত তিন-চার দিন থেকে লাইনে গ্যাসের চাপ একেবারে কমে গেছে। যে কারণে রান্নাবান্নায় বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। 
ফিরিংগীবাজার এলাকার বাসিন্দা মিসেস আনোয়ারা বেগম জানান, সকাল থেকে গ্যাস নেই।এখন বাজে একটা। বাসার দারওয়ানকে পাঠিয়েছি লাকড়ী আনতে। মাটির চুলায় রান্না করতে হবে। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
এদিকে বিরাজমান গ্যাস সংকট হেতু শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে রাউজান তাপ বিদ্যুৎ ও শিকলবাহা কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ফলে সার্বিক নাগরিক জীবনে এক অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। চট্টগ্রামে বছরের পর বছর চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাস সরবরাহের কারণে শিল্পায়ন বন্ধ রয়েছে। চলমান শিল্প কারখানাগুলোর অবস্থাও নাজুক। রেশনিং এর মাধ্যমে কেজিডিসিএল কোন প্রকারে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আসছিল। এ অবস্থায় হঠাৎ করে গ্যাসের সরবরাহ অত্যধিক কমে যাওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম মহানগরের আবাসিক এবং শিল্পসহ সর্বক্ষেত্রে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ